রূপপুর রেললাইন প্রকল্পের কারণে ভোগান্তির অবসান হলো ট্রেনযাত্রীদের

আপডেট: নভেম্বর ২৪, ২০২২, ১১:০৬ অপরাহ্ণ

সেলিম সরদার, ঈশ্বরদী :


ঢাকা, খুলনা, রাজশাহীসহ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ঈশ্বরদী হয়ে চলাচলরত ট্রেনগুলি ঈশ্বরদী স্টেশনে প্রবেশের আগে আউটার সিগন্যালে প্রতিবার ৩০ থেকে ৪০ মিনিট পর্যন্ত দাঁড় করিয়ে রাখা হতো। ১৯৮৫ সাল থেকে পুরনো পদ্ধতিতে ট্রেনগুলো চালানো হতো। পুরনো পদ্ধতিতে ট্রেন চলাচলের এই নিয়ম চালু থাকায় শত বছরের পুরনো পাবনার ঈশ্বরদী রেলওয়ে জংশন স্টেশন হয়ে চলাচলরত ২০টিরও অধিক ট্রেনের হাজার হাজার যাত্রীরা এই ভোগান্তি মেনেই চলাচল করতেন। অবশেষে দীর্ঘ ভোগান্তির অবসান হয়েছে। হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছেন ট্রেনযাত্রীরা। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ সেই পুরনো পদ্ধতির অবসান ঘটিয়ে সময়োপযোগী আধুনিক প্রযুক্তিতে বৃহস্পতিবার (২৪ নভেম্বর) থেকে ট্রেন চালানো শুরু করেছে। এর আগে বুধবার (২৩ নভেম্বর) কম্পিউটারাইজড নতুন পদ্ধতির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের রেললাইন প্রকল্পের কারণে এই নতুন পদ্ধতি চালু করায় অন্যান্য ট্রেনগুলোও চলবে নতুন পদ্ধতিতে।

বৃহস্পতিবার দিনভর যতগুলো ট্রেন ঈশ্বরদী হয়ে চলাচল করেছে তার সবগুলোই চলেছে নতুন নিয়মে। কোন ট্রেনকে আগের মত স্টেশনে প্রবেশের আগে ৩০-৪০ মিনিট ঠায় দাঁড়িয়ে থাকতে হয়নি।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, পশ্চিমাঞ্চলের পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ের আওতায় ঈশ্বরদী স্টেশনের সুইচকেবিনে রিলে-ইন্টারলকিং পদ্ধতিতে এতদিন সকল ট্রেন চলাচল করতো। সেই পদ্ধতি বাদ দিয়ে কম্পিউটারইজড পদ্ধতির আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে এখন থেকে সকল ট্রেন চলাচল করবে যাতে দুর দুরান্ত থেকে ঈশ্বরদী স্টেশনের আগে আউটার সিগন্যালে এসে কোন ট্রেনকে লাইন ক্লিয়ার পাওয়ার আশায় ঠায় দাঁড়িয়ে থাকতে না হয়।

বুধবার দুপুরে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) অসীম কুমার তালুকদার ঈশ্বরদী রেলওয়ে জংশন স্টেশনের সুইচ কেবিনে এসে এই পদ্ধতির উদ্বোধন উদ্বোধন করেন। এসময় একটি কেকও কাটেন রেল কর্মকর্তারা।

এ সময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের প্রধান প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক আসাদুল হক, পাকশী বিভাগীয় ব্যবস্থাপক শাহ সুফী নুর মোহাম্মদ, পাকশী বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন, পাকশী বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন, পাকশী বিভাগীয় যান্ত্রিক প্রকৌশলী (ক্যারেজ) মমতাজুল ইসলাম প্রমুখ।

পাকশী বিভাগীয় রেলের সংকেত ও টেলিযোগাযোগ প্রকৌশলী এম এম রাজিব বিল্লাহ বলেন, ‘পূর্বে যেটা ছিল, রিলে-ইন্টারলকিং পদ্ধতি, দীর্ঘদিনের পুরনো হওয়ার কারণে ওই পদ্ধতিতে ট্রেন চলাচল করতে নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হতো প্রতিদিন। এ কারনে রেলওয়ের ঈশ্বরদী-রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের রেললাইন প্রকল্পের আওতায় ঈশ্বরদী জংশন স্টেশনে নতুন করে কম্পিউটারইজড সিস্টেমে ট্রেন চালানোর পদ্ধতি চালু করা হলো।’

পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) অসীম কুমার তালুকদার বলেন, এতদিন ঈশ্বরদীতে রিলে-ইন্টারলকিং সিস্টেমে ট্রেন চলাচল করানো হতো। এতে ট্রেনগুলিকে ঈশ্বরদী স্টেশনে আসার আগে আউটারে দাঁড় করিয়ে রাখা হতো। লাইন ক্লিয়ার করতে নানা রকম সমস্যা হতো, বাধ্য হয়ে ট্রেনগুলিকে দাঁড় করানো ছাড়া কোন উপায় ছিলনা। এখন নতুন কম্পিউটারাইজড পদ্ধতিতে একটা বাটন চাপলে পুরো রেললাইন ক্লিয়ার হয়ে যাবে। ট্রেনগুলো সহজে চলাচল করবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ