রুচিশীলতার সংগ্রামে অগ্রগামী সোনার দেশ

আপডেট: জানুয়ারি ১, ২০২১, ১২:৪১ পূর্বাহ্ণ

এস এম তিতুমীর:


প্রবাদ আছে-‘কালে কালে কতই হবে, কিছুই নাহি এমন রবে’। এ-তো প্রকৃতির নিয়ম। কিন্তু পরিবর্তন প্রত্যাশীরা ! তারাতো হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকে না। যদি বসেই থাকতো তাহলে বলতে হয় আমাদের এই প্রিয় ভূ-খ- কখনো স্বাধীন হতো না। পেতাম না মুক্তির স্বাদ। ব্রিটিশ বিরোধী ভারতীয় মুক্তিকামী সংগ্রামী সত্তা ক্ষুদিরাম, সুভাষ চন্দ্র বসু, এই বাংলার প্রতিলতা, সূর্যসেন, পশ্চিমা বিশ্বের বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলনের মহানায়ক ন্যানসন ম্যান্ডেলা, মার্টিন লুথার কিং, আধুনিক যুক্তরাষ্ট্রের স্বপ্নদ্রষ্টা আব্রাহাম লিঙ্কন, অহিংসাবাদের প্রবর্তক অখ- ভারতের জনক মহাত্মা গান্ধী, অ্ধুনিক মালেশিয়ার রূপকার মাহাথির মোহাম্মদ এমন কি সোনার বাংলার স্বপ্নদ্রষ্টা, মুক্তির মহানায়ক স্বাধীনতার স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যারা পরিবর্তন চেয়েছিলেন বলেই কালে কালে দেশ জাতির অন্তরে তারা আসন করে নিয়েছেন। মানুষের অন্তরে জাগিযেছেন মুক্তির বাসনা, দেখিয়েছেন উন্নয়নের স্বপ্ন, উন্নত হবার পথ। পরিবর্তন চেয়েছিলেন বলেই সে ধার আজো অব্যাহত। প্রকৃতি তার নিয়মে চলবে ঠিকই তবে তা আমাদের অনুকূলে হবে নাকি প্রতিকূলে হবে তা প্রকৃতিই নির্ণয় করে দেয়। আর তা প্রতিকূল হলে তা আমাদের নিজেদের অনুকূলে করতে চালিয়ে যেতে হয় সংগ্রাম। বছর চলে গেল , আইলা সিডর আমফানের মতো নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকবিলা করেও টিকে আছে সংগামী মানুষ। আর একুশ শতকের বিষের দশকের সাথে বিশ্ববাসির পরিচয়টা হলো অসেকটাই বিষের মতো। প্রতি এক’শ বছর পর ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় এ বছরও ভুগেছে বিশ্ব । দুহাজার উনিশের শেষ প্রান্তে চীনের উহানে নোবেল করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। আর তা দুহাজার বিশের শুরুর দিকে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে । এগারো মার্চ এই ভাইরাসকে কোভিড নাইনটিন আখ্যা দিয়ে মহামারি ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। সেই ভাইরাস বিষকে প্রতিহত করেই টিকে আছে বাংলাদেশ, টিকে আছি আমরা। আর এত্তোসব তথ্য আমাদের হাতেই মুঠোই কারণ এখন বাংলাদেশ প্রবেশ করেছে অবাধ তথ্য প্রযুক্তির যুগে। বলতে গেলে গোটা দেশই চলে এসেছে প্রযুক্তির আওতায়। ডিজিটালাইজেশনের অগ্রগতিতে প্রতিনিয়ত যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন উদ্ভাবন। ফলে অবাধ তথ্য প্রবাহে আমরা প্রায় সবাই যুক্ত। কোভিডকালীন আনলাইন পড়াশোনা, অনলাইন রেজাল্ট, অ্যাসাইনমেন্ট আদান-প্রদান, ভর্তি বিজ্ঞপ্তি, রেজাল্ট সব কিছুই এখন হয়ে পড়েছে প্রযুক্তিনির্ভর । তাহলে যুগের এই পরিবর্তনকে আমরাও তো গ্রহণ করেছি সাদরে। তাই এই গতিশীলতার কারণে আপাতদৃষ্টিতে কারো মনে হতে পারে ‘কারো কাছেই আমার কিছু চাওয়ার নাই’। ইলেকট্রনিক্স গণমাধ্যমে এক বক্তা এমন অহম নিয়েই বললেন , এখন আমাকে জ্ঞান গ্রহণ করতে কোনো শিক্ষকের কাছে যেতে হয় না। গুগল গুরুকে বললেই সব পেয়ে যায়। যদি তাই হয় , তাহলে সেটাও একটা পরিবর্তন। কিস্তু তা বলে কি প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা কিংবা সজীব ব্যক্তি শিক্ষার কোনো দরকার নেই ? এমনটা না। ব্যক্তি শিক্ষা ব্যতীত শিক্ষাসফর অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। মূলত পরিবর্তনের কথা বলছিলাম। যারা পড়ে তারাই পাঠক। তবে আমরা পাঠক বলতে তাদেরই বুঝি যারা দৈনিক খবরের কাগজ পাঠ করে। এমন পাঠকের সংখ্যা নগণ্য নয় বলেই এখনো কাগুজে পত্রিকা বা সংবাদপত্র টিকে আছে তার বহাল তবিয়তে। কারণ ছাপা অক্ষরের আবেদন সব সময়ই মানুষকে ভিন্নমাত্রায় নিয়ে যায়। এতে পাঠকের মন-মনন ও দৃষ্টিতে এনে দেয় একধরনের তৃপ্তি।অপরদিকে বৈদ্যুতিক আলোর বিচ্ছুরণ সম্বলিত ডিভাইসে পাঠ, চোখের ওপর মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করে। যা হোক, পরিবর্তন সবাই চায় এর ব্যত্যয়ে হয়তো পাগল বির্বোধ কিংবা উম্মাদ ছাড়া আর কেউ থাকবে না।
সেই পরিবর্তনের কথা যে সংবাদপত্রটি সবার আগে ভেবেছে এবং তা বাস্তবায়নে নিরলস কাজ করে চলেছে তা হলো ‘ দৈনিক সোনার দেশ’। যা প্রিন্ট মিডিয়ায় উত্তবঙ্গের প্রতিনিধিত্বও করছে। প্রতিদিন যা ঘটে তা নিয়ে খুব ভোরে হাজির হয় আমাদের দরজায় । হতে পারে সেসব খবর আমরা অনেক আগেই পেয়ে গেছি তারপরও খবরের আঙ্গিক মেজাজ গড়ন বানান আর এক কাপ গরম চায়ের সাথে তা পাঠ করার যে আমেজ তা বোধকরি আর দশ গণমাধ্যমের সমতুল্য করবে না। মানব জীবনের সঙ্গে সম্পৃক্ত দৈনন্দিন ঘটনা প্রবাহের বিচিত্র তথ্য সমৃদ্ধ হয়ে যেসব প্রকাশনা রূপ লাভ করে তারমধ্যে সংবাদপত্র এখনো জনপ্রিয়তা ধরে রেখেছে। মানুষের অজানাকে জানার আগ্রহ থেকেই সংবাদপত্র শিল্পের বিকাশ হয়েছে। মানব জীবনের সাথে সংবাদপত্রের এত বেশি সম্পর্ক যে, সংবাদপত্র ছাড়া আধুনিক মানব জীবন বলতে গেলে স্থবির হওয়ার উপক্রম হয়। সংবাদপত্র মানুষের নিত্য সঙ্গী। জাতীয় ও বিশ্ব অগ্রগতির বাণী বহন করে সংবাদপত্র। ২০১১ সাল থেকে সোনার দেশ পাঠকের চাহিতার কথা মাথায় রেখে শুরু করে তার নতুন আঙ্গিকে যাত্র। সেখানে পাঠরেকর প্রত্যাশা আশা-আকাক্সক্ষা কতোটুকু পূরন করতে পেরেছে তা পাঠকেরই বিবেচ্য বিষয়। আগে চার পৃষ্ঠা থাকলেও তা হয়ে দাঁড়ায় আট পৃষ্ঠায়। সাদা-কালো থাকলেও তা হয়ে যায় রঙিন আবার প্রতি সপ্তাহে শুত্রবার ‘পা-ুলিপি’ সাহিত্য পাতা নিয়মিত বের হলেও প্রতি শনিবার শিশুদের কথা মাথায় রেখে তাদের সৃজনশীতার বিকাশ ঘটাতে বের হয় ‘কাঠপেন্সিল’ নামে পাতা। সন্ত্রাস, দুর্নীতি, অপকর্ম গোপন করে পার পেয়ে যাওয়ার দিন ক্রমেই যেন ছোট হয়ে আসছে সংবাদপত্রের তৎপরতার কারণে।।রাজনীতি, সামাজিক অসঙ্গতি, অন্যায়, দুর্নীতি, জনহিতৈষি কাজ, বিনোদন সবটাই থাকে এখানে। তারপরও করোনা আক্রমণ এযাত্রাকে কিছুটা হলেও বাধাগ্রস্থ করেছে। দেশ ও জাতির প্রয়োজনে সাংবাদিক সমাজ কা-ারীর ভূমিকা পালন করায় জনগণের ভালবাসা ও মন জয় করতে সক্ষম হচ্ছেন। দেশে গণতন্ত্র, আইনের শাসন, বাক স্বাধীনতা, সু-শাসন প্রতিষ্ঠা করার জন্য সংবাদপত্র ও সাংবাদিকরা সংগ্রামী ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন। সংবাদপত্রের বদৌলতেই জনগণ তাদের প্রত্যাশিত নাগরিক অধিকার ফিরে পাচ্ছেন।তবে এ সংগ্রামে পিছিয়ে থেকেও মন খারাপের কিছু নাই কোন না এমনটা সারা ব্শ্বি জুড়েই চলছে। দেমের জাতীয় পত্রিকাগুলোর দশাও একই। তাছাড়া এ পত্রিকার সবধারাই বজায় আছে সীমিত পরিসরে। তারপরও মানুষের প্রত্যাশা, চাহিদা হয়তো অপূর্ণই থেকে যায়। কেনোনা আজ যা নতুন, নতুন উদ্ভাবনের কাছে কালই তা আবার পুরাতন। আর নতুন আবিষ্কারের আকর্ষণ মানুষের কাছে চিরকালীন। তাই এখন যা চলছে যা হচ্ছে তার সাথে আরো নতুন কিছু যুক্ত হওয়ার আকাক্সক্ষা থাকইে পারে। অনেক প্রতিকূলতার পথ পেরিয়ে এ কাগজের আজকের অবস্থান। যা এতোদূর এসেও সে হয়তো সন্ত্যোষ্টির আলোতে নিজেকে পুরোপুরি ডুবাতে পারেনি। বানান প্রমাদ, শব্দ ও তথ্য বিভ্রাাট, ক্যাপশন ফল্ট, রাইজার নোট, ডাল গ্রাফিক্স এমন অনেক অসন্তোষ আছে। এমন অনেক অসন্ত্যোষ্টিই তাকে সজাগ রাখে নিয়ত। সর্বপরি নির্ভুলতার উর্ধ্বে ওঠার প্রয়াসই এই দৈনিককে এখন পর্যন্ত টিকে থাকতে সাহায়্য করেছে। পরিসর কমিয়ে আনলেও কাজের ব্যাপ্তি কিন্তু কমেনি। গোটা উত্তবঙ্গের দৈনিক প্রতিনিধি স্বরূপ ছড়িয়ে আছে সাংবাদিক। তাদের পাঠানো খবরের পাশাপাশি আছে নিজস্ব কলামিস্ট, প্রতিনিধি, ফটোগ্রাফার, প্রুফ রিডার, নিউজ এডিটর, ফিচার এডিটর, কম্পোজার, পেস্টিং হ্যান্ডস, পেইজ মেকার, সহায়ক কলাকুশলী, অভ্যর্থনা সহায়ক, প্রশাসনিক দপ্তর। সবার সহযোগিতায় নতুন আঙ্গিকে এগিয়ে চলেছে এ সুবিশাল কর্মযজ্ঞ। সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে নিজেকে পরিবর্তন করে আরো নতুন কিছু করা স্বপ্ন দ্যাখে এ দৈনিক, তবে তার অবজেক্টিভিটি বজায় রেখে। দৈনিক খবরের কাগজ তার মূল মেধা বস্তুনিষ্ঠতা’কে পুঁজি করে সময়ের প্রতিনিধিত্ব করে। সেখান থেকে এ দৈনিক এক চুল পরিমাণও সরেনি। আর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে প্রায়ই উঠে আসে অন্যায় দুর্নীতির চিত্র যা অন্যায় কর্মকা-কে প্রতিহত করতে সহায়তা করেছে, দিয়েছে নৈর্ব্যক্তিকতার পরিচয়। বিজয় দিবস, স্বাধীনতা দিবস, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, পহেলা বৈশাখ, এমন বিভিন্ন বিশেষ দিবস, জাতীয় দিবসে বর্ণিল ক্রোড়পত্র বের করে এ পত্রিকাটি।
তারপরও সবমিলিয়ে এই বৃহৎ কর্মযজ্ঞ নিপুনভাবে সম্পাদন করে থাকেন সাংবাদিকরাই। সংবাদপত্র, সংবাদ এবং সাংবাদিক অবিচ্ছেদ্য অংশ। একটি থেকে অপরটি পৃথক করার কোন সুযোগ নাই।
আমরা অনেকেই বলে থাকি জাতীয় সংবাদপত্র জাতির কন্ঠস্বর , তাহলে মফস্বলের সংবাদপত্র হলো মফস্বলের কন্ঠস্বর। একটি পত্রিকার ষ্টাফ রিপোর্টার যেসব যোগ্যতা নিয়ে পেশাগত দায়িত্ব পালন করে থাকেন, আজকাল মফস্বল সাংবাদিকদের অনেকেই একই ধরনের যোগ্যতা নিয়ে ওই পত্রিকার স্থানীয় প্রতিনিধি হিসেবে মফস্বলে কাজ করে তার সুনামের সাথে। সাংবাদিক হওয়ার জন্য যা প্রয়োজন তা হলো তার লেখার সামর্থ্য, প্রাতিষ্ঠানিক ও পেশাগত শিক্ষা, কঠোর পরিশ্রম, সৎসাহস, সত্যানুসন্ধানী মনোভাব, অসাধারণ বুদ্ধিমত্তা, সামাজিক দায়িত্ববোধ, কাজের ক্ষীপ্রতা, উদ্যোগী ও স্বাবলম্বী, খবর খোঁজার রোমাঞ্চ, সাংগঠনিক শক্তি, রাজনৈতিক ও পেশাগত জ্ঞান, বিশ্লেষণী মন, বন্ধু ভাবাপন্ন মনোভাব ও পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা। এর সবাটা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে এ সংবাদপত্রটি।
সন্ত্রাস, ঘুষ, দুর্নীতি, অপরাধের বিরুদ্ধে পত্রিকার সাংবাদিক যেন এক প্রচন্ড দ্রোহের নাম। হিটলার, মুসোলিনী, ফ্রাঙ্কো, আইয়ুব, ইয়াহিয়ার মতো পৃথিবীর সকল স্বৈর শাসকই সংবাদপত্রের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করে কন্ঠ রোধ করার চেষ্টা করেছেন। যে কোন দুর্নীতিবাজ ফ্যাসিবাদী শাসকই সংবাদপত্রের স্বাধীনতা হনন করার চেষ্টা করেন। আমাদের দেশও এর ব্যাতিক্রম নয়। শাসকেরা যখনই জনগণের প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করে তাদের উপর জুলুমের ষ্ট্রীম রুলার চালিয়েছে সাংবাদিকরাই তখন এ জুলুমের বিরুদ্ধে কলম নিয়ে রুখে দাঁড়িয়েছে বার বার।
প্রতিদিন সকালবেলায় সংবাদপত্রটি হাতে না এলে পাঠকের দিনের শুভ সূচনা হয়না। একটা অপুর্নতার তৃপ্তি মনে যেন অনুভুত হয়। দিনের শুরুতে একটি টাটকা সংবাদপত্র হাতে নিয়ে অনেক পাঠকই পড়তে বসেন, চায়ের টেবিলে। পাঠক চায়ের কাপে চুমু দেন আর তরতাজা মুদ্রিত ভাঁজ করা সংবাদপত্রের শিরোনামগুলো পড়ে ফেলেন একের পর এক। কোনটা পড়ে আবেগাপ্লুত হন, কোনটায় হন বিস্মিত। আবার কোন কোন সংবাদ, পাঠক হৃদয়ে বেদনার সুর বাঁজিয়ে দিয়ে যায়। কোনটা পড়ে পাঠকের হাসতে হাসতে দম বন্ধ হবার উপক্রম হয়। এরকম হওয়াটাই স্বাভাবিক। কেননা, যে খবরটি মানুষের মনে নাড়া দেয় না, কোনরকম কৌতুহল, আবেক, বিস্ময় অর্থাৎ কোনরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেনা, সেটি আর যাই হোক সংবাদের মর্যাদা পেতে পারে না। খুঁটি নাটি অনেক কিছুই মানুষ জানতে চায়। অনেক সময় কোন কোন ঘটনা সম্পর্কে পাঠকের জানার অতিরিক্ত আগ্রহও থাকে। একজন নিবেদিত সংবাদকর্মী পাঠকের এসব বিচিত্র জানার চাহিদা পূরণ করার জন্য জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দিন-রাত খবরের পেছনের খবর, ঘটনার অন্তরালের ঘটনা খুঁজে বের করে আনার এবং তা প্রকাশ করার আপ্রাণ চেষ্টা করে থাকেন। পাঠকের সামনে সত্য তুলে ধরতে গিয়ে অনেক সাংবাদিককে জীবন দিতে হয়। ভোগ করতে হয় জেল, জুলুম, নির্যাতন। শাসক গোষ্ঠী ও প্রভাবশালীদের লেলিয়ে দেয়া সন্ত্রাসী বাহিনী কর্তৃক হামলার শিকার হতে হয়। তার পরও একজন সাংবাদিক ক্ষমতাসীনদের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করেই সত্য প্রকাশের যুদ্ধে জয়ী হন। জনগণের স্বার্থে সত্য প্রকাশে সাংবাদিক আপোষহীন, সংগ্রামী। জাতির দুঃসময়ে, ক্রান্তিকালে সংবাদপত্রের সাংবাদিকরাই ত্রান কর্তা হিসেবে আবির্ভূত হন। তাদের লেখনির মাধ্যমেই প্রতিষ্ঠিত হয় মানবাধিকার।

আমাদের দেশে জাতীয়, আঞ্চলিক এবং স্থানীয় পর্যায়ে অনেক ধরনের সংবাদপত্র প্রকাশিত হয়ে থাকে। যার মধ্যে দৈনিক, সাপ্তাহিক, পাক্ষিক, মাসিক সংবাদ পত্র রয়েছে। বর্তমানে বেসরকারী টেলিভিশন ও বেতারের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে অন-লাইন সংবাদপত্রের ব্যাপক বিকাশ ঘটেছে। প্রিন্ট, ইলেক্ট্রনিক্স ও অন-লাইন সাংবাদিকতা শহর ছাড়িয়ে জেলা, উপজেলা তথা মফস্বলেও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় সাংবাদিকদের নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যে কাজ করতে হয়। এই সীমাবদ্ধতা ও নানাবিধ সমস্যা সত্ত্বেও স্ব-উদ্যোগে গড়ে উঠা স্থানীয় সাংবাদিকতা এখন অনেক দূর এগিয়েছে। মফস্বলে সাংবাদিকতা করে অনেকেই এখন জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে তার নিজের অবস্থান করে নিতে সক্ষম হয়েছেন। মফস্বলে যারা সাংবাদিকতা করেন তাদের প্রায় সবাই এলাকায় অতি পরিচিত মুখ। তারপরও পেশা ও নেশার সমন্বয়ে গড়ে ওঠা স্থানীয় প্রেসক্লাব কেন্দ্রিক সাংবাদিকতার সাথে জড়িত সাংবাদিকরা সত্য প্রকাশে আপোষহীন ভূমিকা পালন করে আসছেন। তাদের অনেক সংবাদ রাজধানী থেকে প্রকাশিত জাতীয় পত্রিকার প্রথম পৃষ্ঠায় ছাপা হচ্ছে, এমনকি মফস্বলের সংবাদ লিড নিউজ পর্যন্ত হচ্ছে। সারা দেশে তোলপাড় সৃষ্টি করার মতো সংবাদ প্রকাশ করছেন মফস্বলের সাংবাদিকরা। স্থানীয় রাজনৈতিক শক্তি, প্রশাসন, প্রভাবশালী মহল ও সন্ত্রাসী বাহিনীর হুমকিকে কোন রকম পরোয়া না করেই মফস্বলের সাংবাদিকরা পেশাগত দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ করতে গিয়ে স্থানীয় সাংবাদিকরা প্রতিনিয়ত হামলা-মামলা ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। এতকিছুর পরও মফস্বল সাংবাদিকতার গতি আজ অপ্রতিরুদ্ধ। আঞ্চলিক, জেলা-উপজেলা পর্যায় থেকে প্রকাশিত অনেক দৈনিক-সাপ্তাহিক পত্রিকার সম্পাদক বলিষ্ঠ সাংবাদিকতা করে তার এলাকায় শক্তিশালী ভীত রচনা করেছেন।
আর যে সংগ্রাম করে সে পরাজিত হলেও মন খারাপ করে না।