রোপা আমনে বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা

আপডেট: নভেম্বর ১, ২০১৬, ১২:১৪ পূর্বাহ্ণ


বুলবুল হাবিব
রাজশাহীতে শুরু হয়েছে রোপা আমন ধান কাটা-মাড়াইয়ের উৎসব। ধান কাটা মাড়াই নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষকরা। সময়মত বৃষ্টি হওয়ায় এবং আবহাওয়া ফসল উৎপাদনের অনুকূলে থাকায় আশানুরূপ ফসল উৎপাদনের আশা করছেন তারা। এছাড়া ধানের দাম ভালো থাকায় লাভের স্বপ্ন দেখছেন কৃষকরা।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরও জানিয়েছে, এবছর রোপা আমন উৎপাদনের জন্য সময়মত বৃষ্টি হয়েছে এবং আবহাওয়া অনুকূলে ছিলো। এছাড়া ফসলে কোনো ধরনের পোকামাকড়ের আক্রমণ না থাকায় উৎপাদন ভালো হবে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
কৃষি সম্প্রসারণ সূত্রে জানা গেছে, এবছর রাজশাহীতে রোপা আমনের মোট লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭০ হাজার ২৪ হেক্টর। চাষাবাদ হয়েছে ৭৫ হাজার ৩৩০ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি পরিমাণ জমিতে রোপা আমন চাষাবাদ হয়েছে গোদাগাড়ীতে। গোদাগাড়ীতে মোট ২৫ হাজার ৩৯৫ হেক্টর জমিতে রোপা আমন চাষাবাদ হয়েছে। এর পরে রয়েছে তানোর। তানোরে মোট ২১ হাজার ৭৫০ হেক্টর জমিতে ধান চাষ করা হয়েছে। পবায় ৮ হাজার ৯৭৫ হেক্টর জমিতে, পুঠিয়ায় ৫ হাজার ৬৬০ হেক্টর, দুর্গাপুরে ৪ হাজার ৯৮০ হেক্টর, চারঘাটে ৪ হাজার ২৯০ হেক্টর, মোহনপুরে ২ হাজার ৩৮০ হেক্টর, বাঘায় ১ হাজার ৪৫ হেক্টর, বাগমারায় ৮২০ হেক্টর, মতিহারে ২৫ ও বোয়ালিয়া এলাকায় ১০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন চাষাবাদ করা হয়েছে।
রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপসহকারী কৃষি অফিসার মো. সাইফুল্লাহ জানান, ‘সবেমাত্র ধান কাটামাড়াই শুরু হয়েছে। মোট ধানের ৫ থেকে ১০ শতাংশ কর্তন করা হয়েছে। এতেই দেখা গেছে হেক্টর প্রতি তিন দশমিক শূন্য সাত মেট্রিক টন ধান উৎপাদন হচ্ছে। তবে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ ধান কর্তনের পর উৎপাদন কেমন হচ্ছে তার মোটামুটি পরিমাপ করা যাবে।
রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক দেব দুলাল ঢালী জানান, ‘সময়মত বৃষ্টি ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ধানের উৎপাদন ভালো হবে বলে আশা করা যায়। আমি নিজে কৃষকদের সামনে উপস্থিত থেকে ক্রপ কাটিং করে দেখেছি বিঘাপ্রতি প্রায় ১৮ মণ করে ধান উৎপাদন হচ্ছে। তবে শুরুতে ফলন কিছুটা কম হলেও পরের দিকে ধানে ফলন বাড়তে দেখা যায়।’
দেব দুলাল ঢালী জানান, ‘গত দুই তিন বছর ধরে রোপা আমন ধানে ‘বাদামী গাছ ফড়িং’ নামে এক ধরনের পোকা ধানের সমূহ ক্ষতি করেছে। কিন্তু এবছর ধানে কোনো পোকা না লেগে যেন কোনো ধরনের ক্ষতি করতে না পারে এইজন্য ধান চাষাবাদের শুরু থেকেই কৃষক সমাবেশ করে কৃষকদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেয়া হয়েছে। আমি নিজেই সন্ধ্যার পর এরকম ১০/১৫টির মতো কৃষকদের ডেকে সভা করেছি। কৃষকদের বলেছি আপনার নিজেরা মাঠে যান। কোনো ধরনের সমস্যা দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে আমাদের কৃষি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
তানোরে প্রতিবছরের মতো এবারও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা থেকে ধান কাটা-মাড়াইয়ের জন্য শ্রমিক আসতে শুরু করেছেন। এসব শ্রমিক ও স্থানীয় আদিবাসী নারী-পুরুষরা মিলে ধান কাটা-মাড়াই নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
উপজেলায় চলতি বছর কৃষকরা স্বর্ণা জাতের ধানের চাষ বেশি করেছেন। এদের মধ্যে রয়েছে সুমন স্বর্ণা, গুটি স্বর্ণা ও সাদা স্বর্ণা। কৃষকরা জানিয়েছেন, বিঘাপ্রতি ১৮ থেকে ২০ মণ করে ফলন হচ্ছে এসব জাতের ধান। যা গত বছরের তুলনায় বিঘাপ্রতি ৫ মণ করে ফলন বেশি হচ্ছে। এদিকে উপজেলার সব হাটে কেনাবেচার জন্য উঠতে শুরু করেছে নতুন ধান। বিক্রি হচ্ছে মণ প্রতি ৬৫০ থেকে ৭৫০ টাকা দরে। কৃষকরা বলছেন, চলতি বাজারদর বজায় থাকলে উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে লাভ হবে।
উপজেলার চিমনা গ্রামের কৃষক হাবিবুর রহমান জনান, গত বছরের তুলনায় এ বছর ধানের ফলন ভালো হচ্ছে। ধানের দামও ভালো রয়েছে। কৃষ্ণপুর গ্রামের কৃষক আব্দুর রাজ্জাক জানান, গত ২৪ অক্টোবর থেকে আমার প্রজেক্টে ধান কাটা-মাড়াই শুরু করেছি। গতবছরের চেয়ে এবছর ধানের ফলন বেশি হচ্ছে।
মোহনপুরের ঘাসিগ্রাম, বেলনা, গোছাহাট, আথরায়, শ্যামপুর, বিদিরপুর, চক আলম, মরমইল, আমরাইল, শিবপুর, কুঠিবাড়ি, মেলান্দি, বাদেজুল, বিষহারাসহ অনেকস্থানে রোপা আমন চাষ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে এসব অঞ্চলে শুরু হয়েছে ধান কাটা-মাড়াইয়ের উৎসব।
উপজেলার গোছা গ্রামের কৃষক মিজানুর রহমান জানান, চলতি মৌসুমে তিনি প্রায় ১২ বিঘা জমিতে আমন ধানের চাষ করেছেন। প্রতিটি জমিতে ধানের উৎপাদন ভালো হয়েছে। আশা করছি বিঘাপ্রতি জমিতে প্রায় ২০ মণ হারে ধানের ফলন হবে। বাজারে ধানের দামও ভালো রয়েছে। এছাড়াও গোখাদ্য এবং পান বরজে ব্যবহারের জন্য আউড়ের খুব ভালো দাম থাকায় ভালো লাভ হবে বলে আশা করছেন তিনি।