রেলওয়ের সর্বত্র ধূমপানমুক্ত ঘোষণা তামাকের ব্যবহার বন্ধে সমন্বিত উদ্যোগ চাই

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২২, ১২:০৯ পূর্বাহ্ণ

৯ ফেব্রুয়ারি রেলভবনে মন্ত্রণালয়ের গৃহীত ‘ইনিশিয়েটিভ টু মেক বাংলাদেশ রেলওয়ে টোব্যাকো ফ্রি’ শীর্ষক প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রেলপথমন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন ঘোষণা দেন. রেলওয়ে স্টেশন, প্ল্যাটফর্ম এবং ট্রেনের কামরাসহ সব এলাকাকে ধূমপান ও তামাকমুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। কেউ আইন না মানলে শাস্তির আওতায় আনা হবে। এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন দৈনিক সোনার দেশ সহ দেশের বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত ও প্রচারিত হয়েছে।
রেলপথ মন্ত্রী উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যথার্থই বলেছেন, শুধু আইন করে ও প্রচারণা বাড়িয়ে ধূমপান ও তামাকের ব্যবহার বন্ধ করা সম্ভব নয়। তিনি তামাকের উৎস বন্ধ করার ওপর গুরুত্বরোপ করেছেন। রেলওয়েতে প্রকাশ্যে বিড়ি-সিগারেট খাওয়ার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা আছে। রেল ভ্রমণের শুরুতেই যাত্রী যাতে তামাক জাতীয় দ্রব্য নিয়ে ট্রেনে ভ্রমণ করতে না পারেন, সে ব্যাপারে উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। মাঠ পর্যায়ে এ্ পরিকল্পনা কার্যকর করার ব্যাপারেও মন্ত্রী প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
রেলপথ মন্ত্রীর এই ঘোষণা নিঃসন্দেহে সময়োপযোগী। কিন্তু মন্ত্রীর ঘোষণা প্রকৃতভাবে কতটুকু কার্যকর সম্ভব। এটা ঠিকই যে শুধু আইন করেই ধূমপান ও মাদকের ব্যবহার বন্ধ করা যাবে না। তবে এ কথাও ঢালাওভাবে বলা যায় না। আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করা গেলে প্রকাশ্যে ধূমপান করা এবং মাদকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই সম্ভব হয়। কিন্তু এ ক্ষেত্রে আইনের প্রয়োগ নেই বললেই চলে। নিয়মিত ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালিত হলে প্রকাশ্যে ধূমপানের দৌরাত্ম কমতে থাকে। তবে ‘ইনিশিয়েটিভ টু মেক বাংলাদেশ রেলওয়ে টোব্যাকো ফ্রি- প্রকল্পের উদ্দেশ্য হচ্ছে- শিশু, নারী, অসুস্থ ব্যক্তি, অন্তঃসত্তা নারীসহ অধূমপায়ী যাত্রীদের পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতি থেকে সুরক্ষা প্রদান, পানের পিক মুক্ত স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে রেল স্টেশন ও ট্রেনের অভ্যন্তরে পান- জর্দা, সাদাপাতার ব্যবহার নিষিদ্ধ করা। তামাক ও ধূমপানমুক্ত রেলওয়ে গড়ে তোলা এবং প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, ২০৪০ সালের মধ্যে তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এ প্রকল্প সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
আশাবাদী হওয়া যায়- যদি প্রকল্পের উদ্দেশ্য কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা যায়। ধূমপান করা ও মাদকদ্রব্য গ্রহণ করা মৃত্যুর সামিল এই ধারণাকে গুরুত্বের সাথে সাধারণ মানুষের চিন্তার মধ্যে আনা সম্ভব হলে ধূমপান ও মাদকমুক্ত পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে। একই সাথে তামাক চাষের ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা সময়ের দাবি। এটা ধূমপান ও তামাকমুক্ত পরিবেশের অন্তরায়।
অন্যদিকে শুধু রেলওয়েকে ধূমপান ও মাদকমুক্ত করলেই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে না। অন্যান্য স্থাপনাগুলোতে প্রকাশ্যে ধূমপান ও তামাক সেবন বন্ধ করতে হবে। যা আইনসিদ্ধও বটে। বিচ্ছিন্নভাবে ধূমপান ও তামাকের বিরুদ্ধে কার্যকর আন্দোলন কতটুকু ফলপ্রস্যু হবে সে ব্যাপারে সন্দেহ থেকেই যায়। কিন্তু সামগ্রিকভাবে সমন্বিত উদ্যোগ নিয়ে এগোতে পারলে উদ্দেশ্য সফল হওয়া সহজ হয়ে যায়। সেই পথেই আমাদের হাঁটতে হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ