রেলপথে চাল আমদানির দাবি || সময় ও খরচ দুটো বাজবে, সংশ্লিষ্ট বিভাগকে উদ্যোগ নিতে হবে

আপডেট: জুলাই ১৯, ২০১৭, ১২:৪৩ পূর্বাহ্ণ

প্রতিবেশি দেশ ভারতে ট্রেন যোগাযোগ অনেক উন্নত। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশও পিছিয়ে নেই। বর্তমানে শেখ হাসিনা সরকারের দূরদর্শিতার কারণে বাংলাদেশেও রেলওয়ে ব্যাপক উন্নয়ন ঘটেছে। রেলওয়ের দুই বহন কাজ করে। একটি যাত্রী, অন্যটি পণ্য আনা-নেয়া। তবে রেলওয়ে যাত্রীদের ক্ষেত্রে বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। সে অনুযায়ী পণ্য নিয়ে আসার ক্ষেত্রে রেলওয়ে ততোটা জনপ্রিয় না। এক্ষেত্রটি রেলওয়ের জনপ্রিয়তা পেলে সরকারের আয় আরও বাড়বে। এজন্য আমদানিকারদের পাশাপাশি সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে আন্তরিক হতে হবে।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মালদহ ও  চাঁপাইনবাবগঞ্জের রহনপুর রেলপথে ট্রেনযোগে পাথর আমদানি করতে দেখা যায়। কিন্তু স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে যেসব পণ্য বেশি করে আমদানি করা হয়। সেগুলো পাথরের মতো করে এসব পথ দিয়ে আমদানি করা যেতে পারে। এতে করে সময় ও খরচ দুটোই বাজবে। তবে শুল্ক বিভাগের অনুমতি না থাকায় সহজ এই পথটি ব্যবহার করতে পারছেন না আমদানিকারকরা। এনিয়ে গতকাল সোনার দেশে ‘রেলপথে চাল আমদানির দাবি’-শিরোনামে একটি খবর বের হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, দেশে চালের সরবরাহ ঠিক রাখা ও দাম নিয়ন্ত্রণে আমদানি শুল্ক শূন্য করা হলেও স্থলবন্দরের মাধ্যমেই ভারত থেকে চাল আমদানি বাধ্যতামুলক করায় চাল পৌঁছাতে সময় বেশি লাগছে। বাংলাদেশের একাধিক আমদানিকারক জানিয়েছেন, ভারতীয় রফতানিকাররা মালদহ-রহনপুর আন্তঃদেশীয় রেলপথে ট্রেনযোগে  বাংলাদেশে চাল পাঠাতে আগ্রহী। এজন্য গত ১৬ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের বীরভুম জেলার জয়বাবা বক্রেশ্বর রাইস এজেন্সির মালিকসহ একাধিক ভারতীয় চাল রফতানিকারক বাংলাদেশি আমদানিকারকদের চিঠি লেখেন। চিঠিতে ভারতীয় রফতানিকারকরা বলেন, পশ্চিমবঙ্গ তথা ভারতের বিভিন্ন প্রদেশ থেকে তারা চাল সংগ্রহ করে বাংলাদেশে রফতানি করেন। আর সব চালই রফতানির জন্য বেনাপোল, ভোমরা, হিলি ও সোনামসজিদ স্থলবন্দর পথকে বেছে নিতে হয়। কিন্তু সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা বর্তমানে দুদেশেরই জটিল হওয়ায় ও আমদানি-রফতানির প্রক্রিয়া সময় সাপেক্ষ হয়ে উঠেছে। এছাড়া স্থলবন্দর পথে চাল পাঠাতে বিপুল খরচও হচ্ছে। এজন্য তারা মালদহ-রহনপুর আন্তঃদেশীয় রেলপথ দিয়ে চাল আনা-নেয়া হলে তারা দ্রুততম সময়ে বাংলাদেশে চাল পাঠাতে পারবেন। এতে খরচও তিন ভাগের এক ভাগ হবে।
এ ব্যাপারে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগকে যাচাই-বাছাই করে ট্রেনে করে চালসহ অন্য পণ্য ভারত থেকে নিয়ে আসা যায় কিনা ভাবতে হবে। কারণ দেশে ভিতরে চালের সরবরাহ ঠিক রাখা ও দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য সরকারি দফতরগুলোকে মনোযোগ দিয়ে কাজ করতে হবে। অনেক সময় অভিযোগ পাওয়া যায়, স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে আমদানিকারকদের হয়রানির শিকার হতে হয়। এক্ষেত্রে ট্রেনে চালসহ অন্য পণ্য আমদানি করা গেলে হয়রানি থেকেও মুক্তি পাবে আমদানিকারকরা। আবার সেইসাথে নির্ধারিত ফ্রি সরকারি খাতে জমা পড়বে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ