রেলওয়ে সবজি পরিবহন করতে চায় উদ্যোগ যাতে থমকে না যায়!

আপডেট: নভেম্বর ১৯, ২০২১, ১২:৩৫ পূর্বাহ্ণ

তিব্র করোনা সংক্রমণকালীন বাংলাদেশ রেলওয়ে পণ্য পরিবহনে বিশেষ ট্রেন চালু করে রাজশাহী অঞ্চলের কৃষক ও ব্যবসায়ীদের অর্থনৈতিক বিপর্যয় থেকে রক্ষা করেছিল। বিশেষ করে পরটপর দুই মৌসুমের আম পরিবহণে এবং ইদুল আজহায় কোরবানির পশু পরিবহণের সুযোগ করে দিয়ে এ অঞ্চলের অর্থনীতিকে সচল রাখতে বিশেষ ট্রেন সহায়ক ভূমিকা রেখেছিল। এই উদ্যোগ বিভিন্ন মহলে প্রশংসিতও হয়েছিল। সেই দেখানো পথ ধরেই বাংলাদেশ রেলওয়ে চলতে চায়।
মধ্যস্বত্বভোগীর দৌরাত্ম্য ও পরিবহন খরচের কারণে বাড়ে সবজির দাম। আবার দীর্ঘ সময় ট্রাকে বস্তাবন্দি থাকায় মাঠ থেকে রান্নাঘর পর্যন্ত আসতে আসতেই গুণ হারায় অনেক সবজি। যানজটে পড়ে সবজি পচে যাওয়ার নজিরও অনেক। এসব ক্ষতি এড়াতে সরাসরি ট্রেনে সবজি পরিবহনের কথা উঠেছে কৃষকদের পক্ষ থেকে। সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে প্রস্তাব পেলে বিষয়টি নিয়ে এগোবে সরকার। এমনটাই জানিয়েছেন রেল কর্তৃপক্ষ। এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন দৈনিক সোনার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।
সুলভমূল্যে ও নিরাপদে পণ্য পরিবহনে পণ্যবাহী ট্রেনের গুরুত্বের কথা বলার অপেক্ষা রাখে না। এ ক্ষেত্রে সময় ও হয়রানির নিশ্চয়তা নিশ্চিত করা গেলে এই সার্ভিস গ্রহণযোগ্য ও জনপ্রিয় হবে সন্দেহ নেই। রাজশাহী অঞ্চল থেকে কৃষিপণ্য রাজধানী ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য অঞ্চলে সহজ ও সুলভ মূল্যে পরিবহণ করা গেলে এ অঞ্চলের কৃষক ও ব্যবসায়ীরা উপকৃত হবেন। সেই সাথে রেলওয়ের রাজস্ব আয়ও বৃদ্ধি পাবে। ট্রেনে কৃষিজাত পণ্য পরিবহন নিশ্চিতভাবে সড়কপথে পরিবহনের তুলনায় ব্যয় অনেকটাই কম হবে। এ ক্ষেত্রে রাজশাহী অঞ্চলের আমপরিবহনের উদাহরণ দেয়া যেতে পারে। রাজশাহী রেলওয়ের তথ্যমতে, কুরিয়ারে এক কেজি আম পরিবহনে চাষিদের খরচ যা হতো, রেলে তারচেয়ে অনেক কম হয়েছিল। ব্যবসায়ীরা বলছেন, সড়কপথের চেয়ে রেলপথে পণ্য পরিবহন বেশি নিরাপদ। জানা গেছে, ট্রেনে ঢাকায় এক কেজি আম পাঠাতে ১ টাকা ৩০ পয়সা খরচ হয়েছে। কুরিয়ারে লেগেছে ১২ টাকার বেশি। এ ছাড়া ট্রেনে আম বেশি সময় বাক্সবন্দি থাকে না বলে ক্ষতিও হয় না।
রেলওয়ের তথ্যমতে, ম্যাঙ্গো স্পেশাল ট্রেনে গত ২৭ মে থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত ২২ লাখ ৩৪ হাজার ৯২০ কেজি আম বহন করা হয়েছে। যেখান থেকে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে আয় করেছে প্রায় ২৬ লাখ ৩০ হাজার টাকা। কর্তৃপক্ষ বলছেন, একই সুবিধা পাওয়া যাবে সবজিতেও।
রাজশাহী অঞ্চলের কৃষি অর্থনীতি তথা গ্রামীণ অর্থনীতি রাজধানী ঢাকার সাথে সংযুক্ত করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ রেলওয়ের উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে। এ্ উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবেই সংশ্লিষ্ট সকল মহলকে দেখতে হবে। এটাকে প্রতিপক্ষ বানানোরও কোনো সুযোগ নেই। প্রতিযোগিতামূলক বাজারে দক্ষতা ও সক্ষমতা নিয়ে টিকতে হবে। এ ব্যাপারে রাজশাহী অঞ্চলের ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোকেই উদার মনে এগিয়ে আসতে হবে। বিশেষ করে এ অঞ্চলের চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। আমরা বাংলাদেশ রেলওয়ের উদ্যোগকে স্বাগত জানাই এবং একই সাথে এই যাতে মহলবিশেষের প্রচারনা কিংবা অসহযোগিতায় থমকে না যায়।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ