রোহিঙ্গা নিধনযজ্ঞ: আন্তর্জাতিক আদালতের তদন্ত প্রত্যাখ্যান মিয়ানমারের

আপডেট: নভেম্বর ১৭, ২০১৯, ১২:৪৮ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অভিযানে সম্ভাব্য অপরাধের তদন্তের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) অনুমোদনের পর তা প্রত্যাখ্যান করেছে দেশটি। বৃহস্পতিবার (১৪ নভেম্বর) আইসিসির প্রসিকিউশনের আবেদনের পর বিচারকরা তদন্তের অনুমোদন দেন। শুক্রবার তা প্রত্যাখ্যান করে মিয়ানমার দাবি করেছে, আইসিসির তদন্তের সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী হয়নি। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা’র এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানা গেছে।
২০১৭ সালের আগস্টে রাখাইনের কয়েকটি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার পর পূর্বপরিকল্পিত ও কাঠামোগত সহিংসতা জোরালো করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। হত্যা-ধর্ষণসহ বিভিন্ন ধারার সহিংসতা ও নিপীড়ন থেকে বাঁচতে নতুন করে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ৭ লাখেরও বেশি মানুষ। ১১ নভেম্বর মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গা নিপীড়নকে ‘গণহত্যা’ আখ্যা দিয়ে জাতিসংঘের সর্বোচ্চ আদালত ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিসের (আইসিজে) কাছে বিচার চায় আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়া। নিধনযজ্ঞ পেরিয়ে যাওয়ার প্রায় আড়াই বছর পর প্রথমবারের মতো কোনও দেশ এমন পদক্ষেপ নেয়। ৫৭টি মুসলিম রাষ্ট্রের সংগঠন অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কোঅপারেশন (ওআইসি)-এর পক্ষ থেকে এই মামলা দায়ের করে গাম্বিয়া। এরপরই আইসিসি তদন্তের নির্দেশ দেয়।
শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে মিয়ানমার সরকারের মুখপাত্র জ্য হেতে বলেন, ‘মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আইসিসির তদন্ত আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী হচ্ছে না। নিপীড়ন অভিযোগের তদন্ত করবে ইয়াঙ্গুনের নিজস্ব কমিটি, প্রয়োজনে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করবে তারা।’
রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে দমন-পীড়নকে সবসময় বৈধতা দেয়ার অভিযোগ রয়েছে মিয়ানমার সরকারের বিরুদ্ধে। সরকারের দাবি, সন্ত্রাসীদের দমন করতে তারা ওই অভিযান পরিচালনা করেছে। এছাড়া তারা বারবারই আইসিসির কর্তৃত্ব মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে। শুক্রবারও একই কথার পুনরাবৃত্তি করেছে দেশটি।
সংবাদ সম্মেলনে জ্য আরও বলেন, জেনোসাইড কনভেনশনে স্বাক্ষর করা মিয়ানমার আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী এর (আইসিসির তদন্ত অনুমোদন) জবাব দেবে।
উল্লেখ্য, আইসিসির সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে স্বাক্ষরকারী দেশ নয় মিয়ানমার। তা সত্ত্বেও গত বছর ওই আদালত রায় দেন, রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে অপরাধের কারণে বিচার করার এখতিয়ার তাদের আছে। কারণ, এসব শরণার্থী আশ্রয় নিয়েছে বাংলাদেশে। এই দেশটি তাদের সদস্য।
এদিকে, গাম্বিয়ার মামলার পর আর্জেন্টিনার একটি আদালতে মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চিসহ রোহিঙ্গা নিধনে জড়িত সামরিক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আর্জেন্টিনার আইনে গণহত্যা বিষয়ক কোনও ফৌজদারি আইন না থাকায় গণহত্যা মামলা করা যায়নি। ‘ইউনিভার্স জুরিসডিকশন’ বা ‘বিশ্বজনীন বিচারব্যবস্থা’র আওতায় মামলাটি করা হয়েছে।
তথ্যসূত্র: বাংলা ট্রিবিউন