লকডাউনেও মানুষের চলাচল বাড়ছে

আপডেট: জুলাই ২৮, ২০২১, ১০:১৫ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


ইদ পরবর্তী লকডাউনে প্রশাসনের অব্যাহত তৎপরতার মধ্যে নগরীতে মানুষের চলাচল বেড়েছে। বিশেষ করে সড়কে ব্যক্তিগত যানবাহন চলাচল বেড়েছে। নগরীর মোড়গুলোতে বিভিন্ন কৌশলে খোলা থাকছে দোকান। নগরীর ভেতরে অলিগলিতে চলছে আড্ডা। তবে সন্ধ্যার পর প্রশাসনিক তৎপরতায় সড়ক ফাঁকা থাকছে।
সকালের দিকে সড়ক একেবারে ফাঁকা থাকলেও বেলা গড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষ চলাচল বাড়ছে। বিকেলের পর নগরীর মোড়গুলোতে বিভিন্ন বয়সের মানুষের আড্ডা জমে উঠছে। অর্ধ সার্টারে খোলা থাকছে চায়ের দোকান। আর চা আড্ডায় অনেক সময় বাঁধছে জটলা। যদিও কঠোর লকডাউনের মধ্যে কেবলমাত্র জরুরি পরিষেবা ছাড়া সকল দোকানপাট বন্ধ ও সব ধরনের যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
রাজশাহীতে লকডাউন বাস্তবায়নের জন্য পুলিশ, আনসার, র‌্যাব, বিজিবি ও সেনাবাহিনী কাজ করছে। মোড়ে মোড়ে অবস্থান নিয়েছেন পুলিশ ও আনসার সদস্যরা। র‌্যাব, বিজিবি ও সেনাবাহিনীর টহলদল নগরীসহ উপজেলাগুলোতেও কাজ করছে। বুধবার (২৮ জুলাই) নগরীর কোর্ট বাজার, লক্ষ্মীপুর, নিউমার্কেট, সাহেববাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ঘুরে দেখা যায়, গত দিনগুলোর চেয়ে যানচলাচল বেড়েছে। মানুষের আনাগোনাও বেড়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতাও দেখা গেছে। এর মধ্যেও প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেলসহ ব্যক্তিগত যানবাহন চলাচল করতে দেখা গেছে। প্রধান সড়ক ছাড়া অলিগলিতে অটোরিকশা চলাচল অনেকটা স্বাভাবিক সময়ের মতোই।
কাঁচাবাজারে স্বাস্থ্যবিধি তেমন গুরুত্ব পাচ্ছেন না। সাহেববাজার, মাস্টারপাড়া ও কোর্টের কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ বিক্রেতার মুখে মাস্ক নেই। রোদ গরমের মধ্যে তারা নাকের নিচে অথবা পাশে রেখে ক্রেতাদের সঙ্গে দরদাম করছে। ক্রেতাদের অনেকেও মাস্ক খুলে কেনাকাটা সারছেন। মুদি দোকানগুলোতেও একই অবস্থা। তবে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর উপস্থিতি থাকলে সে সময়ের জন্য মাস্ক পরছেন। আর শারীরিক দূরত্বের কোনো বালাই নেই।
এ বিষয়ে রাজশাহী জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল জানান, প্রশাসন লকডাউন বাস্তবায়নে কাজ করছে। রাস্তায় যারা বের হচ্ছেন তারা জরুরি প্রয়োজনে। কেউ চিকিৎসার প্রয়োজনে, কেউ কাঁচাবাজারে, কেউ ব্যাংকে টাকা তুলতে। সবকিছু বিবেচনা করেই কাজ করা হচ্ছে। তবে কিছু হয়তো এমন থাকতে পারে যারা প্রয়োজন ছাড়াই বের হচ্ছেন। তবে অপ্রয়োজনে বের হলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মানুষকে সচেতন করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, মহামারী পরিস্থিতিতে সরকারকে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন পলিসি নিতে হচ্ছে। চ্যালেঞ্জ সামনে রেখে মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন। মানুষের কল্যাণেই এ লকডাউন। সুতরাং লকডাউনকে সফলভাবে বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসন তৎপর রয়েছে।