রূপপুর প্রকল্পে করোনার নমুনা সংগ্রহে অনিয়ম : ১১ প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন বাতিল

আপডেট: জুলাই ২৮, ২০২১, ৯:২১ অপরাহ্ণ

সেলিম সরদার, ঈশ্বরদী:


অব্যবস্থাপনা, অনিয়ম ও ভুল রিপোর্ট দেওয়ার অভিযোগে পাবনার ঈশ্বরদীস্থ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন প্রকল্প এলাকায় করোনাভাইরাস শনাক্তকরণ পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহের জন্য ১১টি মেডিকেল হাসপাতালের ক্যাম্প বন্ধ করা হয়েছে। পাবনার সিভিল সার্জন বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে এই ১১টি ক্যাম্পের করোনার নমুনা সংগ্রহ কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছেন। বুধবার (২৮ জুলাই) এ তথ্য নিশ্চিত করেন পাবনা সিভিল সার্জন ডা. মনিসর চৌধুরী। বন্ধ করে দেয়া ক্যাম্পগুলো হলো ঢাকার ফেমাস স্পেশালাইজড হাসপাতাল, ইউনিভার্সাল মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতাল, এএমজেড হাসপাতাল লিমিটেড, প্রাভা হেলথ বাংলাদেশ লিমিটেড, পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ডিএনএ সল্যুশন লিমিটেড, প্রাইম ডায়াগনস্টিক লিমিটেড ও ঢাকা সেন্ট্রাল ইন্টারন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতাল। এছাড়া ঢাকার বাইরে রয়েছে ইন্টারন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতাল গাজীপুর, টিএমএসএস মেডিক্যাল কলেজ বগুড়া এবং মডার্ন হসপিটাল কুমিল্লা।
সূত্র অনুযায়ি, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন প্রকল্পে দেশি ও বিদেশি মিলে প্রায় ২৮ হাজার শ্রমিক-কর্মচারি কাজ করেন। প্রতি মাসে করোনা পরীক্ষার নমুনা সংগ্রহের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনে দেশের ওই ১১টি হাসপাতা কর্তৃপক্ষ রূপপুর প্রকল্প এলাকায় ক্যাম্প স্থাপন করে কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। অভিযোগ রয়েছে এই ১১টি হাসপাতালের কোনোটিরই নমুনা পরীক্ষা করার ল্যাব ক্যাম্পে ছিল না। তারা শ্রমিকদের নমুনা সংগ্রহ করে বিভিন্ন পরিবহনের মাধ্যমে হাসপাতালে পাঠাতো। এরপর সেখান থেকে পরীক্ষার ফলাফল পাঠানো হতো। এজন্য শ্রমিকদের মোটা অংকের টাকাও দিতে হতো।
অভিযোগ রয়েছে নমুনা সংগ্রহকারী এসব হাসপাতালের ক্যাম্প সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে প্রকল্পে কর্মরত শ্রমিকদের নমুনা সংগ্রহ করছিল। এমনকি সংগৃহীত নমুনাগুলো ক্রুটিপূর্ণ টিউবে রাখা হতো। এই নমুনাগুলো যথাসময়ে পরীক্ষাগারে পৌঁছানোও হতো না। এ কারণে বেশির ভাগ নমুনার ভুল রিপোর্ট আসত।
রূপপুর প্রকল্পে (আরএনপিপি) কর্মরত কয়েকজন শ্রমিক জানায়, লাইনে গাদাগাদি করে দাঁড় করিয়ে শ্রমিকদের নমুনা সংগ্রহ করতো। করোনা হয়নি এমন অনেকের রিপোর্ট পাল্টে দেওয়া হতো। প্রায় সময়ই মনগড়া রিপোর্ট দেয়া হতো বলে তারা অভিযোগ করেন। এ কারণে প্রকল্প এলাকার আশপাশের গ্রামে করোনায় আক্রান্ত বেড়ে গেছে এবং অনেক মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়ে অথবা উপসর্গ নিয়ে মারা যাচ্ছেন।
পাবনা সিভিল সার্জন ডা. মনিসর চৌধুরী বলেন, আরএনপিপি এলাকায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে করোনার নমুনা সংগ্রহে নিয়োজিত ১১টি হাসপাতালের ক্যাম্প অনিয়ম, অব্যবস্থাপনায় করোনার নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এই ক্যাম্পগুলোর কার্যক্রম ২৬ জুলাই বিকেল থেকে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। তবে তিনি জানান, প্রকল্পের গ্রিনসিটি এলাকায় মলিকিউলার ল্যাব অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও নিউ গ্রিনসিটি হাসপাতাল রয়েছে। তাদের নিজস্ব পরীক্ষাকেন্দ্রও (ল্যাব) রয়েছে। আপাতত এ দুটি হাসপাতাল রূপপুর প্রকল্পে কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারিদের করোনার নমুনা সংগ্রহ করবে এবং পরীক্ষা শেষে ফলাফল জানাবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ