রাসেল ভাইপারের আতঙ্কে শ্রমিক পায়নি কৃষক আলম, বাঘায় পদ্মার চরে তলিয়ে গেছে ১০ বিঘা জমির বাদাম

আপডেট: জুলাই ৫, ২০২৪, ৭:৪৩ অপরাহ্ণ

রাসেল ভাইপারের আতঙ্কে শ্রমিক পায়নি কৃষক আলম, বাঘায় পদ্মার চরে তলিয়ে গেছে ১০ বিঘা জমির বাদাম

বাঘা প্রতিনিধি:


রাজশাহীর বাঘা উপজেলার মধ্যে চকরাজাপুর ইউনিয়নের পদ্মার চরে রাসেলস ভাইপারে ছোবল খাওয়া আলম বিশ্বাস। রাসেলস ভাইপরের আতংকে শ্রমিক না পেয়ে তার পদ্মার পানিতে তলিয়ে গেছে ১০ বিঘা জমির বাদাম খেত। আলম বিশ্বাস কালিদাসখালী চরের মৃত কমর আলী বিশ্বাসের ছেলে।
জানা গেছে, ২০২৩ সালের ৪ জুলাই মানিকের চরে রোপন করা বাদাস তুলতে গিয়ে রাসেলস ভাইপার সাপে কামড় দেয় আলম বিশ্বাসকে। কামড় দেওয়া সেই সাপসহ তাকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে ১৫ দিন চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরে। সাপে ছোবল দেওয়া তার বাম হাতের কনিষ্ঠা (কনুই আঙ্গুল) আঙ্গুলটি সাপের ফনার মতো দেখা যাচ্ছে।

ওই সময় তার আঙ্গুলে কামড় দেওয়া স্থানে পচন ধরে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুয়ায়ী ওষুধ খেয়ে ভাল হয়। কিন্তু এক বছর পার হলেও সেই স্থানে ব্যাথা ও যন্ত্রনা হয়। এ হাত দিয়ে ভারি কোন কাজ করতে পারে না। তার অভাবী সংসার দুই ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে।
কিন্তু সংসারের অভাব দেখে বড় ছেলে জাহাঙ্গীর হোসেন বিশ্বাস ও ছোট ছেলে সাগর আলী বিশ্বাস বাবা মাকে ফেলে ঢাকায় চলে যান। এরপর সে নিশ্ব হয়ে পড়ে।

বাবার সংসারের অভাব দেখে মেয়ে সাথী আক্তার অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করে ঢাকায় গার্মেন্সে চাকরি নেয়। মেয়ের যা আয় হয়, সেই টাকা দিয়ে কোন মতে সংসার পরিচালনা করতো। এরমধ্যে আরিফুল ইসলাম নামের এক ছেলেকে বিয়ে করে। ছোট মেয়ে বিথি খাতুনকে গ্রামে আতিক মোল্লা নামের এক ছেলের সাথে বিয়ে দিয়েছেন।
বড় মেয়ে ভিসা করে জর্ডানে এবং জামাই ৬ মাস আগে সৌদি আরবে গেছেন। তাদের দেওয়া টাকা দিয়ে গরু কিনে পালন করে। এর সাথে জমি লিজ নিয়ে বিভিন্ন ফসলের চাষ করে।

ওই সময় সাপে কামড় দেওয়ার পর যতোটুকু জমি ছিল তা বিক্রি করে চিকিৎসা করে আলম বিশ্বাস। বর্তমানে লিজ নিয়ে ১৭ বিঘা জমিতে বাদামের আবাদ করে। এরমধ্যে ৭ বিঘা জমির বাদাম উঠাতে পারলেও বাঁকি জমির বাদাম উঠাতে পারেনি। রাসেলস ভাইপারের আতংকে নিজেও জমিতে যাননি এবং শ্রমিকও পাওয়া যায়নি। এরমধ্যে নতুন পানি আসায় ১০ বিঘা জমির বাদাম পদ্মার পানিতে তলিয়ে গেছে।
এরমধ্যে আলম বিশ্বাসের স্ত্রী নাওজান বেগম স্টোক করে। তাদের উভয়ের প্রতি মাসে চিকিৎসা খরচ লাগে ৪ হাজার টাকা। এ নিয়েও তারা চিন্তায় আছে।

এদিকে শাকিল হোসেন ১ জুলাই মানিকের চরে বাদাম উঠানোর কাজে গিয়ে রাসেলস ভাইপার তার হাতে ছোবল দেয়। সে ভীতু না হয়ে ওই রাসেলস ভাইপার ধরে বস্তায় বন্দি করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। ২১ জুন পলাশি ফতেপুরচরের জনি আহমেদ পদ্মা থেকে জাল তুলে বাড়ি ফেরার পথে একটি রাসেলস ভাইপারকে পিটিয়ে মারে। ২ জুলাই কালিদাসকালী চরের দুল জান বেওয়ার শয়ন ঘরে একটি রাসেলস ভাইপার সাপ দেখতে পেয়ে তার নাতী সেলিমকে সাথে নিয়ে মারা হয়।

দাদপুর চরের আবদুল মান্নান ৩ জুলাই বাড়ির পাশে একটি, ২৭ জুন চৌমিাদিয়া চরের কামাল হোসেনের বাড়ি পাশে, চরকালিদাসখালী চরের সহিদুল মোল্লার বাদাম খেতে এবং পশ্চিম কালিদাসখালী চরের মিজানুর রহমান বাড়ির পাশে একটি করে রাসেল ভাইপারটি মেরেছেন বলে জানা গেছে। এই রাসেলস ভাইপার নিয়ে পুরো চরে আতংক বিরাজ করছে।

এ বিষয়ে আলম বিশ্বাস বলেন, রাসেলস ভাইপারে কামড় দেওয়ার পর ডাক্তার ও বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা করিয়ে ৩ লক্ষ টাকা খরচ হয়। এরপর আমি নিশ্ব হয়ে যায়। আমার নিস্বর অবস্থা দেখেও ছেলেরা ফেলে চলে গেছে। বর্তমানে মেয়েদের সহায়তায় সংসার চলচিল। আগের ঋণ পরিশোধ করে মেয়ের কাছে থেকে টাকা নিয়ে ১৭ বিঘা জমিতে বাদামের চাষ করেছিলাম। কিন্তু রাসেলস ভাইপারের ভয়ে শ্রমিক না পাওয়ায় বাদাম উঠাতে পারি নাই। এরমধ্যে পদ্মায় নতুন পানি আসায় ১০ বিঘা জমির বাদাম তলিয়ে গেছে। ফলে তিন লক্ষ টাকা ঋণ পড়েছি।

চকরাজাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বাবলু দেওয়ান বলেন, পদ্মায় নতুন পানি আসার সাথে সাথে সাপের আশ্রয়গুলো ডুবে গেছে। সাপ উচু স্থান বেছে নেয়ার চেষ্টা করছে। ফলে, সাপের উপদ্রব কিছুটা বেড়েছে। তবে, সাপের উপদ্রব এড়াতে চরের লোকজনকে সাবধানে থাকার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ