লকডাউনে ফাঁকা নগরী, জরুরি প্রয়োজনেও ভোগান্তি

আপডেট: জুলাই ২৫, ২০২১, ১০:০৮ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


রাজশাহীতে তৃতীয় দিনের ‘কঠোর লকডাউন’ পালিত হয়েছে। লকডাউনের তৃতীয় দিনেও ফাঁকা ছিলো নগরী। তবে গত দুই দিনের চেয়ে ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচল বেড়েছে। আর আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর অব্যাহত তৎপরতায় কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে গণপরিবহণ চলাচল। এতে যাতায়াতে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন জরুরি প্রয়োজনে বাইরে আসা মানুষ। যাতায়াতে খরচ বেড়েছে পাঁচ থেকে দশগুন।
তৃতীয় দিনেও বন্ধ ছিলো সকল মার্কেটের দোকানপাট। খোলা ছিলো কাঁচাবাজার ও মুদি দোকান। গত দুই দিনের চেয়ে কাঁচাবাজারে মানুষের সমাগম বেড়েছে। যেখানে স্বাস্থ্যবিধির বিষয়ে তেমন সচেতনতা দেখা যাচ্ছে না।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, কোরবানির ইদের পরে কয়েকদিন কাঁচাবাজারে তেমন ক্রেতা থাকে না। অনেকে শহরের বাইরে যান। চার-পাঁচদিন পর থেকে ক্রেতা বাড়তে থাকে। এবার যেহেতু লকডাউনের কারণে তেমন ছুটি কাটাতে পারে নি। তাই হয়তো কিছুটা বেড়েছে। তবে এখনো বেচাবিক্রি তেমন নেই। আর স্বাস্থ্যবিধি তারা মানার চেষ্টা করছেন। কিন্তু রোদ-গরমের মধ্যে সব সময় মাস্ক পরে থাকা যায় না।
রোববার (২৫ জুলাই) নগরীর শহিদ এএইচএম কামারুজ্জামান চত্বর, শিরোইল বাস টার্মিনাল, রেলওয়ে স্টেশন, সাহেববাজার, কোর্ট বাজারসহ নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়।
রাজশাহী নগরীতে অব্যাহত তৎপরতায় অধিকাংশ মোড়ে পুলিশ ও আনসার সদস্যদের অবস্থান ছিলো। সেনাবাহিনী, বিজিবি, র‌্যাব ও পুলিশের টহল অব্যাহত রয়েছে। জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালতের মামলা ও জরিমানাও অব্যাহত থাকছে।
এদিন যারা রাস্তায় বের হয়েছেন তাদের প্রত্যেককে পুলিশের জেরার মুখে পড়তে হয়েছে। জরুরি প্রয়োজন প্রমাণে ব্যর্থ হলে ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে। তবে দুপুরের কড়া রৌদ্রে তৎপরতা কিছুটা কম থাকছে। এছাড়া যারা জরুরি প্রয়োজনে বের হচ্ছেন তাদের দ্রুত কাজ শেষ করে ঘরে ফেরার নির্দেশনাও দেয়া হচ্ছে।
এদিকে, নগরীতে চার্জার অটো রিকশা চলাচলে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করায় অটো রিকশায় ভর করে জরুরি প্রয়োজনে বাইরে বের হচ্ছে মানুষ। এতে বাড়তি ভাড়ার সঙ্গে বাড়তি ভোগান্তিও যোগ হচ্ছে।
নগরীর একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ল্যাবে কাজ করেন রাকিবুল ইসলাম। তিনি জানান, তাকে প্রতিদিন আট ঘণ্টা ল্যাবে সময় দিতে হয়। রাত নয়টায় ল্যাব থেকে বের হন। এই লকডাউনে চার্জার অটো চলাচল বন্ধ। হাতেগোনা কিছু রিকশা চলছে। এরা কয়েকগুন ভাড়া আদায় করছে। আবার কাক্সিক্ষত গন্তেব্যেও পৌঁছে দেয় না। কিছুপথ হেঁটেও যেতে হয়।
ইদের পরপরই কঠোর লকডাউন বাস্তবায়ন করায় রামেক হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে যুক্তরাও ভোগান্তির মধ্যে পড়েছিলেন। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ লকডাউনের প্রথম দিনে সেবা সংশ্লিষ্টদের জন্য পরিবহণের ব্যবস্থা করতে পারেন নি। এতে প্রথম দিন তারাও ভোগান্তির মধ্যে পড়েছিলো। এছাড়া সিফট ও গাড়ির সময় ব্যবধানে অনেকের ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। তবে যেহেতু হাসপাতালে এখন নিজস্ব পরিবহণের ব্যবস্থা করা হয়েছে এখন ভোগান্তি তেমন নেই।
রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট(এডিএম) আবু আসলাম জানান, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী রাজশাহীতে লকডাউন পালিত হচ্ছে। নগরীজুড়ে সেনাবাহিনী, বিজিবি, র‌্যাব ও পুলিশের টহল দল কাজ করছে। নগরীজুড়ে রাজশাহী জেলা প্রশাসনের চারটি ও ৯ টি উপজেলায় ১৮ টি ভ্রাম্যমাণ টিম কাজ করছে। নগরীর প্রবেশপথগুলোতেও পুলিশের বাড়তি নজরদারি দেখা গেছে।
তিনি আরও জানান, নির্দেশনা অমান্য করে কেউ অহেতুক বাইরে আসলে মামলা ও জরিমানা করা হচ্ছে। এটা অব্যাহত থাকবে। এছাড়া বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রমও পরিচালনা করা হচ্ছে।