রোহিঙ্গারা দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে || এই তৎপরতা জরুরি ভিত্তিতে বন্ধ করতে হবে

আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৭, ২০১৭, ১২:২১ পূর্বাহ্ণ

মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর বর্বর নির্যাতন চলছেই। নিরীহ রোহিঙ্গাদের হত্যা, তাদের ঘরবাড়ি জালিয়ে দেওয়াসহ রাখাইন থেকে রোহিঙ্গাদের বিতাড়নের কাজ অব্যাহত রেখেছে মিয়ানমার বাহিনী। আরো উদ্বেগের বিষয়, মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে উগ্র বৌদ্ধরাও রোহিঙ্গাদের হত্যার পাশাপাশি তাদের বাড়িঘর জ্বালিয়ে দিচ্ছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক বিশেষ দূত বলেছেন, রাখাইনে এক হাজারের বেশি মানুষ হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে। তবে রাখাইন থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে যেসব রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে তাদের বক্তব্য সত্যি হলে প্রকৃত পরিস্থিতি আরো অনেক ভয়াবহ। প্রাণ বাঁচাতে রোহিঙ্গারা দলে দলে বাংলাদেশে চলে আসছে। সীমান্তে নাফ নদী পার হতে গিয়ে অনেকে ডুবে মারা যাচ্ছে। গত ২৫ আগস্ট মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অভিযান শুরুর পর এ পর্যন্ত প্রায় চার লাখ রোহিঙ্গা কক্সবাজারের উখিয়ায় কুতুপালংসহ বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নিয়েছে।
রোহিঙ্গারা আশ্রয়স্থল থেকে বের হয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে। তাদের এই তৎপরতা জরুরি ভিত্তিকে বাংলাদেশ সরকারকে বন্ধ করতে হবে। তা না হলে দেশের আইনশৃঙ্খলার ব্যাপক অবনতি হবে। এই বিপাদের সময় অনেকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। আবার অনেকে নিজের স্বার্থে তাদেরকে নিয়ে প্রতারণার ফাঁদ পেতে থাকে দালাল শ্রেণিরা। তাদের ব্যাপারে সর্তক থাকতে হবে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীকে। রোহিঙ্গারা ছড়িয়ে পড়ায় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী উদ্ধার করে আবার আশ্রয়স্থলে নিয়ে রেখে আসছে। রোহিঙ্গাদের অনেকের ধারণা আশ্রয়স্থল থেকে বের হলে আর মিয়ানমারে যেতে হবে না। এতে করে দালালদের টাকা-পয়সা খরচ করে দেশ ও বিদেশের বিভিন্ন এলাকায় যাওয়ার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে রোহিঙ্গারা। তাদের ও দেশের আইনশৃঙ্খলার স্বাভাবিক পরিস্থিতির কথা চিন্তা করে বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের বাসা বাড়ি ভাড়া না দেওয়ার জন্য প্রশাসন আহ্বান জানিয়েছে। তাদেরকে আশ্রয়স্থলে থাকতে আহ্বান জানানো হয়েছে। মিয়ানমার সরকারের সাথে একটা সুষ্ঠ সমাধান করে রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে সিদ্ধান্তগ্রহণ করা হবে। এনিয়ে বাংলাদেশ সরকারসহ বিশ্বের অনেক দেশ কাজ করে যাচ্ছে।
সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের ৩৬তম অধিবেশনে মানবাধিকার বিষয়ক ইউএন হাইকমিশনার জায়িদ রা’দ আল হুসেইন বলেছেন, রোহিঙ্গারা জাতিগত নিধনযজ্ঞের শিকার হচ্ছে। তিনি রাখাইনের পরিস্থিতিকে অন্ধকার ও বিপজ্জনক হিসেবে অভিহিত করে বলেছেন, সেখানে যা চলছে তা জাতিগতভাবে নির্মূলের যথার্থ উদাহরণ। জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের অধিবেশনে রোহিঙ্গা নিধনে সেনাবাহিনীর পাশাপাশি স্থানীয় মিলিশিয়াদের অংশগ্রহণের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়। বস্তুতঃ রোহিঙ্গাদের ‘গণহত্যা’ চলছে, ‘জাতিগত নিধন’ চলছে- বাংলাদেশের পাশাপাশি অন্তর্জাতিক মহলে এরকম কথা এখন প্রায় সবাই বলছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর গত মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে সেনাবাহিনীর এই বর্বর অভিযান অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে। কাজাখস্তানে ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা- ওআইসি’র বৈঠকে রোহিঙ্গা হত্যায় উদ্বেগ প্রকাশ এবং হত্যাযজ্ঞ বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে মিয়ানমার সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। কিন্তু টনক নড়ছে না শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী অং সান সু চি কিংবা সেখানকার শাসক বা সেনা কর্মকর্তাদের। লাশের ওপর দাঁড়িয়ে মিথ্যা বলছে তারা।
মানবিক কারণে বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে। কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদে এটি চলমান থাকলে বড় ধরনের সমস্যায় পড়তে হবে। এ সংকটের সমাধান এখন বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত জরুরি হয়ে উঠেছে। এ ক্ষেত্রে যথাযথ উদ্যোগ ও কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে জাতিসংঘকে। মিয়ামনারকে বাধ্য করতে হবে অবিলম্বে হত্যা-নির্যাতন বন্ধ করে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ