লকডাউনে সড়কে স্বাভাবিক অটো-অটোরিক্সা চলাচল ঢাকায় ফিরলো কর্মীজীবীরা

আপডেট: আগস্ট ১, ২০২১, ১০:১০ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


বিধি-নিষেধের (লকডাউন) দশম দিন গেলো। এদিন বেলা ১২ পর্যন্ত রাজশাহী-ঢাকা রুটে চলেছে বাস। বাসগুলো মূলত গার্মেন্টস ও শিল্প কারখানার শ্রমিক, কর্মচারী-কর্মকর্তাদের রাজধানীতে নিয়ে গেছে। তবে বালাই ছিলো না স্বাস্থ্যবিধির। বাস চলার খবরে চলেছে অটো ও অটোরিক্সা। তবে লকডাউনের মধ্যে সর্বোচ্চ অটো-অটোরিক্সা চলেছে নগরের সড়কগুলোতে।
রোববার (১ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টায় রাজশাহী শিরোইল ঢাকা বাসস্ট্যান্ডে দেখা গেছে, কর্মজীবী মানুষের ভিড়। এই বাসস্ট্যান্ডে রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জের মানুষ ঢাকায় যাওয়া উদ্দেশ্যে এসেছেন। তবে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ছেড়ে আসা বাসগুলোতে পাশা-পাশি বসে যাত্রীদের আসতে দেখে গেছে।
বিষয়টি নিয়ে পরিবহন সংশ্লিষ্টরা মন্তব্য করেননি। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কেউ কেউ বলছেন- ‘অসুবিধা নেই। অনেকেই একই পরিবারের।’ বাসে উঠে দেখে গেছে, যাত্রীরা পাশা-পাশি বসে আছেন। কারও মুখে মাস্ক থাকলে অনেকেই নিচে নামানো ছিলো। এছাড়া সংবাদ কর্মীদের দেখে অনেকেই মাস্ক পড়েছেন।
বাসের যাত্রী রাকিবুল ইসলাম জানান, ‘দেশে (তানোরে) কৃষি কাজ ছাড়া, কাজ নেই। গার্মেন্টসে ১৫ হাজার টাকা বেতনে কাজ করি। সেখানে আমার স্ত্রীও কাজ করে। দুজনের উপার্জনে ভালই চলে সংসার। গ্রামে তো দুজনের কাজ করতে পারবো না।’
সাইফুল ইসলাম নামের অপর যাত্রী বলেন, ‘করোনা দেশের সব জায়গায় আছে। লকডাউনের পরে গেলে (ঢাকায়) কি করোনা হবে না? এমন কথার ভিত্তি আছে? -নাই। কারণ সচেতনতা নিজের মধ্যে। আমি (সাইফুল) বাড়ি থেকে বের হয়ে স্ত্রী ও ছেলে-মেয়েকে একবারের জন্য নাকে মুখে হাত দিতে দেয়নি। এছাড়া মাস্ক খুলিনি। অনেকেই খুলেছেন দেখেছি।’ তাদের মাধ্যমে কি আপনি সংক্রমিত হতে পারেন না? এমন কথার উত্তরে তিনি বলেন, ‘পারি।’
অন্যদিকে, গত কয়েক দিনের তুলনায় রাজশাহী নগরীর সড়কে যানবাহন বেশি চলেছে। শনিবারের (৩১ জুলাই) তুলনায় রোববার (১ আগস্ট) দ্বিগুণ অটোরিক্সা-রিক্সা সড়কে লক্ষ্য করা গেছে। তবে কাটাখালী, বিনোদপুর, তালাইমারী, বাজারের চলাচল করা অটোরিক্সা ও রিক্সায় যাত্রীর সংখ্যা কম ছিলো।
অন্যদিকে, কাশিয়াডাঙ্গা, আমচত্বরে এলাকার দিকে থেকে শহরে আসা অটোরিক্সা ও রিক্সাগুলোতে যাত্রীর সংখ্যা বেশি ছিলো। কারণ এই যাত্রীরা রাজধানীতে গার্মেন্টস ও শিল্প কারখানায় কাজ করেন। তারা বাস চালুর ঘোষণায় করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়েও কর্মস্থলে ফিরে যাচ্ছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাসের চালক ও সুপারভাইজার জানান, দীর্ঘদিন বাস বন্ধ থাকায় জীবন-জীবিকা নিয়ে সমস্যায় রয়েছি। গাড়ি চাকা না ঘোরায় বেকার হয়ে পড়েছি।
স্বাস্থ্যবিধির বিষয়ে জানতে চাইলে একজন চালক জানান, ‘চেষ্টা চলছে স্বাস্থ্যবিধি মানার। তবে সম্ভব হয় না।’ অপর একটি বাসের সুপারভাইজার জানান, ‘ঢাকায় একজন যাত্রী তারা নিয়ে যাচ্ছেন ৭০০ টাকা ভাড়ায়। সিটে বসার বিষয়ে তিনি জানান- পাশাপাশি বসছে। একটা দিনই তো।’
বিষয়টি নিয়ে রাজশাহী বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মতিউল হক টিটো জানান- ‘অল্প পরিসরে বাস ঢাকা যাচ্ছে। স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করা হচ্ছে। রাজশাহী থেকে ১০ টির মতো বাস গেছে ঢাকায়।
তিনি আরও জানান, বেশির ভাগ মানুষ শনিবার সকালের দিকে ট্রাকসহ বিভিন্নভাবে ঢাকায় গেছেন। যে সময় বাস চলাচলের ঘোষণা আসলো তখন যাত্রীর অভাব। তার পরেও অল্প যাত্রী নিয়ে ঢাকায় গেছে রাজশাহীর কিছু বাস।
রাজশাহী জেলা পুলিশের মুখপাত্র ইফতেখায়ের আলম জানান- গার্মেন্টস শিল্প কারখানা চালুর ঘোষণায় কর্মীরা অটোরিক্সা ও রিক্সায় বাস স্ট্যান্ডে আসছেন। মূলত এই কারণে সড়কে দেখা গেছে। এছাড়া কিছু বাস যানজটে আটকা পড়তে পারে, সেগুলো ফিরছে বাসস্ট্যান্ডে।’