রোহিঙ্গা ইস্যুতে মোদি সরকার অভ্যন্তরীণ চাপে

আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৭, ২০১৭, ১২:২৬ পূর্বাহ্ণ

কলকাতা থেকে দীপঙ্কর দাসগুপ্ত


রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের পাশেই রয়েছে ভারত। শুক্রবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফোন করে এই কথা বলেছেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ। রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য ৫৫ টন ত্রাণ সমাগ্রী নিয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে নেমেছে ভারতীয় বায়ু সেনার বিশেষ বিমান। রাত পৌনে দশটা নাগাদ হাসিনাকে ফোন করেন সুষমা। ফোনে তিনি বলেছেন, রোহিঙ্গা নিয়ে দুই দেশের অবস্থান একই। এই সঙ্কটমুহূর্তে বাংলাদেশের পাশেই রয়েছে ভারত। সুষমা আরো বলেন, বার্মা যাতে রোহিঙ্গাদের ফেরত নেয়, সেজন্য দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক স্তরে চাপ বাড়াতে হবে।
রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য দফায় দফায় সাত হাজার টন ত্রাণসমাগ্রী পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত। অভিযানের নাম দেয়া হয়েছে অপারশেন ইনসানিয়াত। প্রথম দফার ত্রাণ বাংলাদেশের সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের হাতে তুলে দেন বাংলাদেশের ভারতীয় রাষ্ট্রদূত হর্ষবর্ধন শ্রিংলা। শুক্রবার ফোনে সুষমা জানান, মায়ানমারকে বুঝতে হবে রোহিঙ্গা তাদেরই নাগরিক। শুধুমাত্র মানবিক কারণেই বাংলাদেশ তাদের আশ্রয় দিয়েছে।
তবে এ ব্যাপারে ভারতের অবস্থান নিয়ে একটা ধোঁয়াশাও রয়ে গিয়েছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী মায়ানমার সফরে গিয়ে রোহিঙ্গা ইস্যু সামলানোর বিষয়ে অং সান সু চি’র ভূয়সী প্রশংসা করেছিলেন। কিন্তু তার পরে দেশে ফিরে এসে রোহিঙ্গা শরণার্থীরা দেশের পক্ষে কতটা বিপজ্জনক হতে পারে সে কথা বলেছেন।
ভারতে আশ্রয় নেয়া ৪০ হাজার রোহিঙ্গা শরাণার্থীকে মায়ানমারে ফেরৎ পাঠাতে মরিয়া মোদি সরকার। এ ব্যাপারে তারা আগামীকাল সোমবার সুপ্রিমকোর্টে হলফনামা দেবে। শুক্রবার এই কথা বলেছেন কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং। এদেশে আশ্রয় নেয়া দুই রোহিঙ্গা শরণার্থী পরিবারের আবেদনের ভিত্তিতে এই হলফনামা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছিল সর্বোচ্চ আদালত। রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ফের বার্মায় ফেরৎ পাঠানো নিয়ে মোদি সরকার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তার বিরোধিতা করেই সুপ্রিমকোর্টে আবেদন করেছিলেন মহম্মদ সালিমুল্লাহ ও মহম্মদ শাকিব নামে দুই শরণার্থী। এদিকে রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য অবিলম্বে সর্বদলীয় বৈঠক ডাকার দাবি জানিয়েছে কংগ্রেস। শুক্রবার দিল্লিতে কংগ্রেস নেতা অজয় মাকেন বলেছেন, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বিষয়টি জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে জড়িত। তাই সর্বদলীয় বৈঠক ডেকে আলোচনা করা দরকার।
শুক্রবার দিল্লিতে এক অনুষ্ঠানের অবকাশে রাজনাথ সিং সাংবাদিকদের বলেন, সোমবার কেন্দ্রীয় সরকার আদালতে হলফনামা পেশ করবে। রাষ্ট্রসঙ্ঘের শরণার্থী সংক্রান্ত হাইকমিশন নথিভুক্ত এই দুই শরণার্থী সুপ্রিমকোর্টে আর্জি পেশ করে বলেছেন, বার্মায় রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের মানুষদের ওপর চরমতম বৈষম্য, বেপরোয়া হিংসা ও রক্তক্ষয়ী আক্রমণ চলছে। ফলে আমরা প্রাণভয়ে বার্মা থেকে পালিয়ে এসে ভারতে আশ্রয় নিয়েছি। কিন্তু এখানকার সরকার যেভাবে জোর করে আমাদের বার্মায় ফেরৎ পাঠাতে চাইছে, তা মানবাধিকার সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক কনভেনশনের বিরোধী।
গত জুলাই মাসে ভারত প্রকাশ্যেই ঘোষণা করেছিল, রোহিঙ্গাদের মতো বেআইনি শরণার্থীদের ভারতের নিরাপত্তার পক্ষে বিরাট বিপদ। কেন্দীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের আশঙ্কা, সন্ত্রাসবাদীরা এই রোহিঙ্গা শরণার্থীদের তাদের গোষ্ঠীতে নিয়োগ করতে পারে। ফলে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের চিহ্নিত করে তাদের ফেরৎ পাঠানোর জন্য রাজ্যগুলিকেও নির্দেশ দেয় কেন্দ্রীয় সরকার। সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলিতে জেলান্তরে টাস্কফোর্স তৈরি করে একাজ করার পরামর্শ দেয়া হয়। গত ৫ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় রাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কিরেন বিজিজও রোহিঙ্গাদের বেআইনি শরাণার্থী বলেছেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ