রোহিঙ্গাদের হাতে মোবাইল সিম দিতে বারণ

আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৪, ২০১৭, ১২:৩৮ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


শরণার্থী হিসেবে বাংলাদেশে থাকা রোহিঙ্গারা আপাতত কোনো মোবাইল সিম কিনতে পারবেন না; তাদের হাতে সিম তুলে দেওয়াও অপরাধ হিসেবে ধরা হবে বলে সতর্ক করেছে সরকার।
তবে মানবিক কারণে যোগাযোগের জন্য শরণার্থী শিবিরে টেলিটকের বুথ করে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম।
রাখাইন রাজ্যে দম-পীড়নের শিকার হয়ে বাংলাদেশে আসা ৪ লাখ রোহিঙ্গা রয়েছেন কক্সবাজারের উথিয়ায় আশ্রয় কেন্দ্রে।
তাদের অন্য জেলায় ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে পুলিশ সক্রিয় রয়েছে। এবার টেলিযোগাযোগ বিভাগ থেকেও সতর্কতামূলক পদক্ষেপের কথা জানানো হল।
শনিবার টেলিযোগায়োগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি কার্যালয়ে ‘মিয়ানমান থেকে বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মোবাইল সিম বিক্রয় নিয়ন্ত্রণ বা মনিটরিং সংক্রান্ত সভা’ হয়।
তারানা হালিম সাংবাদিকদের বলেন, “সরেজমিনে দেখা গেছে, রোহিঙ্গা শরণার্থীরা মোবাইল হ্যান্ডসেট ও সিম ব্যবহার করছেন। আমরা জানি বায়োমেট্রিক নিবন্ধন ছাড়া এই সিম অ্যাকটিভ থাকার কথা নয়, কিছু ব্যক্তি অর্থের লোভে তাদের নিজের নামে থাকা নিবন্ধিত সিম বিক্রি করেছেন রোহিঙ্গা শরণার্থীর কাছে, যেটি একটি অপরাধ।”
রোহিঙ্গাদের হাতে থাকা সিম শনাক্তের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
“১ জুলাই থেকে কোন কোন সিম অ্যাকটিভ হয়েছে, তার একটি ডেটা নেওয়া হবে। কোন কোন রিটেইলাররা সেখানে আছেন, তাদের তালিকা আছে, এসব ধরে অগ্রসর হলে সিমের সংখ্যা পরিষ্কার হয়ে যাবে।”
রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বাংলাদেশি মোবাইল সিম ব্যবহার করতে দেখা গেলেও আইন অনুযায়ী বায়োমেট্রিক নিবন্ধন ছাড়া এই সংযোগ তাদের পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
মংডুর গর্জনদিয়া গ্রামে বাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়ার পর নাফ নদী পেরিয়ে আসা এই রোহিঙ্গা মোবাইল ফোনে কথা বলছেন তার রেখে আসা মায়ের সঙ্গে। সম্প্রতি শাহ পরীর দ্বীপ থেকে ছবিটি তোলেন মোস্তাফিজুর রহমান
মংডুর গর্জনদিয়া গ্রামে বাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়ার পর নাফ নদী পেরিয়ে আসা এই রোহিঙ্গা মোবাইল ফোনে কথা বলছেন তার রেখে আসা মায়ের সঙ্গে। সম্প্রতি শাহ পরীর দ্বীপ থেকে ছবিটি তোলেন মোস্তাফিজুর রহমান
বাংলাদেশে আগে থেকে ৪ লাখের বেশি রোহিঙ্গা রয়েছে। এই শরণার্থীদের জঙ্গি তৎপরতাসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার কথা সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে।
অনিবন্ধিত সিম যদি পাওয়া যায় তাহলে অপারেটরদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তারানা হালিম।
“মোবাইল কোর্ট অভিযান চালাচ্ছে, যারা সিমগুলো বিক্রি করেছেন, এটি যে তাদের জন্য শাস্তিযোগ্য অপরাধ, তা নিয়ে প্রচারণা চালানো হবে, সেই সিমে অপরাধ হলে দায় নিতে হবে তারই। এর কোনো ব্যত্যয় হলে দেশের আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।”
বর্তমানে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বায়োমেট্রিক নিবন্ধন করা হচ্ছে। তা সম্পন্ন হলে তাদের কাছে সিম বিক্রি করা যায় কি না, তা ভেবে দেখা হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
প্রাণ বাঁচাতে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা এই রোহিঙ্গাদের জন্য শরণার্থী শিবিরে বুথ বসানোর কথা জানান তিনি।
“ক্যাম্পগুলোতে একটি করে বুথ স্থাপন করা হবে, টেলিটকের সিমের মাধ্যমে কথা বলতে পারবেন, খুবই স্বল্প খরচে কথা বলার সুযোগ দেয়া হবে। আগামী তিন দিনের মধ্যে এ সেবা শুরু করা হবে এবং সেখানে টু জি নেটওয়ার্ক নিশ্চিত করতে টেলিটককে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।”
বর্তমানে কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ১৫টির মতো ক্যাম্পে বুথ স্থাপন করার পাশাপাশি যখনই নতুন ক্যাম্প হবে সেখানেও বুথ বসানো হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
রোহিঙ্গা শরণার্থীরা এসব বুথে আপাতত স্থানীয় কল করতে পারবেন, আন্তর্জাতিক কল করতে পারবেন না।
তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ