রায়ঘাটী ইউপি নির্বাচনে বাবলুই ভরসা

আপডেট: অক্টোবর ২৭, ২০২১, ১০:২১ অপরাহ্ণ


মোস্তফা কামাল, মোহনপুর :


আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তৃতিয় ধাপে রায়ঘাটী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এবারের নির্বাচনে এই ইউনিয়নের জন্য ক্ষতাসিন দল বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের নৌকা প্রতিকের প্রার্থী মনোনীত হয়েছেন ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সদস্য বাবলু হোসেন। তিনি একজন উচ্চশিক্ষিত এবং জনকল্যানকর কাজের অগ্রদূত হিসেবেই স্থানীয়দের মাঝে চরম আশা সঞ্চার করেছেন। দলীয় নেতাকর্মিদের দাবী রায়ঘাটী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগ দক্ষ লোকের হাতেই নৌকা প্রতীক তুলে দিয়েছে। তার জনপ্রিয়তার সমকক্ষ প্রতিদ্বন্দ্বী নেই বলে ইউনিয়নবাসীর কাছে তিনিই যেন একমাত্র ভরসা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০১৬ সালের নির্বাচনে রায়ঘাটী ইউনিয়নে নৌকার প্রতীক পেয়েছিলেন সুরঞ্জিত কুমার সরকার। নির্বাচনী ভোটের ফলাফলে তিনি চতুর্থ স্থানে ছিলেন। দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন জামায়ত সমর্থিত প্রার্থী সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল গোফুর মৃধা। তৃতিয় স্থানে ছিলেন বিএনপি নেতা ময়েন উদ্দিন। সে নির্বাচনে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েছিলেন আওয়ামীলীগের সতন্ত্র প্রার্থী খলিলুর রহমান। নৌকা প্রতীকপ্রাপ্ত সুরঞ্জিত সরকার তিনি নিকটতম প্রতিদ্বন্দ¦ীয় হতেও পারেন নি। স্থানীয়রা জানিয়েছেন ২০২১ সালের নির্বাচনে স্থানীয় আওয়ামীলীগকে গতিশীল রাখতে এবং সচ্ছতার সঙ্গে উন্নয়ন কর্মকা- পরিচালনার জন্যই হয়তো বাবলুকে নৌকা প্রতীকে মনোনীত করেছে। চুড়ান্ত এ সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে সঠিক হয়েছে। এজন্য উপজেলা আওয়ামীলীগসহ সাংসদ আয়েন উদ্দিনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন অনেকেই।

রায়ঘাটী ইউনিয়ন ছাত্ররীগের সভাপতি আশিক কুমার জানিয়েছেন, এবারের নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ রায়ঘাটী ইউনিয়নবাসীর জন্য সর্বাধিক শিক্ষিত ও জনসমর্থিত ব্যক্তিকেই বেছে নিয়েছে। জামাত-বিএনপির আখড়া ভাঙতে বাবলুর মতোই শিক্ষিত যুবকদের মনোনয়ন দরকার। এখানে যে দলের যতই প্রার্থী আসুক না কেন বাবলুর চেয়ে সর্বাধিক ইমেজের প্রার্থী একজনও হবেনা। গত নির্বাচনে সুরঞ্জিতকে নৌকা প্রতীক দেয়াই দলের ভাবমূর্তি নস্ট হয়েছিল। এবার দল সেই ভুল আর করেনি।

রায়ঘাটী ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সেক্রেটারি আশরাফ আলী বলেন, সর্বস্তরের মানুষের একমাত্র ভরসা বাবলু ভাই। তিনি সর্বোচ্চ শিক্ষিত সমাজ গঠনে ইতোপুর্বে অশংখ্য ভূমিকা রেখেছেন। বাবলু হোসেন একজন চেনতাশীল মানুষ। তার বাবা এই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি বিগত ৪০ বছরের মধ্যে সর্বাধিক উন্নয়ন করেছেন। আমরা আশাবাদী বাবলুর মাধ্যমে ইউনিয়নের চলমান উন্নয়ন অব্যাহত থাকবে। গতবারে সুরঞ্জিত সরকারকে নৌকা প্রতীক দেয়ায় নৌকার সুনাম ক্ষুন্ন হয়েছিল। নৌকা নিয়ে তিনি হয়েছিলেন চার নম্বর। তৃতিয় ধাপের নির্বাচনে বাবলুকে নৌকা প্রতীকে মনোনীত করায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রিসহ আমাদের এমপি আয়েন উদ্দিন মহোদ্বয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। তারা যোগ্য প্রার্থীর হাতেই নৌকা প্রতীক তুলে দিয়েছেন। এজন্য আমরা নৌকার বিজয় নিশ্চিত করতে একাত্মতা প্রকাশ করছি।

জানতে চাইলে আওয়ামীলীগ দলীয় নৌকা প্রতীকে মনোনীত প্রার্থী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সদস্য বাবলু হোসেন বলেন, আমি একজন উচ্চ শিক্ষিত মানুষ। আমি রাজশাহী নিউ ডিগ্রিকলেজে পড়াশুনা করেছি। সেখানে লেখাপড়া করার সময় বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে আওয়ামীলীগকে ভাল বেসে ফেলি। বাবাকে বলতাম আমি লেখাপড়া করে চাকরি করবো রাজনীতি করবো। বাস্তবে যেন সেটায় ঘটে গেল। এমবিএ পড়াশুনা শেষ করতেই না করতেই নির্বাচন এলো। আমি নৌকার মনোনয়ন চাইছিলাম। স্থানীয় সর্বাধিক জনপ্রিয়তার আলোকে দল আমাকে মনোনয়ন দিয়েছে। ইউনিয়নবাসীর ভোটের মাধ্যমে বিজয়ী হয়ে দলের ভাবমূর্তি ফুটিয়ে তুলতে উন্নয়ন কর্মকা- চালিয়ে যাবো। আমাকে নৌকার প্রতীক দেয়াই মাননীয় প্রধান মন্ত্রিসহ স্থানীয় সংসদ সদস্য আয়েন উদ্দিনের প্রতি কৃতজ্ঞ। উপজেলা আওয়ামীলীগ ও অঙ্গ সংগঠনের সকল নেতৃবৃন্দের সহযোগিতা কামনা করি।