রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে প্রধানমন্ত্রী চার দফা মিয়ানমারের সামনে সমাধানই পথ

আপডেট: সেপ্টেম্বর ৩০, ২০১৯, ১:১৫ পূর্বাহ্ণ

শুক্রবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭৪তম অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের ব্যাপারে বিশ্ব নেতৃবৃন্দকে সতর্ক করেছেন। জাতিসংঘের অধিবেশনে দেয়া বক্তব্যের একটি বড় অংশ জুড়েই রোহিঙ্গা সমস্যার বিষয়টি এসেছে। তিনি স্পষ্টতই বলেছেন, রোহিঙ্গা সমস্যা এখন শুধুই বাংলাদেশের সমস্যা নয়-এটা আঞ্চলিক সঙ্কটের মাত্রা পেতে যাচ্ছে। এ বিষয়টি বিশ্ব নেতৃবৃন্দকে উপলব্ধি করার অনুরোধ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর দেয়া এই ভাষণ দেশের সংবাদ মাধ্যমে গুরুত্ব সহকারে প্রকাশ ও প্রচার করেছে।
২০১৭ সালের অগাস্টে রোহিঙ্গা জনস্রোত যখন নাফ নদী পেরিয়ে বাংলাদেশে আসতে শুরু করে তার এক মাসের মাথায় এই জাতিসংঘে দাঁড়িয়ে সংকটের সমাধানে পাঁচ দফা প্রস্তাব দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
রোহিঙ্গাদের স্ব-ভূমে ফিরে যাওয়া নিশ্চিত করতে জাতিসংঘে এবারেও চারটি প্রস্তাব দিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।
এগুলো হলো-এক. রোহিঙ্গাদের টেকসই প্রত্যাবাসন এবং আত্মীকরণে মিয়ানমারকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে রাজনৈতিক সদিচ্ছার পূর্ণ প্রতিফলন দেখাতে হবে। দুই. বৈষম্যমূলক আইন ও রীতি বিলোপ করে মিয়ানমারের প্রতি রোহিঙ্গাদের আস্থা তৈরি করতে হবে এবং রোহিঙ্গা প্রতিনিধিদের উত্তর রাখাইন সফরের আয়োজন করতে হবে। তিন. আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় হতে বেসামরিক পর্যবেক্ষক মোতায়েনের মাধ্যমে মিয়ানমার কর্তৃক রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তার ও সুরক্ষার নিশ্চয়তা প্রদান করতে হবে। এবং চার. আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অবশ্যই রোহিঙ্গা সমস্যার মূল কারণসমূহ বিবেচনায় আনতে হবে এবং মানবাধিকার লংঘন ও অন্যান্য নৃশংসতার দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে হবে।
এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, রোহিঙ্গাদের টেকসই প্রত্যাবাসন এবং আত্মীকরণে রোহিঙ্গাদের আস্থা অর্জনের বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। হত্যা, ধর্ষণ, জ্বালাও-পোড়াও পেছনে ফেলে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গারা স্বদেশে ফিরতে জীবন ও মর্যাদার সাথে বেঁচে থাকার প্রত্যাশা ও দাবি জানাবে এটাই স্বাভাবিক। মিয়ানমার মানবতাবিরোধী অপরাধের দায় যতই অস্বীকার করুক না কেন তারা যে রোহিঙ্গাদের প্রতি নিষ্ঠুরতা দেখিয়েছে তা বিশ্ববাসীর অজানা কিছু নয়। জাতিসংঘসহ মানবাধিকার সংগঠনগুলো তাদের প্রতিবেদনে মিয়ানমার সেনাবাহিনী কর্তৃক মানবতাবিরোধী অপরাধের চিত্রই ফুটে উঠেছে। এটাকে অস্বীকার করে বা ধামাচাপা দিয়ে পরিস্থিতির উন্নতি চিন্তা অমূলকই হবে। অবশ্যই রোহিঙ্গাদের স্বদেশে ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারকেই তাদের সদ্বিচ্ছার প্রতিফলন দেখাতে হবে। আর এই সদিচ্ছার একটা গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে- বাংলাদেশে উদ্বাস্তু রোহিঙ্গাদের আস্থা অর্জন করা। এটা যতই বিলম্ব হবে, পরিস্থিতি আরো খারাপের দিকে মোড় নিবে। আর সেটা হলে মিয়ানমারের জন্য তো নয়-ই বাংলাদেশ, ভারত ও অন্যান্য পার্শ্ববর্তী দেশসমূহও এর প্রতিক্রিয়া থেকে মুক্ত থাকতে পারবে না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিশ্ব নেতৃবৃন্দকে সেই সতর্কতাই জানান দিয়েছেন।
মিয়ানমার নিজেরাই রোহিঙ্গা সমস্যার সৃষ্টি করেছে- তাদেরকেই এই সমস্যার সমাধান করতে হবে। এবং এটাকে এড়িয়ে যে তারা থাকতে পারছেন না এটা এতোদিনে না বোঝার কোনো কারণ নেই। অন্ধ সেজে পরিস্থিতি এড়াতে থাকলে একসময় সামনে আর কোনো পথ খোলা থাকবে না। সেটা মিয়ানমার ও মিয়ানমারের জনগণের জন্য ভাল ফল বয়ে আনবে না।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ