রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর পাঁচ পদক্ষেপ জাতিসংঘকে উদ্যোগ নিতে হবে

আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২২, ১২:৪৩ পূর্বাহ্ণ

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে জাতিসংঘের কার্যকর ভূমিকা রাখার পাশাপাশি বিশ্ব নেতাদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২৩ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদরদপ্তরে সাধারণ পরিষদের ৭৭তম অধিবেশনে ভাষণে এ আহ্বান জানান তিনি। আগের দিন ২২ সেপ্টেম্বর মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের স্বদেশে নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিতে এই জনগোষ্ঠীকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা দেয়াসহ পাঁচটি পদক্ষেপ নিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জাতিসংঘে সাধারণ পরিষদে যোগ দিতে নিউ ইয়র্ক সফররত প্রধানমন্ত্রী লোটে প্যালেস হোটেলে রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে এক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে এই পাঁচটি প্রস্তাব তুলে ধরেন।
রোহিঙ্গারা যে মিয়ানমারের নাগিরিক তার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাংবাদিকদের জানান, “১৯৪৮ সালে মিয়ানমার স্বাধীনতা অর্জনের পর সেখানে নতুন সরকার রোহিঙ্গাদের ‘টার্গেট’ করে এবং তাদের ভিন্ন জাতিগোষ্ঠী হিসেবে চিহ্নিত করে। এরপর ১৯৮২ সালে সেখানে নতুন নাগরিকত্ব আইন পাস হয় এবং জাতিগোষ্ঠী হিসেবে রোহিঙ্গাদেরকে তাতে স্বীকৃতি দেয়া হয়নি। অথচ ১৯৫২ সালে যখন ইউ নু প্রেসিডেন্ট ছিলেন, তখনও তার মন্ত্রিসভায় দু’জন রোহিঙ্গা মন্ত্রী এবং তখনকার পার্লামেন্টে ছয়জন রোহিঙ্গা এমপি ছিলেন। এ থেকে প্রমাণ হয় রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের নাগরিক। বর্তমান সংকটের উৎপত্তিস্থল মিয়ানমারে এবং তার সমাধানও সেখানেই রয়েছে। বাংলাদেশে ১২ লাখ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় নেয়া এবং প্রতিবছর শরণার্থী শিবিরে ৩০ হাজার নবজাতকের জন্ম নেয়ার তথ্যও তুলে ধরেন শেখ হাসিনা।
মিয়ানমারের সামরিক জান্তা দেশটিতে নিপীড়ন-নির্যাতন অব্যাহত রেখেছে। চলতি মাসে একটি বিমান হামলায় ১১ জন স্কুল শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং জুলাই মাসে জান্তা কর্তৃক চার বিশিষ্ট বন্দির মৃত্যুদ- কার্যকর করা করা হয়েছে। অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে প্রথম থেকেই মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে আন্দোলন করে আসছে জনগণ। এতে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে নিহত হয়েছেন প্রায় ২ হাজার ৩০০ মানুষ। দেশটিতে গৃহযুদ্ধ ছড়িয়ে পড়েছে। মিয়ানমার জান্তার ওপর আরো চাপ প্রয়োগের জন্য জাতিসংঘের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে মিয়ানমারের আসন্ন নির্বাচনকে স্বীকৃতি না দিতেও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে দেশটি।
উদ্বেগ জানিয়ে জাতিসংঘও বলছে- ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে সামরিক বাহিনী মিয়ামারের ক্ষমতা দখলে নেয়ার পর দেশটির ৫ কোটি ৪০ লাখ মানুষের পরিস্থিতি খারাপ থেকে ভয়ংকর হয়ে ওঠেছে। মিয়ানমারের সেনাবাহিনীও যৌন সহিংসতা, নির্যাতন, মানবতাবিরোধী ও যুদ্ধাপরাধ করে যাচ্ছে। বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে হত্যা করছে।
ভয়াবহ এই পরিস্থিতিতে বিশ্ববিবেক নিরব থাকতে পারে না। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, মিয়ানমারের ব্যাপারে বিশ্ব মূলত দুইভাগে বিভক্ত হয়ে গেছে। ফলে খুব স্বাভাবিকভাবেই মিয়ানমার সামরিক জান্তা নিজ দেশে এবং রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানের ব্যাপারে কোনো প্রকার তোয়াক্কা করছে না। জাতিসংঘ উদ্বেগ প্রকাশ করে বলছে- মিয়ানমার সামরিক জান্তা যৌন সহিংসতা, নির্যাতন, মানবতাবিরোধী ও যুদ্ধাপরাধ করে যাচ্ছে। তা হলে জাতিসংঘ মিয়ানমারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে না কেন? এটা বিশ্ব শান্তির পরিপন্থি। মিয়ানমার সামরিক জান্তার ব্যাপারে জাতিসংঘের যে উপলব্ধি তা মিয়ানমারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাটা জরুরি হয়ে হয়ে পড়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে পাঁচটি পদক্ষেপের কথা বলেছেন সেটাও প্রণিধানযোগ্য। জাতিসংঘ পাঁচ পদক্ষেপ নিয়েও এগোতে পারে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ