রায়ঘাটি ইউপি নির্বাচনে প্রার্থী হতে চান আ’লীগের খলিল ও সুরঞ্জিত

আপডেট: সেপ্টেম্বর ২০, ২০২১, ১০:৪৫ অপরাহ্ণ

মোস্তফা কামাল, মোহনপুর


মোহনপুর উপজেলার রায়ঘাটী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তফশিল ঘোষণার আগাম সম্ভাবনায় মাঠে নেমেছেন আওয়ামীলীগের দুই প্রার্থী। এদের মধ্যে একজন হলেন ২০১৬ সালের নির্বাচনের আওয়ামীলীগ সমর্থিত নৌকা প্রতিকের প্রার্থী ছিলেন সুরঞ্জতির কুমার সরকার এবং আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান। এই দুই প্রার্থীর মধ্যে সুরঞ্জিত সরকার নির্যাতিত নেতা হিসেবে স্থানীয় নেতাকর্মিসহ ভোটার সমর্থকদের কাছে জনপ্রিয়তা এখনো ধরে রেখেছেন। তবে খলিলুর রহমান তার দায়িত্বকালিন উন্নয়নের মাধ্যমে উপজেলা পর্যায়ের কতিপয় নেতাকর্মিদের ভরসায় রাজনীতির মাঠে সক্রিয় রয়েছেন।

জানা গেছে, সুরঞ্জিত কুমার সরকার বংশ পরম্পরায় আওয়ামীলীগের সাথে দীর্ঘদিন যাবত সম্পৃক্ত রয়েছেন। স্থানীয় রাজনীতির পাশাপাশি তিনি ২০০১ সালে নওগাঁ জেলার নওগাঁ সরকারি ডিগ্রি কলেজের ছাত্র সংসদের সভাপতি নির্বাচিত হন। ২০০৫ সালে বিএনপি-জামায়াতের তা-বের প্রতিবাদে রাস্তা অবরোধে নেতৃত্ব দেয়ার কারণে সরকারি কাজে বাধাদান মামলার প্রধান আসামী হিসেবে কারাবাসে যান। ২০০৭ সালে সেনা শাসিত সরকার আমলে যৌথ বাহিনির হাতে গ্রেফতার হয়ে বিশেষ আটকাদেশে ১৪ মাস ১০দিন কারাভোগ করেন। ২০১৪ সালে বিএনপি ও জামাতের হামলায় তিনি গুরতর যখম হন। ক্ষতিগ্রস্ত হয় তার পরিবার। এজন্য রায়ঘাটী ইউনিয়ন আওয়ামীগের রাজনীতিতে তিনি একজন অপ্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামীলীগ নেতা হিসেবে পরিচিত। তিনি স্থানীয় নেতাকর্মি এবং ভোটার সমর্থকদের মাঝে জনপ্রিয় হলেও রাজনীতির যাতাকলে নিস্পেষিত হওয়ার কথা জানেন অনেকেই।

অন্যদিকে খলিলুর রহমান ২০১৬ সালের নির্বাচনের আগে ২০১৫ সালে ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি থেকে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। রাজনীতিতে জনপ্রিয়তা ও প্রভাব সৃষ্টির আগেই ২০১৬ সালের ৪ জুন রায়ঘাটী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিদ্রোহী হিসেবে ভোট দাঁড়ানোর জন্য অনেকটাই বিতর্কের মধ্যে পড়েন তিনি। তবে সে নির্বাচনে আওয়ামীলীগ দলীয় সমর্থন হারিয়ে তিনি অর্থের প্রভাবে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে ঘোড়া প্রতিক নিয়ে নির্বাচন করে বিজয় লাভ করেন। তিনি এখন পর্যন্ত স্থানীয় রাজনীতিতে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করতে না পারলেও উন্নয়ন কর্মকা-ে বিশেষ রাজনীতিক মহলের কাছে অনেকটাই জনপ্রিয়তায় রয়েছেন। এর আলোকে এবারের নির্বাচনের আগাম প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের নির্বাচনে রায়ঘাটী ইউনিয়নে ১১ হাজার ভোটারের বিপরীতে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন একাধিক দলের ৫জন প্রার্থী। তাদের মধ্যে আওয়ামীলীগ মনোনিত প্রার্থী সুরঞ্জিত কুমার সরকার পেয়েছিলেন প্রায় ১৮শো ভোট, আওয়ামীলীগ সমর্থন না পেয়ে বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে খলিলুর রহমান প্রায় ২৬শো ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছিলেন। এছাড়াও ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি ময়েন উদ্দিন পেয়েছিলেন প্রায় ৮শো ভোট। অন্যদিকে জামায়াত সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুল গোফুর মৃধা পেয়েছিলেন প্রায় ২ হাজার ভোট এবং বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী উজ্জল হোসেন পেয়েছিলেন প্রায় ১৮শো ভোট। ওই নির্বাচনে আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী খলিলুর রহমানের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী আবদুল গোফুর মৃধা।
স্থানীয়দের মধ্যে ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আয়েজ উদ্দিন বলেন, ২০১৬ সালের নির্বাচনে দলীয় মনোনিত প্রার্থীর উপর কিছুটা প্রভাব পড়েছিল। তবে আমি শেষ পর্যন্ত নৌকা প্রতিকের প্রার্থী সুরঞ্জিতের পাশেই ছিলাম। এবারের নির্বাচনে দল যাকে নৌকা প্রতিক দিবে আমি তারই পাশে থেকে সহযোগিতা করবো।

রায়ঘাটী ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি ডা. আক্কাস আলী বলেন, সুরঞ্জিত সরকার একজন নির্যাতিত ও নিপীড়িত রাজনীতিক হিসেবে নৌকা প্রতীকের মনোনিত প্রার্থী ছিলেন। এজন্য ২০১৬ সালের নির্বাচনে আমি তার পাশে ছিলাম। এবারের নির্বাচনে যাকে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হলে আমি তার ভোট করবো।
বর্তমানে জেলা আওয়ামীলীগের কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী সুরুঞ্জিত কুমার সরকার বলেন, আমি আওয়ামীলীগের দুর্দিনে মাঠে থেকেছি, মার খেয়েছি, জেল খেটেছি। আমি নির্যাতিত নেতা হিসেবে দলের উর্ধতন নেতৃবৃন্দ আমাকে নৌকা প্রতিকে মনোনয়ন দিলেও মোহনপুরের কতিপয় নেতার কারণে নির্বাচনে আমার পরাজয় ঘটে। মাঠ পর্যায়ের জনপ্রিয়তা যাচাই করলে আমার চেয়ে জনপ্রিয় প্রার্থী রায়ঘাটীতে নাই। এজন্য এবারের নির্বাচনেও আমি প্রার্থীতা দাবি করবো এবং আমি নৌকা প্রতিক পাবো বলে আশাবাদী। তিনি আরো বলেন, আমি নৌকা প্রতিক না পেলে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের প্রতিক হিসেবে নৌকা প্রতিক যাকে দেয়া হবে তার হয়ে কাজ করবো।

রায়ঘাটী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের আহ্বায়ক ও বর্তমান চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান বলেন, ২০১৬ সালের নির্বাচনে আমাকে আওয়ামীলীগ দলীয় মনোনয়ন নৌকা প্রতিক দেয়া হয়নি। ভোটারদের কাছে জনপ্রিয়তা ছিল হিসেবে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ঘোড়া প্রতিক নিয়ে ভোটে বিজয়ী হয়েছিলাম। পাঁচ বছরের দায়িত্ববস্থায় এলাকার যথেষ্ট উন্নয়ন করেছি। এজন্য গত নির্বাচনের মত ভুল না করে আমার উন্নয়ন কর্মকা- বিবেচনায় এবারের নির্বাচনে নৌকা প্রতিক পেলে আবারও বিজয়ী হব।

২০১৬ সালের নির্বাচনে রায়ঘাটী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি থেকে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে ভোট করেছিলেন কি এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোট করেছি তবে আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে না। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেই নির্বাচন অফিসে মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছিলাম।