রায় শুনে কেঁদে কেঁদে ক্ষমা চাইলেন রাম রহিম সিং

আপডেট: আগস্ট ২৯, ২০১৭, ১২:৫২ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


ধর্ষণ মামলায় সাজা ঘোষণার পর আদালতে কেঁদে কেঁদে ক্ষমা চেয়েছেন ভারতের স্বঘোষিত আধ্যাত্মিক গুরু গুরমিত রাম রহিম সিং।
কান্নায় ভেঙে পড়ে তিনি বার বার নিজেকে নির্দোষ দাবি করে তাকে ক্ষমা করে দিতে বলেন।
এনডিটিভি’র খবরে বলা হয়, রায় শোনার সঙ্গে সঙ্গে রাম রহিম মাটিতে পড়ে যান এবং কাঁদতে শুরু করেন।
আদালতকক্ষ ছেড়ে যেতে চাইছিলেন না তিনি। জোরজবরদস্তি করে তাকে বাইরে বের করা হয়। এসময় কাঁদতে কাঁদতে রাম রহিম বলেন, “আমি নির্দোষ। আমাকে ক্ষমা করে দিন।”
দুই নারী ভক্তকে ধর্ষণের দায়ে সোমবার ভারতের স্বঘোষিত আধ্যাত্মিক গুরু গুরমিত রাম রহিম সিংকে ১০ বছরের জেল দেয় হরিয়ানার একটি বিশেষ আদালত। ওই দুই নারীর অভিযোগ, ২০০২ সালে রাম রহিম তাদের ধর্ষণ করে।
গত শুক্রবার চণ্ডিগড়ের পাঁচকুলার একটি বিশেষ আদালত ধর্ষণের অভিযোগে রাম রহিমকে দোষী সাব্যস্ত করেছিল।
যার জেরে এই আধ্যাত্মিক গুরুর আশ্রম ডেরা সাচ্চা সওদার ভক্তরা হরিয়ানা ও পাঞ্জাব জুড়ে ব্যাপক তাণ্ডব চালায়; নিহত হয় ৩৮ জন।
দোষীসাব্যস্ত হওয়ার পর রাম রহিমকে রোহতকের সুনারিয়া কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সোমবার সেখানেই বিশেষ আদালত বসিয়ে বিচারক জগদীপ সিং সাজা ঘোষণা করেন।
এদিন রাম রহিমের সাজা ঘোষণাকে কেন্দ্র করে হরিয়ানায় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়; বন্ধ ছিল রাজ্যের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
সকাল থেকেই রোহতকের শহরতলীতে অবস্থিত সুনারিয়া কারাগারে যাওয়ার সবগুলো পথ বন্ধ করে দিয়ে সেখানে তিন হাজার আধা সামরিক বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে এদিন রোহতকে বড় ধরনের সমাবেশ নিষিদ্ধ করে বাসিন্দাদের ঘরের ভেতর থাকার পরামর্শ দেয়া হয়েছিল।
পাঞ্জাব এবং উত্তর প্রদেশেও কিছু কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল।
শুক্রবারের সহিংসতার পর আগাম নিরাপত্তা ব্যবস্থা হিসেবে রাম রহিমের ডেরার জ্যেষ্ঠ সদস্যদের আগেই আটক করে পুলিশ।
এমনকি সোমবার যে কোনও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে পুলিশকে গুলি চালানোর নির্দেশ দেয়া ছিল বলেও জানায় এনডিটিভি।
তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ