রোনালদোর হ্যাটট্রিকে ক্লাব বিশ্বকাপ রিয়ালের

আপডেট: ডিসেম্বর ১৯, ২০১৬, ১২:০৫ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক



দারুণ লড়লো জাপানের কাশিমা অ্যান্টলার্স। তবে শেষ পর্যন্ত পার্থক্য গড়ে দিলেন ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো। পর্তুগিজ এই তারকা ফরোয়ার্ডের হ্যাটট্রিকে দ্বিতীয়বারের মতো ক্লাব বিশ্বকাপ জিতল রিয়াল মাদ্রিদ। গতকাল রোববার জাপানের ইয়োকোহামায় অতিরিক্ত সময়ে গড়ানো রোমাঞ্চকর ম্যাচে ৪-২ গোলে জিতেছে টানা ৩৭ ম্যাচ অপরাজিত থাকা জিনেদিন জিদানের দল। নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষ হয়েছিল ২-২ সমতায়।
বলের সিংহভাগ দখল রেখে আক্রমণ চালিয়ে ম্যাচের নবম মিনিটেই এগিয়ে যায় রিয়াল। ডি-বক্সের মাথা থেকে লুকা মদ্রিচের ভলি গোলরক্ষক হিতোশি সোগাহাতা ঠেকালেও বল এসে পড়ে ঠিক করিম বেনজেমার পায়ে। এত সহজ সুযোগ হাতছাড়া করেননি ফরাসি স্ট্রাইকার; বলটা ঠেলে দেন জালে। দুই মিনিট পর সুযোগ তৈরি করেছিল স্বাগতিকরাও। কাশিমা অধিনায়ক মিতসুও ওগাসায়ারার দূরপাল্লার শট ক্রসবারের সামান্য উপর দিয়ে যায়।
এরপর কেবল রিয়ালের আক্রমণ আর কাশিমার ঠেকিয়ে যাওয়া। তবে প্রথমার্ধের শেষ দিকে  ধারার বিপরীতেই সমতা ফেরায় জে লিগ চ্যাম্পিয়নরা। বাঁ দিক থেকে আসা ক্রসে বল পা দিয়ে নামিয়ে ভলিতে দূরের পোস্ট দিয়ে নাভাসকে ফাঁকি দেন গাকু শিবাসাকি।
প্রথম গোলটি যদি দর্শনীয় হয় তবে ৫২তম মিনিটে ১০ নম্বর জার্সি পরা শিবাসাকির দ্বিতীয় গোলটি তো অসাধারণ। রামোস বল ঠিকমতো বিপদমুক্ত করতে না পারায় বল পেয়ে সামনে থাকা তিন জনকে ফাঁকি দিয়ে দুর্দান্ত শটে বল জালে পাঠান এই ফরোয়ার্ড। গর্জে উঠে ইয়োকোহামা আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামের ৬৮ হাজার ৭৪২ জন দর্শকের সিংহভাগ।
পিছিয়ে পড়ে চমকে যাওয়া রিয়ালের সমতায় ফিরতে অবশ্য বেশি সময় লাগেনি। ৬০তম মিনিটে স্নায়ুর চাপ সামলে নিখুঁত স্পটকিক নেন রোনালদো। ডি-বক্সে ভাসকেসকে ফেলে দেওয়া হলে পেনাল্টির বাঁশি বাজিয়েছিলেন রেফারি।
পরের মিনিটেই এগিয়ে যেতে পারতো রিয়াল। বল নিয়ে সামনে এগিয়ে ফাঁকায় থাকা বেনজেমাকে বল না দিয়ে শট নেন রোনালদো; গোলরক্ষক ঠেকান কর্নারের বিনিময়ে। ৬৫তম মিনিটে বেনজেমার নীচু ক্রসে মার্সেলোর নীচু শট ঠেকিয়ে আবারও ত্রাতা গোলরক্ষক সোগাহাতা। সাত মিনিট পর বেনজেমার জোরালো শটও ঠেকান তিনি। ৮০তম মিনিটে রোনালদোর হেড লক্ষ্যে থাকেনি। পরের মিনিটে ডি-বক্সের ভেতর থেকে তার জোরালো শট ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক।
নির্ধারিত সময়ের শেষ পাঁচ মিনিট অবশ্য ঘুরে দাঁড়িয়ে একের পর এক আক্রমণ করে কাশিমা। ৮৮তম মিনিটে ফাব্রিসিয়োর জোরাল শট লাফিয়ে ক্রসবারের উপর দিয়ে পাঠান নাভাস। পরের মিনিটেও দলের ত্রাতা কোস্টা রিকার এই গোলরক্ষক। যোগ করা সময়ের শেষ সুযোগটা কাশিমারই। কাছ থেকে ইয়াসুশি এনদোর শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ায় খেলা গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। অতিরিক্ত সময়ে আর ইউরোপ চ্যাম্পিয়নদের আর ঠেকিয়ে রাখতে পারেনি স্বাগতিকরা।
৯৮তম মিনিটে ডি-বক্সে বেনজেমার বাড়ানো বল প্রথম ছোঁয়ায় নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বাঁ পায়ের নীচু শটে গোলরক্ষককে ফাঁকি দেন রোনালদো। এরপর কর্নার ফ্ল্যাগের কাছে গিয়ে লাফিয়ে দুই হাত দুই পাশে দিয়ে চিরচেনা সেই উদযাপন চার বারের বর্ষসেরা এই ফুটবলারের।
তিন মিনিট পর রিয়ালের ত্রাতা ক্রসবার। খুব কাছ থেকে সুজুকির হেড নাভাসকে ফাঁকি দিলেও তাই জাল খুঁজে পায়নি।
১০৪তম মিনিটে আসে রোনালদোর হ্যাটট্রিক। ২০ গজ দূর থেকে টনি ক্রুস ঠিকমতো শট নিতে পারেননি। রোনালদো বল নিয়ন্ত্রণে নিয়েই দুর্দান্ত শটে জয় নিশ্চিত করে দেন।
ক্লাব বিশ্বকাপের ফাইনালে এই প্রথম হ্যাটট্রিক করলেন কোনো খেলোয়াড়। পেলেন টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারও।
ক্লাব বিশ্বকাপের শিরোপা সবচেয়ে বেশিবার জিতেছে বার্সেলোনা, ২০০৯, ২০১১ ও ২০১৫ সালে। দ্বিতীয় শিরোপা জিতে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে ব্যবধান কমালো এর আগে ২০১৪ সালে জেতা রিয়াল।
রোনালদোর অবশ্য তিনবার ট্রফিতে চুমু দেওয়া হয়ে গেল। ম্যানচেস্টার ইউনাইটের হয়ে ২০০৮ সালেও একবার শিরোপা জিতেছিলেন পর্তুগালের এই তারকা।
রিয়ালের দায়িত্ব নেওয়ার পর চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, উয়েফা সুপার কাপের পর ক্লাব বিশ্বকাপের শিরোপাও জেতা হয়ে গেল জিদানের। তিনটিতেই ম্যাচ গড়িয়েছে অতিরিক্ত সময়ে!
আগের ম্যাচে মেক্সিকোর ক্লাব আমেরিকাকে টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে হারিয়ে তৃতীয় হয়েছে কলম্বিয়ার আতলেতিকো নাসিওনাল।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ