রেলের স্বেচ্ছায় অবসরগ্রহণকারী ১০ হাজার কর্মচারী আদালতের রায়ের বাস্তবায়ন চান

আপডেট: অক্টোবর ৩০, ২০১৬, ১২:২৩ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক
গোল্ডেন হ্যান্ডশেকের মাধ্যমে অবসরে যাওয়া বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রায় ১০ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী প্রায় ২০ বছরেও তাদের পাওনা বুঝে পান নি। হাইকোর্ট ছয় বছর আগে এসব বঞ্চিত কর্মকর্তা-কর্মচারীর পক্ষে রায় দিলেও রেল কর্তৃপক্ষ তাদের পাওনা বুঝে দিতে নানানভাবে গড়িমসি করছে। গতকাল শনিবার দুপুরে রাজশাহী প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এসব অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে রেলওয়ে স্বেচ্ছায় অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী পরিষদের সভাপতি কাজী মো. আনোয়ার হোসেন জানান, রেলেওয়ে আইন কর্মকর্তার গাফিলতির কারণে ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা। অনেক কর্মচারী অভাব অনটনে পড়েছেন। অনেকেই মানবেতর জীবনযাপন করছেন। ইতিমধ্যেই কেউ কেউ দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছেন।
আরো উল্লেখ করা হয়, ১৯৭২ থেকে বিভিন্ন সময়ে তারা রেলওয়ের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী হিসেবে যোগদান করেন। অনেকেই কর্মদক্ষতা বলে উচ্চতর পদে পদোন্নতি পেয়ে নিষ্ঠার সাথে কাজ করেন। ১৯৯১-৯২ সালে তৎকালীন সরকার স্বেচ্ছায় অবসর স্কিম (গোল্ডেন হান্ডশেক) চালু করলে প্রায় ১০ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী একযোগে অবসর গ্রহণ করেন। অথচ তারা সরকার প্রতিশ্রুতি অবসরকালীন আর্থিক সুবিধা আজও পাননি। ন্যায্য পাওনা চেয়ে তারা বিভিন্ন সময় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন, এমনকি উচ্চ আদালতে ছয়টি রিট মামলা করেন। ২০১০ সালের ২২ এপ্রিল হাইকোর্ট রায় ঘোষণা করেন। রায়ে তাদের আর্থিক এবং অন্যান্য সুবিধা দুই মাসের মধ্যে নির্দেশ প্রদান করা হয়। তা সত্ত্বেও পাওনা না পেয়ে কর্মচারীরা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা করেন।
রেলওয়ে স্বেচ্ছায় অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন, রফিকুল ইসলাম, সোলায়মান, রফিকুল ইসলাম, চান্দ আলি খন্দকার, আবুল কাদের ছাড়াও সংগঠনের অন্যান্য সদস্য সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।