রেলপথে চাল আমদানির দাবি

আপডেট: জুলাই ১৮, ২০১৭, ১২:৫১ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


দেশে চালের সরবরাহ ঠিক রাখা ও দাম নিয়ন্ত্রণে আমদানি শুল্ক শূন্য করা হলেও স্থলবন্দরের মাধ্যমেই ভারত থেকে চাল আমদানি বাধ্যতামুলক করায় চাল পৌঁছাতে সময় বেশি লাগছে। চাল আমদানিকারকরা বলছেন, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মালদহ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের রহনপুর রেলপথে ট্রেনযোগে চাল আমদানি হলে সময় ও বহন খরচ দুটোই কমে আসবে। কিন্তু শুল্ক বিভাগের অনুমতি না থাকায় সহজ এই পথটি ব্যবহার করতে পারছেন না আমদানিকারকরা।
বাংলাদেশের একাধিক আমদানিকারক জানিয়েছেন ভারতীয় রফতানিকাররা মালদহ-রহনপুর আন্তঃদেশীয় রেলপথে ট্রেনযোগে বাংলাদেশে চাল পাঠাতে আগ্রহী। এজন্য গত ১৬ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের বীরভুম জেলার জয়বাবা বক্রেশ্বর রাইস এজেন্সির মালিকসহ একাধিক ভারতীয় চাল রফতানিকারক বাংলাদেশি আমদানিকারকদের চিঠি লেখেন। চিঠিতে ভারতীয় রফতানিকারকরা বলেন, পশ্চিমবঙ্গ তথা ভারতের বিভিন্ন প্রদেশ থেকে তারা চাল সংগ্রহ করে বাংলাদেশে রফতানি করেন। আর সব চালই রফতানির জন্য বেনাপোল, ভোমরা, হিলি ও সোনামসজিদ স্থলবন্দর পথকে বেছে নিতে হয়। কিন্তু সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা বর্তমানে দুদেশেরই জটিল হওয়ায় ও আমদানি-রফতানির প্রক্রিয়া সময় সাপেক্ষ হয়ে উঠেছে। এছাড়া স্থলবন্দর পথে চাল পাঠাতে বিপুল খরচও হচ্ছে। এজন্য তারা মালদহ-রহনপুর আন্তঃদেশীয় রেলপথ দিয়ে চাল আনা-নেয়া হলে তারা দ্রুততম সময়ে বাংলাদেশে চাল পাঠাতে পারবেন। এতে খরচও তিন ভাগের এক ভাগ হবে।
এদিকে বাংলাদেশের আমদানিকারক মেসার্স হোসেন এন্টারপ্রাইজের মালিক আকবর হোসেন বলেন, আমরাও চাই চালটা এখন সহজে ও কম খরচে দেশে আসুক। কিন্তু রহনপুর রেলস্টেশন মাস্টার তাদের জানিয়েছেন এই রেলপথে চাল আমদানিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অনুমতি নেই। চাল সরবরাহ নিশ্চিত ও মূল্য নিয়ন্ত্রণে মালদহ-রহনপুর রেলপথে চাল আমদানির অনুমতি দিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়ার আহ্বান জানান।
এদিকে রহনপুর রেলস্টেশন মাস্টার মির্জা কামরুল হক জানান, মালদহ-রহনপুর রেলপথে ভারত থেকে অনেক পণ্যের মধ্যে চাল আমদানির অনুমতি নেই। এছাড়া জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের প্রজ্ঞাপনে না করা হয়েছে। এজন্য তারা বোঝাই কোনো ট্রেন ঢুকাতে না করেছেন ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে। তবে তিনি বলেন, রহনপুর রেলপথটি ভারতের মালদহ জেলার সিঙ্গাবাদ রেলপথের সঙ্গে যুক্ত। এই পথে পাথরসহ আরো কিছু পণ্য আসতে পারে। কিন্তু চাল আসতে পারবে না। এখানে তাদের কিছু করার নেই।
এ ব্যাপারে যোগাযোগের চেষ্টা করেও রাজশাহী কাস্টমস ভ্যাট ও এক্সসাইজ কমিশনারেটের কমিশনারের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ