রেনিটিডিনে ক্যান্সার সৃষ্টিকারী উপাদান স্বাস্থ্য বিভাগের ব্যাখ্যা কী?

আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৯, ২০১৯, ১:২৩ পূর্বাহ্ণ

অ্যাসিড নিঃসরণ প্রতিরোধসহ পেটের পীড়ার নানা উপসর্গের চিকিৎসায় বিশ্বজুড়ে বহুল প্রচলিত ওষুধ রেনিটিডিনের মধ্যে সম্ভাব্য ক্যান্সার সৃষ্টিকারী উপাদান পাওয়ার পর বেশ কয়েকটি দেশে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র স্যান্ডোজের তৈরি রেনিটিডিন ক্যাপসুলের মধ্যে ‘এন-নিট্রোসডিমিথাইলামাইন (এনডিএমএ)’ নামে পরিবেশ দূষণজনিত এ উপাদানের উচ্চমাত্রার উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়ার পর কোম্পানিটি তাদের এই ওষুধ বাজার থেকে তুলে নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
দুই সপ্তাহ আগে যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন সংস্থা (এফডিএ) ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রাথমিক পরীক্ষায় বেশ কিছু ব্র্যান্ডের রেনিটিডিনের মধ্যে এনডিএমএর উপস্থিতি পাওয়ার পর সতর্কতা জারি করা হয়।
তখন এই ওষুধের কোনো ব্র্যান্ডের মধ্যে এনডিএমএর ক্ষতিকর মাত্রা নিশ্চিত না হলেও সতর্কতা হিসেবে কানাডা, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি কোম্পানি রেনিটিডিন সরবরাহ বন্ধ করার ও বাজার থেকে তুলে নেয়ার ঘোষণা দেয়। এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন দৈনিক সোনার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।
ওষুধ রেনিটিডিনের ব্যাপারে শেসমূহ সতর্কতা জারি করলেও বাংলাদেশে এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য ও সতর্কবার্তার কথা জানা যায় নি।
পেটের সমস্যায় মূলত ব্যবহৃত হয় ওষুধ রেনিটিডিন। এই রেনিটিডিনের বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বিক্রি হওয়া ব্র্যান্ড হল জিনট্যাক। বহুল ব্যবহৃত এই ওষুধের প্রস্তুতকারক সংস্থা GSK বা গ্ল্যাক্সোস্মিথক্লাইনের। মার্কিন ফুড ও ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা FDA রেনিটিডিন সম্পর্কিত সতর্কতা জারি করেছিল।
রিপোর্ট অনুযায়ী রেনিটিডিনে সামান্য পরিমাণে NDMA-র খোঁজ পাওয়া গিয়েছে। এই NDMA থেকে ক্যানসার হওয়ার আশঙ্কা রয়ে যায়। তার ফলেই আপাতত জিনট্যাক বিক্রি বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। রেনিটাক এবং রেনিটাক-ওডিও রেনিটিডিন জাতীয় ওষুধ। এই ওষুধগুলিতে NDMA রয়েছে কি না, তা নিয়েও আতঙ্কিত প্রায় সকলেই। এই ওষুধগুলি বিক্রির ক্ষেত্রে আদৌ নিষেধাজ্ঞা জারি হবে কি না, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি।
সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী বাংলাদেশেও ধরনের পরামর্শপত্র ছাড়াই মানুষ নিজে থেকেই এই ওষুধ ব্যবহার করে থাকে। এখানে বিদেশি কোম্পানি স্যান্ডোজ ও গ্ল্যাক্সো স্মিথক্লাইনসহ অনেক দেশি কোম্পানির রেনিটিডিন বাজারে চললেও এবিষয়ে কারো কোনো বক্তব্য জানা যায়নি। তবে রেনিটিডিন নিয়ে মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য বিভাগের বক্তব্য আসা জরুরি। রেনিটিডিন বাংলাদেশের জন্য কতটুকু ঝুঁকিপূর্ণ কিংবা বাংলাদেশে রেনিটিডিনের বাজারজাত ও বিক্রির ব্যাপারে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার হওয়া বাঞ্ছনীয়।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ