রোমাঞ্চ নিয়ে এসেক্সে যাচ্ছেন তামিম

আপডেট: জুলাই ৭, ২০১৭, ১২:৩১ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


প্রস্তাব পেয়েছিলেন কার্ডিফে। সময় চেয়েছিলেন ভাবার জন্য। দেশে ফিরে কথা বলেছেন পরিবারের সঙ্গে। নিয়েছেন সিদ্ধান্ত। এরপর ভিসার আবেদন, বিসিবির কাছে অনাপত্তিপত্র চাওয়া। সব আনুষ্ঠানিকতা আপাতত শেষ। টি-টোয়েন্টি ব্লাস্টে এসেক্সের হয়ে খেলতে শুক্রবার সকালে ইংল্যান্ডের উদ্দেশে উড়াল দিচ্ছেন তামিম ইকবাল।
কদিন আগেই ইংল্যান্ডে দুর্দান্ত ব্যাটিং করে এসেছেন চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে। ওই টুর্নামেন্টে ব্যাটিং দেখেই মূলত তামিমকে প্রস্তাব দিয়েছিল এসেক্স। এমন প্রস্তাবে ‘না’ বলার কারণ নেই। জাতীয় দলের ব্যস্ততা না থাকলে ইংলিশ কাউন্টির হয়ে খেলা অনেক ক্রিকেটারেরই স্বপ্ন। তামিম তবু ভাবার সময় নিয়েছিলেন নিজের শরীরের কথা ভেবে।
অনুশীলন ক্যাম্প ও মূল টুর্নামেন্ট মিলিয়ে ইংল্যান্ডে প্রায় দুই মাস কাটিয়ে এসেছেন। আগস্টের মাঝামাঝি বাংলাদেশে চলে আসার কথা অস্ট্রেলিয়ার। এরপর দক্ষিণ আফ্রিকা সফর, বিপিএল। জানুয়ারিতে আসবে শ্রীলঙ্কা। ফেব্রুয়ারিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর, মার্চে শ্রীলঙ্কায় ত্রিদেশিয় টি-টোয়েন্টি সিরিজ। ব্যস্ত মৌসুমের আগে শরীরটাকে একটু ক্ষান্তি দেওয়ার সুযোগ ছিল এই সময়টুকুই। মানসিক ক্লান্তি ও অবসাদের ঝুঁকি তো আছেই।
নিজের সঙ্গে বোঝাপড়া আর পরিবারের সঙ্গে কথা বলতেই একটু সময় নিয়েছিলেন তামিম। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানালেন, সব দিক ভেবেই শেষ পর্যন্ত রাজি হয়েছেন। “শরীরকে বিশ্রাম দেওয়ার ব্যাপার তো ছিলই, সঙ্গে মানসিক ক্লান্তিটা নিয়েই বেশি ভেবেছি। এমনিতেই পরিবার থেকে অনেক দিন দূরে ছিলাম। সামনেও অনেক সফর আছে। তবে শেষ পর্যন্ত ভেবে দেখলাম যে, এমন সুযোগ সবসময় নাও আসতে পারে। এটি হাতছাড়া করা ঠিক হবে না। সত্যি বলতে যতই ভাবি, যাওয়ার ব্যাপারে সবসময় পজিটিভই ছিলাম। সুযোগটি নিয়ে যথেষ্ট রোমাঞ্চিতও আমি।”
পরিবার দূরে না থাকার সহজ সমাধান তো আছেই। এমনিতে খেলার সময় কাছের মানুষদের কাছে রাখতে চান না তামিম। তবে জাতীয় দলের খেলা নয় বলেই এবার সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছেন স্ত্রী ও ছেলেকে।
ইংল্যান্ডের ঘরোয়া টি-টোয়েন্টিতে তামিমের এটি দ্বিতীয় অভিযান। ২০১১ সালে নটিংহ্যামশায়ারে খেলেছিলেন পাঁচটি ম্যাচ। এবার প্রাথমিকভাবে চুক্তি হয়েছে নয়টি ম্যাচ খেলার জন্য। টি-টোয়েন্টি ব্লাস্টে শুক্রবারই নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলবে এসেক্সে, সারের বিপক্ষে।
দ্বিতীয় ম্যাচ রোববার। কেন্টের বিপক্ষে সেই ম্যাচ দিয়েই হয়ত শুরু হবে তামিমের এসেক্স অধ্যায়। ৪ অগাস্ট হ্যাম্পশায়ারের বিপক্ষে হওয়ার কথা তার নবম ম্যাচ। আপাতত অনাপত্তিপত্র পেয়েছেন অগাস্টের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্তই। এরপরও যদি তামিমকে রাখতে চায় এসেক্স, সেটি নির্ভর করছে কোচ চন্দিকা হাথুরুসিংহের চাওয়ার ওপর। অস্ট্রেলিয়া সিরিজের প্রস্তুতি ততদিনে পুরোদমে শুরু হওয়ার কথা। সময় পরে বাড়ানো হোক বা না হোক, আপাতত একটু লম্বা সময়ের জন্য সুযোগ পেয়েছেন এবার, সেটি নিয়েই বেশ রোমাঞ্চিত তামিম। “আগেরবার চার-পাঁচটি ম্যাচ ছিল। এবার সময়টা বেশি পাচ্ছি, ম্যাচ বেশি পাব। ভালো করার চেষ্টা থাকবে অবশ্যই। আর অবশ্যই চেষ্টা করব ট্রেনিংটা ঠিকঠাক করতে। এখানে থাকলে যে ট্রেনিং আমি করতাম, সেটায় যেন ওখানে গিয়ে ঘাটতি না থাকে। দেশে সবাই ফিটনেস ক্যাম্প করবে। আমার ফিটনেসটাও যেন ভালো থাকে।” কাউন্টি দলে খেলা মানে শুধু পারফরম্যন্সই শেষ কথা নয়। ওখানকার পেশাদারিত্ব, আবহ, ক্রিকেট সংস্কৃতি – শেখার সুযোগ আছে সবকিছু থেকেই। তামিম চান সবকিছু থেকেই নিজেকে আরও সমৃদ্ধ করে ফিরতে। “মূলত অভিজ্ঞতা নেওয়ার জন্যই আমার যাওয়া, ভালো খেলি আর খারাপ খেলি। ভালো তো অবশ্যই খেলতে চাইব। ওরা আমাকে ভালো খেলার জন্যই নিয়েছে। তবে পাশাপাশি আমার লক্ষ্য ওখানকার পরিবেশ, আবহ, সংস্কৃতি সবকিছুর অভিজ্ঞতা নেওয়া। যতটা পারি শিখতে চাই।” এই শেখার চেষ্টায় কখনোই কমতি রাখতে চান না তামিম। যখনই সুযোগ পান, বর্তমান-সাবেক ক্রিকেটার বা কোচদের সঙ্গে কথা বলেন ব্যাটিং নিয়ে। এসেক্সেও তেমনি খেলেন বিশ্ব ক্রিকেটের বড় এক নাম, অ্যালেস্টার কুক। দুজনই বাঁহাতি ওপেনার। গত কিছুদিনে যেটি তামিমের ব্যাটিং দর্শন, লম্বা সময় উইকেটে থাকা, সেটি কুকের চেয়ে ভালো পারেন কম জনই। কুক যদিও ব্যস্ত থাকবেন দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে, তবু সান্নিধ্য পাওয়ার আশা নিয়ে যাচ্ছেন তামিম। “যাওয়ার পর আরও অনেক কিছুই নিশ্চয়ই হতে পারে। অ্যালেস্টার কুক যদিও টি-টোয়েন্টি খেলে না, এখন টেস্ট সিরিজ নিয়ে ব্যস্ত। তার পরও এসেক্সের যেহেতু, দেখা হয়ত হবেই। অবশ্যই সুযোগ পেলে ব্যাটিং নিয়ে কথা বলব। ১০ হাজার রান করেছে, লম্বা সময় ব্যাট করে, এত সফল ওপেনার। ওর সঙ্গে কথা বলার অপেক্ষায় থাকব।” কুকের অপেক্ষায় থাকবেন তামিম, দেশের ক্রিকেট অপেক্ষায় থাকবে তামিমের। আরও সমৃদ্ধ হয়ে ফিরবেন, আরও আলোকিত করবেন দেশের ক্রিকেটকে!-বিডিনিউজ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ