রি ফাইন্যান্স এবং ব্যাংক ব্যবস্থা

আপডেট: জুন ১৪, ২০১৭, ১:২৪ পূর্বাহ্ণ

শাহ মো. জিয়াউদ্দিন


২০১৬-২০১৭ অর্থ বছরের জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রীর পেশ করা বাজেটে আমানত খোয়ানো ব্যাংক গুলির পুনঃআমানতের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে। দেশের ইতিহাসে এ বছরের পেশ করা বাজেট হলো সর্ববৃহৎ। এই বিরাট আকারের বাজেটের সম্পূর্ণ অর্থের মালিক জনগণ। কী কারণে ব্যাংকগুলিকে রিফাইন্যান্সিং করা হলো তার বিশদ ব্যাখ্যা থাকার প্রয়োজন ছিল বাজেট বক্তৃতায়। তাছাড়া, কী কারণে ব্যাংকগুলির আমানত কমে গেল এর জন্য দায়ী কারা তা সুষ্পষ্টতভাবে মাননীয় অর্থমন্ত্রীর জনগণকে জানানো উচিত। তবে দুঃখের বিষয় মাননীয় অর্থমন্ত্রী যখন গণমাধ্যমে কথা বলেন, প্রায় সব সময় ইংরেজি ভাষায় বাজেট সম্পর্কিত বিষয়গুলির ব্যাখ্যা দেন। দেশের আমজনতা কি উনার দেয়া বাজেট সর্ম্পকিত ইংরেজি ভাষার ব্যাখ্যা কতটা বুঝতে পারলো তা তিনি কোনো দিন অনুধাবন করেছেন। বাজেট পেশ করে সরকার জনগণের জন্য। মাননীয় অর্থমন্ত্রী বাাজেটের আয়ের যে খাতটি পূরণ করার জন্য করারোপগুলি করেছেন তা কিন্তু পরোক্ষভাবে ওই ইংরেজি না বুঝা আমজনতার কাছ থেকে আদায় করা হবে। তাহলে যারা এই বাজেটের অর্থের মালিক তাদের বুঝার জন্য গণমাধ্যমে দেয়া বাজেট এর ব্যাখ্যা অর্ধেক বাংলায় আর অর্ধেক ইংরেজিতে না বলে সম্পূর্ণটা বাংলায় বলেন না কেন? রাষ্ট্র পরিচালনার যে কোনো পদক্ষেপ সারা দেশের মানুষকে বুঝানোর জন্য বাংলায় ব্যাখ্যা করা প্রয়োজন।
চলতি বাজেটে মাননীয় অর্থমন্ত্রী দেশের ব্যাংকগুলির মূলধন ঘাটতির জন্য দুই হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছেন। গত বছরের জানুয়ারি মাসে বাংলাদেশ ব্যাংকের দেয়া তথ্যানুযায়ী গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ থেকে জানা যায়, ২০১৭ সালে মার্চ মাসে ব্যাংক খাতে ঋণ খেলাপি বেড়েছে ৬ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ঋণ খেলাপি হয়েছে ৭৩ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা। এই মোট খেলাপির ঋণের ৩৫ হাজার ৭১৬ কোটি টাকা সোনালী , অগ্রণী , জনতা , রুপালী, বেসিক, বাংলাদেশ ডেপলপমেন্ট ব্যাংক এর মত রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলির। প্রথম আলোর প্রকাশিত এক রিপোর্ট থেকে জানা যায়, এক বছরে ঋণ খেলাপি বেড়েছে ১৪ হাজার কোটি টাকা। আর এই খেলাপি ঋণটা বাড়ছে দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর বেশি। সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এক ইলেট্রনিক গণমাধ্যমে বলেছেনে যে, সোনালী ব্যাংকের মোট খেলাপির ৮৪ শতাংশ হলো মাত্র ৫০ টি শাখার। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যানুসারে দেখা যায়, বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার ২০০৯ সালে যখন ক্ষমতায় আসেন, সে সময় ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ২২ হাজার ৪৮১ কোটি টাকা আর ওই সময় অবলোপন করা হয় ১৫ হাজার ৬৬৭ কোটি টাকা সব মিলিয়ে খেলাপির পরিমাণ ছিল ৩৮ হাজার ১৪৮ কোটি টাকা। গত আট বছরের খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়েছে প্রায় ৬৮ হাজার কোটি। এই হিসাবের বাইরে ১৫ হাজার কোটি টাকা খেলাপি ঋণ পুনঃগঠন করা হয়েছে। আর এর সুবিধা পেয়েছে বড় খেলাপিরা। দেশে মোট ঋণ খেলাপির সংখ্যা ২ লাখ ১৩ হাজার ৫৩২ জন। তার মধ্যে রাষ্টায়ত্ত চারটি ব্যাংক সোনালীর ৭ হাজার ৭৮১ জন, অগ্রণীর ৭ হাজার ৯২৩ জন, জনতার ৪ হাজার ৯৪১ জন, রুপালীর ৩ হাজার ৯১৪ জন। দেশের ঋণ খেলাপির শীর্ষে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক সোনালী। রাষ্টায়ত্ত ব্যাংকগুলোর নিয়ন্ত্রক দেশের অর্থমন্ত্রী। তিনি শুদ্ধ ইংরেজি ভাষায় বাজেটের অনেক সুন্দর ব্যাখ্যা দিতে পারেন কিন্তু খেলাপির সংস্কৃতির অবসান ঘটাতে পারছেন না। ২০১৭ সালের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর এই তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ২ হাজার ৩৬৬ কোটি টাকা। অগ্রণী ব্যাংকের মোট বিতরণককৃত ঋণের ২৫.৬২ শতাংশ ও রুপালী ব্যাংকের ১৮.৭১ শতাংশ ঋণ খেলাপি। দেশের ব্যাংক খাতের প্রকৃত খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছে। অবলোপন করা এবং নিয়মিত ঋণ খেলাপি মিলিয়ে দেশে প্রথম বারের মতো প্রকৃত খেলাপির পরিমাণ এক লাখ কোটি টাকা হয়েছে। বছরের পর বছর খেলাপি ঋণ আদায় না হওয়ায় কিছু ব্যাংক তার ব্যালান্স সিট থেকে খেলাপি ঋণ বাদ দিয়ে দিচ্ছে। ফলে এই বিরাট অংকের টাকা কু-ঋণ হিসাবে চিহ্নিত হয়। আর এই কু-ঋণ সঞ্চিতির জন্য ব্যাংক ঋণের সুদের হার বাড়িয়ে দেয়। অপরদিকে ব্যাংক তার কু-ঋণের ঘাটতি মেটানোর জন্য আমানতকারীর জমাকৃত টাকায় সঞ্চয়ী সুদের হার কম দেয়। সরকারের বাজেটের দুই হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ অনেকটা কয়লা ধুয়ে ময়লা সারানোর মতই হবে। বিএনপি আওয়ামী লীগের কিছু বিষয়ে দারুণ মিল রয়েছে, যেমন, ২০০২ সালে বিএনপি সরকার ঋণ অবলোপন পদ্ধতি চালু করে। ২০০৮ সালে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসে। বিএনপির অনেক প্রথা এবং আইন আওয়ামী লীগ সরকার বাতিল করেন। কিন্তু ঋণ অবলোপন করার পদ্ধতি অবিকল থেকে যায়। অর্থ মন্ত্রালয়ের ব্যাংক সংক্রান্ত বিভাগের উচিত কাদের ঋণ অবলোপন করা হয়েছে তার একটি তালিকা গণমাধ্যমে প্রকাশ করা করা। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক গুলির মূলধনের প্রকৃত মালিক জনগণ তাদের জানা উচিত কারা এই ঋণ অবলোপনকারী হিসাবে সুবিধা পেল। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সরকারের জবাবদিহিতার কথা বলা হয়। জনগণের টাকায় ঋণ হিসাবে নিয়ে যারা দিচ্ছেন না তাদের সর্ম্পকে জনগণকে না জানিয়ে অবলোপন করাটা এক ধরনের প্রতারণার শামিল। বর্তমান সরকারের রূপকল্প ২০২১ ও ২০৪১ , সরকারের vision হলো এই রূপকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে। পৃথিবীর উচ্চ ও মধ্যম আয়ের বিভিন্ন দেশের ঋণ খেলাপির চিত্রটা দেখলে এবং তা বাংলাদেশের সাথে মিলালে দেখা যাবে, বাংলাদেশের ঋণ খেলপির অবস্থা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। বিশ্বব্যাংকের ২০১৬ সালের দেয়া এক তথ্যসূত্র থেকে জানা যায়, এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ঋণ খেলাপির তালিকায় বাংলাদেশ তৃতীয়। বিশ্ব ব্যাংকের তথ্যমতে বাংলাদেশে ঋণ খেলাপির পরিমাণ এক হাজার কোটি ডলার। এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঋণ খেলাপি দেশ হলো আফগানিস্তান, তারপর পাকিস্তান এর পরের অবস্থানটা হলো বাংলাদেশের। মোট বিতরণ করা ঋণের মধ্যে আফগানিস্তানের খেলাপি হলো ১২.৩ শতাংশ, পাকিস্তানের ১১.১২ শতাংশ , বাংলাদেশের ১০.০২ শতাংশ , ভারতের ৭.৫৭ শতাংশ। অপরদিকে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সূত্র থেকে জানা যায়, ২০১৬ সালে অস্ট্রেলিয়ার ঋণ খেলাপি ছিল ১.০১ শতাংশ, সিঙ্গাপুরের ১.৬ শতাংশ, জাপান ১.৪৭ শতাংশ, মালয়েশিয়ার ১.০৬ শতাংশ, চিন ১.৭৪ শতাংশ, কম্বোডিয়ার ২.৫৯ শতাংশ, থাইল্যাণ্ডের ২.৮৮ শতাংশ ভিয়েতনামের ২.৯০ শতাংশ, শ্রীলংকার ২.৯৮ শতাংশ। গত আট বছরে বাংলাদেশে ঋণ খেলাপি বেড়েছে ১৬৮ শতাংশ। বিশ্ব ও এশিয়ার আর্থিক খাতের ব্যাংকিং সেক্টরের অবস্থা বাংলাদেশের অবস্থার সাথে মিলালে সরকারের ঘোষিত রূপকল্প ২০২১ ও ২০৪১ বাস্তবায়ন করা কতটা সম্ভব? অর্থমন্ত্রী ব্যাংকে টাকা জমাকারীদের উপর আবগরি শুল্ক বহাল রাখার পক্ষে দৃঢ অবস্থান গ্রহণ করেছেন। বাজেটে ১ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যাংকে টাকা জমাকারীর কর ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে করা হয়েছে ৮০০ টাকায়। ১০ লাখ থেকে ১ কোটি পর্যন্ত ১৫০০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ২৫০০ টাকা, ৫ কোটি টাকার উর্ধ্বে ১৫০০০ থেকে করা হয়েছে ২৫০০০ টাকা। সর্বস্তরের জমাকারীর কর বেড়েছে ৬০ শতাংশ। এর পক্ষে কিছু লোক সমর্থন করে যাচ্ছেন। তারা যুক্তি দেখাচ্ছেন যে জমাকারী তার সঞ্চয়ী হিসাবের জমাকৃত টাকার উপর ৪.৫ শতাংশ লাভ পাবেন। এ ধরনের যুক্তির কোনো ভিত্তি নেই। কারণ একজন আমানতকারী বছরের শুরুতেই তার সঞ্চয়ী হিসাবে এক লাখ টাকা জমা রাখেন না। সারা বছর অল্প অল্প করে সংসারে খরচের টাকা বাঁচিয়ে তিনি লাখ টাকা জমান। তাই দেখা যায়, ব্যাংক ডিক্লাইনেড ম্যাথডে তার মোট জমা টাকার উপর লাভ প্রদান করেন। আর সেই হিসাবে দেখা যায়, উক্ত ব্যাংকে টাকা জামাকারী তার সঞ্চয়ী হিসাবে ২ শতাংশের বেশি লাভ পান না। অপরদিকে সরকার ঘোষণা করেছেন এ বছর মূল্যস্ফিতির হার হবে ৫.৫ শতাংশ। তবে সরকার ঘোষিত মূল্যস্ফিতি কখনো ঠিক থাকে না। তাই এই মূল্য স্ফিতি ৬ শতাংশের উপরেই হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, মূল্যস্ফিতি হলো ৬ শতাংশ আর সঞ্চয়ী হিসাবের লাভ হলো ৪.৫ শতাংশ তাহলে TIME VALUE OF MONEY এই পদ্ধতিতে হিসাব করলে সরকারের শুল্ক কাটা এবং মূল্যস্ফিতির হারের হিসাবে বছর শেষে এক লাখ টাকার মান কত টাকায় দাঁড়াবে? সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে, পারিবারিক সঞ্চয়পত্রের লাভের হার কমাবেন তবে অর্থমন্ত্রী বলেছেন, ব্যাংকের সঞ্চয়ী হিসাবের লাভের হারের চেয়ে একটু বেশি হবে। মাননীয় অর্থমন্ত্রী একটু ভেবে দেখবেন, মূল্যস্ফিতির সাথে উনার ঘোষিত সঞ্চয়পত্রের সুদের হারে পার্থক্য কত। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরকারি বেতনপ্রাপ্ত জনৈক কর্মী লিখেছেন, বেতন বাড়লে, ব্যাংকে জমানো টাকার উপর শুল্ক বাড়াটা অযৌক্তিক নয়। তাই তাকে বলছি হিসাবটা মিলিয়ে দেখে তারপর মন্তব্য করবেন। অর্থমন্ত্রী বলেছেন, ব্যাংকে জমানো টাকার উপর শুল্ক আরোপ করার ফলে কালো টাকা কমে যাবে। তবে অবস্থাদৃষ্টে যা বুঝা যাচ্ছে, তাতে দেখা যায় যে, প্রদশির্ত আয়ের টাকা কালো টাকায় পরিণত হবে। ট্যাক্স প্রদানকারী অনেকেই ব্যাংকে রক্ষিত টাকার উপর শুল্ক কাটার ভয়ে টাকা বালিশের ভিতর রাখবেন। এ ধরনের শুল্ক আরোপের ফলে দেশের ব্যাংকগুলোতে ক্ষুদ্র আমানতকারীদের টাকা জমানোর আগ্রহ কমে যাবে। এমএলএম জাতীয় আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর দিকে আমানতকারীরা তখন ঝুঁকবে এর ফলে সাধারণ মানুষ এই জাতীয় সংস্থাগুলোর কাছে প্রতারিত হবে, যেমন অতীতে হয়েছে। বেসরকারি ব্যাংকগুলো আমানতকারীদের জমাকৃত টাকার বড় অংশ কেটে নেয় সার্ভিস চার্জ হিসাবে। বেসরকারি ব্যাংকগুলোর সার্ভিস চার্জ কাটার সাথে সরকারি ব্যাংকগুলোর কোনো মিল নেই। সরকারের উচিত সার্ভিস চার্জের বিষয়টির ক্ষেত্রে একটি unified ব্যবস্থা করা। ব্যাংকে টাকা জমাকারীদের উৎস কর কাটা হয়, আবার এক লাখ টাকার উপরও শুল্ক কাটা হয়। এটা তো এক মুরগি তিনবার জবেহ করার মত বিয়ষ। কারণ ব্যাংকে টাকা জমাকারী অনেক ব্যক্তিও ইনকাম ট্যাক্স দেন। বিষয়টি কি যৌক্তিক হচ্ছে। দেশের বেসরকারি ব্যাংক গুলোর নির্বাহী প্রধানদের বেতন ভাতা দেশের প্রচলিত শ্রমবাজারের মজুরির চাইতে ১০-১৫ গুণ বেশি। সরকারের একজন সিনিয়র সচিব যে বেতন ভাতা ভোগ করেন তার পাঁচ থেকে ছয় গুণ বেশি বেতন ভাতা নেন বেসরকারি ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীরা। ২-২-১৭ দৈনিক বণিক বার্তায় প্রকাশিত সংবাদ থেকে জানা যায়, ২০১৬ সালে ইস্টার্ন ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীর মাসিক বেতন ভাতা নিয়েছেন ১৭ লাখ ১ হাজার ৯৯ টাকা, সিটি ব্যাংকের নির্বাহী নিয়েছেন ১৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা, মিচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ১৪ লাখ ৪২ হাজার টাকা, ব্যাংক এশিয়ার নির্বাহী নিয়েছেন ১৩ লাখ ৭ হাজার টাকা, এক্সিম ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী ১২ লাখ ৬৩ হাজার টাকা, আইএফআইসি ব্যাংকের ১২ লাখ ৬০ হাজার টাকা, উত্তরা ব্যাংকের ১১ লাখ ২৯ হাজার টাকা, ওয়ান ব্যাংকের ১১ লাখ ১১ হাজার টাকা, ট্রাস্ট ব্যাংকের ১১ লাখ ৫৩ হাজার টাকা, মাকেন্টাইল ব্যাংকের ১০ লাখ ৮১ হাজার টাকা, আল আরাফা ব্যাংকের ১১ লাখ ৩৩ হাজর টাকা, এ রকম প্রায় সবগুলো বেসরকারি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের মাসিক বেতন ভাতা। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক এবং বেসরকারি ব্যাংকগুলোর নির্বাহীসহ সকল কর্মীদের বেতনের একটি সামঞ্জস্যতা থাকা দরকার। সরকার সকল ব্যাংকের বেতন ভাতাদির বিষয়ে এক ধরনের নিয়ম চালু করলে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলির দুর্নীতি কিছুটা কমবে। আর দুর্নীতি কমলে ঋণ খেলাপি সংস্কৃতিটা অনেকটা কমে যাবে। দেশের সব চেয়ে কম ঋণ খেলাপির ব্যাংক হলো বেসরকারি আল ফারাহ এবং ওরি ব্যাংক। এই ব্যাংক দুইটির খেলাপি ঋণীর সংখ্যা পাঁচ জন করে। বেসরকারি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের বেতন একটু কমালে বেসরকারি ব্যাংকগুলো নানা কায়দায় যে চার্জ গুলি কাটে তা একটু কমবে। বেতন কাঠামোসহ নানা নিয়মের সাথে সরকারি বেসরকারি ব্যাংকগুলোর পার্থক্য রয়েছে তাই সকল পার্থক্য দূর করে সকল ব্যাংকের জন্য একটি নিয়ম চালু করা দরকার। ব্যাংকের সাধারণ সঞ্চয় হিসাবধারীদের জমানো টাকায় যদি ৮-১০ শতাংশ লাভ দেয়া হয় আর ৮০০ টাকা শুল্ক হিসাবে কাটাটা বাদ দেয়া হয়, তাহলে সরকারকে পুনঃমূলধনের জন্য যে দুই হাজার কোটি টাকা দিয়েছেন তা দেয়ার প্রয়োজন হতো না। দেখা যাবে যে, পুণঃমূলধনের প্রদেয় টাকার চারগুণ টাকা সঞ্চয়ী হিসাবগুলোতে জমচ্ছে।
দেশের ব্যাংক ব্যবস্থার ভিন্ন ভিন্ন নিয়ম কানুন গুলো একটি নিয়মে নিয়ে আসা করা দরকার। তাহলে ব্যাংকিং সেক্টরের অনিয়মগুলো কিছুটা হলেও দূর হবে।
লেখক:- কলামিস্ট