রিকশাচলকদের ভাবনা : দেশের টাকায় পদ্মা সেতু গৌরবের

আপডেট: জুন ১৮, ২০২২, ১২:২৭ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


সকাল সন্ধ্যায় মানুষের মুখে মুখে, পত্রিকার পাতায়, মোবাইল ফোন বা টেলিভিশন চালু করলেই পদ্মা সেতুর কথা। খেটে খাওয়া রিকশাচালকদের মুখে ও মনে পদ্মা সেতু নিয়ে চলছে গৌরবের ঢেউ। বৃহস্পতিবার (১৬ জুন) নগরির বর্ণালী মোড়, রেলগেট, ভদ্রা মোড়, তালাইমারি, কোর্ট স্টেশন এবং সাহেববাজার ঘুরে রিকশাচালকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে তাদের আশা-প্রত্যাশা ও অনুভূতির কথা।

স্বপ্নের পদ্মা সেতু উদ্বোধনের আর মাত্র ৮ দিন বাকি। পদ্মা সেতু উদ্বোধনের এই আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের মাঝে। রিকশা চালকদের মাঝেও উদ্দীপনার কমতি নেই।

নগরীর টিকাপাড়ার হাসিবুল হাসান জানান, সকালবেলা বের হয়ে যান রিকশা নিয়ে। সারাদিন রিকশা চালিয়ে রাতে খুব একটা টিভি দেখা হয়না। গাড়ি চার্জে দিয়ে এসে ঘুমিয়ে পড়েন। তারপরও গাড়ি চার্জে দেওয়ার সময় যতটুকু টিভি দেখেন- তার মধ্যে পদ্মা সেতুর সংবাদ দেখা যায়। ভালোই লাগে। দেশের টাকায় পদ্মা সেতু এটাই বড় গৌরব।

তিনি আরও জানান, আগে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যেতে অনেক সময় লাগত। এখন রাস্তা ঘাটের অনেক উন্নয়ন হয়েছে। যমুনা সেতুর মত পদ্মা সেতু নির্মাণ করায় আরও একধাপ এগিয়ে গেল দেশ।

নওগাঁ মান্দার মফিজ উদ্দিন পদ্মা সেতু নিয়ে বলেন, কখনো ওইদিকে যাওয়া হয়নি। পদ্মা সেতু কাজ চলছে জানি। সবার মুখে মুখে শুনেছি, টিভিতেই দেখছি। যাত্রীরা মাঝে মাঝে বলাবলি কওে, রাস্তায় বড় বড় করে সিমেন্ট কোম্পানি গুলো সেতুর ছবি দিয়ে রাখে সে গুলোতে দেখেছি। পদ্মাসেতু হচ্ছে ভালই লাগছে। আমাদের দেশে এত বড় একটা সেতু হচ্ছে- সবার মত আমারো ভালো লাগছে।

পদ্মা সেতু নিয়ে শিরোইল কলোনীর ইদ্রিস আলী বলেন, পদ্মা সেতু হচ্ছে সরকার তো ভালই করেছে মানুষের উপকার হবে। আমি তো ২০ বছর ধরে গাড়ি চালাই। লেখাপড়া না জানলেও এতটুকু বুঝি ব্রিজ হলে লাভ হয় কিন্তু ক্ষতি হয়না। তাড়াতাড়ি সবাই বাড়ি যেতে পারবে। আমরা কিন্তু কাছে হলেও ভাঙ্গা রাস্তায় বেশি টাকা নেই। আবার যেতে চাইনা। কিন্তু দূরে সোজা রাস্তা হলে সহজে চলে যায়- কোনো কথাই বলি না। ওই রকম নদী পার হয়ে কারো যেতে ইচ্ছা করে না- এখন সেতু হবে ভালো হবে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শরিফুল ইসলাম পেশায় রিকশাচালক। তিনি বলেন, পদ্মা সেতু হয়েছে এটা জানি, কম বেশি সবাই জানে। ইন্টারনেটে তো দেখি, ইউটিউবে ফেসবুক তো সব সময় খবর আসে। লাইটের ছবি গুলোও দেখেছি ভালোই লাগছে দেখতে। পদ্মা সেতু খুলে দিলে সবার আয় রোজগার বাড়বে, সবাই ভালো থাকবে। আমি কখনো ওই জেলাতে যায়নি। যেতে তো অনেক জায়গায় ইচ্ছা করে! আল্লাহ নিলে যাব।

ভেড়িপাড়ার রিকশাচালক মতি মিয়া বলেন,যতটুকু জানি তাতে বলবো অনেক ভালো হয়েছে, খারাপ বলা তো যাবেনা। প্রথমে ভেবেছিলাম আমাদের পদ্মায় হচ্ছে। পরে জেনেছি ফরিদপুরে নাকি হচ্ছে। একটা সেতু হওয়া কিন্তু বিশাল ব্যাপার। ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার ও আমাদের মতন রিকশাওয়ালা থেকে শুরু করে সবার টাকা দিয়েই তো সব হয়-এতেই আনন্দ লাগছে। দেশের উন্নতি হয়েছে সবার জীবিকা হচ্ছে, খরচ বেড়ে গেছে-তার পরেও ভালো লাগছে বিশাল একটা সেতু হচ্ছে।