রোজার আগেই লাগামহীন পণ্যের দাম

আপডেট: মার্চ ১, ২০২৪, ১১:৪৩ অপরাহ্ণ


নিজস্ব প্রতিবেদক:রমজান মাস আসন্ন। রোজায় অন্যান্য দেশে সবকিছুর দাম কমলেও এ দেশে সব কিছুর দাম বাড়তেই থাকে। বাজারে মাছ, মাংস, মুরগি ও সবজিসহ বেড়েছে প্রায় সবপণ্যের দাম। তবে কমেছে আলু ও ডিমের দাম। সব মিলিয়ে বাজারে বাড়তি দামের ছোঁয়া লেগেছে।

শুক্রবার (১ মার্চ) রাজশাহী নগরীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সবজি থেকে শুরু করে মাছের বাড়তি দাম যাচ্ছে। একই সাথে বেড়েছে ডাল, বেসন, খেজুরের মতো পণ্যের দাম। খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, সপ্তাহ দুয়েকের মধ্যে এই দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। বেশি দামে কিনে নিয়ে আসতে হচ্ছে প্রতিটি পণ্য।

রোজার আগেই নগরীর বিভিন্ন মুদিখানার দোকার ঘুরে দেখা গেছে, মসুরের ডাল বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকা কেজি, খেসারির ডাল ১১০ টাকা কেজি, মুগ ডাল ১৬০ টাকা,অ্যাংকর ডাল, ৮০, মটর ৮০, ছোলা ১০০ টাকা, বেশন ১০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। সপ্তাহ দুয়েক আগ থেকে এসব ডালের দাম কেজিতে বেড়েছে ২০ থেকে ৩০ টাকা করে।

এছাড়া খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকা লিটার, পাম তেল ১২৫ টাকা লিটার। চিনি বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকা কেজি, আটা ৪২ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
এছাড়া দাম বেড়েছে খেজুরের। ব্যবসায়ীরা বলছেন, কয়েকদিনের মধ্যে আরও বাড়বে খেজুরের দাম। বাজারে দেখা গেছে, বিভিন্ন নামে বিক্রি হচ্ছে খেজুর। জিহাদী বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা কেজি, আদম ৬০০ টাকা, দাবাস, ৫০০ টাকা সাফারি ৮০০ টাকা, সুল্লামা ৮০০ টাকা, তিওমি ৫০০ টাকা, মরিয়ম ৯০০ টাকা, কলমি ৬০০ টাকা কেজিতে।

কাঁচাবাজারে প্রতি কেজি শিম বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়, শসা প্রতি কেজি ৮০ টাকায়, মুলা প্রতি কেজি ২০ টাকায়, ঝিঁঙে প্রতি কেজি ৬০ টাকায়, পেঁয়াজের ফুল প্রতি কেজি ৫০ টাকায়, বেগুন প্রতি কেজি ৪০ টাকায়, পেঁপে প্রতি কেজি ৩০ টাকায়, লাউ প্রতি পিস ৪০, মিষ্টি কুমড়া প্রতি কেজি ৩০ টাকায়, টমেটো প্রতি কেজি ৫০ টাকায়, ফুলকপি ২০ টাকা, আলু প্রতি কেজি ২৫ টাকায়, কাঁচা মরিচ প্রতি কেজি ৮০, মটরশুঁটি প্রতি কেজি ৮০ টাকায়, গাজর প্রতি কেজি ৪০ টাকায় ও শিমের বিচি ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

রোজার আগেই বাজারে সব ধরনের মাছের দাম বাড়তি যাচ্ছে পাঙাশ মাছ প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২২০ টাকায়, তেলাপিয়া প্রতি কেজি ২২০ থেকে ২৪০ টাকায়, চাষের কই প্রতি কেজি ৩০০ টাকায়, রুই প্রতি কেজি ৩২০ থেকে ৩৫০ টাকায়, কাতলা মাছ প্রতি কেজি ৩২০ থেকে ৩৫০ টাকায়, পাবদা প্রতি কেজি মানভেদে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায়, চাষের শিং মাছ প্রতি কেজি ৪৮০ থেকে ৫০০ টাকায়, দেশি ছোট কই প্রতি কেজি ৬০০ থেকে ৭০০ টাকায়, শোল মাছ একটু বড় সাইজের প্রতি কেজি ৯০০ টাকায়, চিংড়ি প্রতি কেজি ৮০০ টাকায়, বোয়াল প্রতি কেজি ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায় ও টেংরা মাছ ছোট সাইজের প্রতি কেজি ৫০০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

রোজার আগেই গরুর মাংস কেজি ৭৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সেই সঙ্গে খাসির মাংস প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১১০০ টাকায়। গরুর মাংসের পাশাপাশি ব্রয়লার মুরগির দাম বেড়ে প্রতি কেজি ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া, সোনালি মুরগি ও কক মুরগিরও দাম বেড়ে প্রতি কেজি ৩২০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।

সাপ্তাহিক ছুটির দিনে বাজারে বাজার করতে এসেছেন চাকরিজীবী আহমেদ উল্লাহ। তিনি বলেন, অন্যান্য দেশে শুনেছি রোজা এলে সবকিছুর দাম কমিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু আমাদের দেশে ঘটে উল্টোটা। রোজা আসলে বেড়ে যায় সবকিছুর দাম। বাজারে সবজির দাম থেকে শুরু করে মাছ-মাংসসহ অন্যান্য প্রায় সবকিছুর দামই বাড়তি দেখলাম।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ