রাসেল ভাইপার আতঙ্কে দেশ!

আপডেট: জুন ২৮, ২০২৪, ১২:১০ পূর্বাহ্ণ

করণীয় সম্পর্কে উদ্বুদ্ধ করার কাজটি হচ্ছে না


দেশব্যাপি এক আতঙ্কের নাম ‘রাসেল ভাইপার’ বা ‘চন্দ্রবোড়া’ সাপ। সংবাদ মাধ্যমের তথ্যমতে দেশের ২৮টি জেলায় এই রাসেল ভাইপারের অস্তিত্ব মিলেছে। সবচেয়ে বেশি মিলছে পদ্মা অববাহিকার জেলাগুলোতে। ইতোমধ্যেই কিছু মানুষের মৃত্যুর কারণও এই সাপটি। মারাত্মক এই বিষাক্ত সাপটির দংশনে ওই মানুষেরা মারা গেছে। যদিও রাসেল ভাইপার নেহাতই শান্ত স্বভাবের সাপ। এই সাপ কাউকে তেড়ে কামড়ায় না।

বাধ্য হয়ে জীবন রক্ষার্থেই সে মানুষকে কামড় দেয়। কিন্তু সাপ তো সাপই! সাপ বিষাক্ত কিংবা নির্বিষ যা-ই হোক না কেন- সে সব সময়ই মানুষের জন্য ভয় ও আতঙ্কের কারণ। মানুষও এই ভয় ও আতঙ্কের কারণে সাপের প্রতি মারমুখি, শত্র-ভাবাপন্ন। তারই বহিঃপ্রকাশ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সোনার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী ১৮ দিনে পদ্মাতীরবর্তী রাজশাহী অঞ্চলের দুই জেলায় ৭১ টি রাসেলস ভাইপার সাপ হত্যার তথ্য উঠে এসেছে। তবে নির্বিাচার সাপ হত্যা জীববৈচিত্যের জন্য বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সাপ হত্যার ঘটনায় সোনার দেশ পত্রিকার পর্যবেক্ষণ মতে, কেউ অতি উৎসাহী হয়ে আবার কেউ আতঙ্কিত হয়ে সাপ হত্যা করেছে। সাপ হত্যার পর কেউ আবার বীরত্ব প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্টও দিয়েছে। অথচ বাণ্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী রাসেলস ভাইপার সংরক্ষিত প্রজাতির সাপ। সাপ হত্যা দণ্ডনীয় অপরাধ। তবে রাজশাহী অঞ্চলে সাপ হত্যার ঘটনায় এখন পর্যন্ত এ আইনের প্রয়োগ লক্ষ্য করা যায়নি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জীব-বৈচিত্র্য রক্ষায় সাপের ভূমিকা অপরিসীম। বস্তুত সাপ প্রকৃতির বন্ধু এবং প্রাকৃতিক পরিবেশের অবিচ্ছেদ্য ও অত্যাবশ্যকীয় অংশ। বাস্তুতন্ত্রের শীর্ষস্থানীয় মাংসাশী প্রাণীদের মধ্যে সাপ অন্যতম। প্রকৃতির অংশ হিসাবে সাপ মেরে ফেললে এর প্রভাব পড়বে পুরো বাস্তুচক্রে। ফসলি খেতে সাপ মারলে ইঁদুরের প্রভাব বাড়বে। সাধারণত প্রতি বছরই ১০ থেকে ২০ শতাংশ ফসল ইঁদুর নষ্ট করে। ফলে নির্বিচারে সাপ মারলে ইঁদুরের সংখ্যা বাড়বে। উৎপাদন কমবে ফসলের। সাপ ব্যাঙ, ইঁদুরসহন্য ছোট প্রাণী খায়। বেজি, বাগডাশ, গন্ধগোকুল, বনবিড়াল সাপ খায়। আবার শঙ্খচূড়, গোখরা, কেউটে এই সাপগুলোও রাসেলস ভাইপারসহ অন্য সাপ খায়। প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষার জন্যই নির্বিচার সাপ নিধন বন্ধ হওয়া জরুরি।

কিন্তু সাধারণ মানুষের ভয় ও আতঙ্কের সুরাহা কী? তাদের করণীয়ই বা কী? এ প্রশ্নের সদার্থক উত্তর খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শুধু মৌখিকভাবে সাপ রক্ষার কথা বললেই হবে না। সাপকে প্রকৃতির অংশ করেই মানুষকে তার সুরক্ষার কৌশলগুলোতেও অভ্যস্ত করা দরকার। সাপ ও মানুষের সহাবস্থান তৈরির ক্ষেত্রে মানুষের করণীয় সম্পর্কে উদ্বুদ্ধ করার কাজটি হচ্ছে না। এর ফলে সাপও রক্ষা পাবে নাÑ সাপের কামড়ে মানুষের মৃত্যুও থামবে না।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ