রোহিঙ্গারা ছড়িয়ে ছিটিয়ে যাচ্ছে || দেশের নিরাপত্তায় ঝুঁকি সৃষ্টি করেছে

আপডেট: সেপ্টেম্বর ২০, ২০১৭, ১:৩৫ পূর্বাহ্ণ

বাংলাদেশের অভ্যন্তরে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ সারা বিশ্বে মানবিক আবেদন সৃষ্টি করতে পেরেছে। বিভিন্ন দেশ এর ভূয়ষী প্রশংসা করছে। শরণার্থীদের সহায়তায় হাত বাড়িয়েছে। রাষ্ট্রে রাষ্ট্রে দ্বন্দ্ব- স্বার্থের রাজনীতি থাকলেও শান্তিকামী মানুষ পৃথিবী জুড়েই রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রতি সহানুভূতিশীল। সকলেই চায়, শরণার্থী সমস্যার দ্রুত সমাধান হোক, রোহিঙ্গা শরণার্থীরা নাগরিকত্ব ও তাদের আবাস ভিটে-মাটি ফিরে পাক। এই চাওয়ার মধ্যে কোনো ফাঁক- ফোঁকর নেই। কিন্তু বিষয়টি যে সহজ তা মোটেও নয়। শরণার্থী সমস্যা বাংলাদেশের জন্য নতুন কিছু নয়Ñ দীর্ঘ প্রায় দু’যুগ ধরে এই সমস্যা জিইয়ে আছে। মায়ানমারকে মোটেও বশে আনতে পারে নি জাতিসংঘ কিংবা বিশ্ব সম্প্রদায়। তাই মায়ানমারকে চাপ প্রয়োগের ক্ষেত্রে বর্তমান পরাশক্তিগুলোর দ্বিধা-বিভক্তির কারণে রোহিঙ্গা শরণার্থী সমস্যা নিকট অতীতে সমাধান হবে বলে মনে হচ্ছে না। এটাই বাংলাদেশের জন্য ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে।
সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী রয়েছে। এমনকি চলতি আগস্টে সঙ্কট শুরুর আগে থেকেই পূর্ববর্তী সহিংসতায় মিয়ানমার থেকে পালিয়ে যাওয়া নথিভূক্ত এবং নথিবিহীন প্রায় চার লাখ রোহিঙ্গার আশ্রয় হয়েছে বাংলাদেশে।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সহিংসতায় প্রায় ৪ লাখ ১৫ হাজার রোহিঙ্গা সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে ঢুকেছে। এদের অনেকেই আগুনে ঝলসানো, বুলেট এবং মাইন বিস্ফোরণের ক্ষত নিয়ে সাীমান্ত পাড়ি দিয়েছে। কিন্তু এই রোহিঙ্গাদের প্রায় ৪০ শতাংশই প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত রয়েছে। এছাড়া পাঁচ বছরের কম বয়সী এক লাখ ৫৪ হাজার শিশু ও ৫৫ হাজার গর্ভবতী নারীসহ প্রায় ৩ লাখ রোহিঙ্গার জরুরি খাদ্য সহায়তা প্রয়োজন। এতে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সহায়তা প্রয়োজন ৭০ মিলিয়ন ডলারের মত। এই বিপুল পরিমাণের অর্থের সুরাহা কীভাবে হবে তার কোনো সুরাহা হয় নি।
বাংলাদেশ যখন দেশব্যাপি বন্যার অভিঘাতে বিপর্যস্থÑ ঠিক তথনই নতুন করে রোহিঙ্গা শরণার্থী সমস্যার মধ্যে পড়েছে। মানবিক চিন্তায় বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে বটে কিন্তু সার্বিক পরিস্থিতি বাংলাদেশের জন্য আশংকাও তৈরি করেছে। রোহিঙ্গাদের সংঘবদ্ধভাবে রাখাটা এই মুহুর্তে একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সংবাদ মাধ্যমে তথ্য অনুযায়ী ক্যাম্পের বাইরে তিন কি.মি. এলাকা জুড়ে রোহিঙ্গারা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। দেশের অন্যান্য স্থানে ছড়িয়ে পড়ার আশংকা ইতোমধ্যেই তৈরি হয়েছে। পুলিশ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে দুই শতাধিক রোহিঙ্গাকে ধরে এনে আবারো ক্যাম্পে দিয়েছে। পুলিশ রোহিঙ্গাদের সতর্কও করে দিয়েছে ক্যাম্পের বাইরে গেলে তাদের শাস্তি হবে। কিন্তু দেশীয় প্রতারকচক্র সক্রিয় আছে। তারা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের কাছ থেকে সুবিধা নিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে তাদের ঠাঁই করে দিচ্ছে। এতে বড় ঝুঁকি তৈরি করেছে যে, বাংলাদেশে দ্রুত জঙ্গি- মৌলবাদী তৎপরতা বৃদ্ধি পেতে পারে। কেনরা এর আগে আসা শরণার্থীদের অধিকাংশই বাংলাদেশ বিরোধী কর্মকাণ্ডের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে পড়ে।
দীর্ঘদিন ধরে এই শরণার্থীরা বাংলাদেশে অবস্থান করলে রাখাইনের রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির (আরসা) মৌলবাদ ছড়ানোর শঙ্কাই বাংলাদেশের বড় উদ্বেগের বিষয়। বিশেষ করে তরুণ রোহিঙ্গাদের প্রতি নজরদারি থাকতে হবে। রোহিঙ্গারা এ দেশের মূল ধারার সাথে মিশে যেতে সক্রিয় থাকবে এটাই স্বাভাবিক। তাই শরণার্থীদের জন্য ত্রাণ ও অর্থসহায়তা যত প্রয়োজন তার চেয়েও বেশি প্রয়োজন রোহিঙ্গাদের যত দ্রুত সম্ভব তাদের নিজ দেশে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা। জাতিসংঘসহ বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে এটাই আমাদের প্রধান কূটনৈতিক তৎপরতা হওয়া বাঞ্ছনীয়। বাংলাদেশের নিরাপত্তার স্বার্থে বিষয়টি জরুরি সমাধান দরকার।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ