লকডাউন-উত্তর রাজশাহী স্বাস্থ্য সুরক্ষার দায়টা থেকেই যায়

আপডেট: June 2, 2020, 12:07 am

৬৬ দিন পর উদ্বেগ-উকণ্ঠা নিয়ে সারা দেশের মতো রাজশাহীতেও অফিস ও দোকানপাট খোলা হয়েছে। তবে অবশ্যই স্বাস্থ্য সুরক্ষা মেনেই অফিস ও দোকানপাট চালু রাখতে হবেÑএমন নির্দেশনা আছে। অন্যথায় শর্তভঙ্গকারী সংস্থা বা ব্যাক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। লকডাউন প্রত্যাহৃত হলেও সরকার পরিস্থিতি ১৫ জুন পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ করবে। স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও বা শর্তসমূহ যথার্থ মানা না হলে পুনরায় কঠোরভাবে লকডাউন ঘোষণা দেয়া হবে বলেও ঘোষণা দেয়া হয়েছে। লকডাউনে যাতে করে পুনরায় ফিরতে না হয় সেই দায় দায়দায়িত্ব অফিস/সংস্থা, সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদেরও নিতে হবে। নিশ্চয় সময়টা অর্থ আয়ের প্রতিযোগিতা নয়। ধিরে ধিরে অর্থনীতির চাকা সচল করার মানসই হবে সময়ের সঠিক সিদ্ধান্ত। মনোপলি ব্যবসার মানসিকতা কিংবা লোভকে সংবরণ করতে না পারলে স্বাস্থ্য সুরক্ষা বজায় রাখা মোটেও সম্ভব হবে না।
কিন্তু লকডাউন প্রত্যাহারের প্রথম দিনই স্বাস্থ্য সুরক্ষা না মানার অভিযোগ পাওয়া গেছে। দৈনিক সোনার দেশ পত্রিকার এক প্রতিবেদনে উল্লেথ করা হয়েছে বাজারে, বিপনি-বিতানগুলোতে ক্রেতারা কিংবা চলতে পথে পথচারীরা মাস্ক পরিধান করছেন নাÑ অথচ এটি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সামাজিক দূরত্ব মানা হচ্ছে না অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেও। তবে স্বাস্থ্যবিধির দিকনির্দেশনাগুলো অফিস ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামনে টাঙানো অব্স্থায় লক্ষ্য করা গেছে। প্রথম দিনে নগরীতে বিভিন্ন পয়েন্টে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর টহল ও প্রশাসনের নজরদারি লক্ষ্য করা গেছে।
প্রকাশিত খবরের তথ্যমতে ব্যবসায়ীরা বলছেন, ক্রেতাদের ওপরও নির্ভর করে কিছুটা সুরক্ষা। অন্যের ঘাড়ে দায় চাপানোর প্রবণতা থেকে অবশ্যই বের হয়ে আসতে হবে। যে ক্রেতা স্বাস্থ্য সুরক্ষা মানবে না তার কাছে পণ্য বিক্রিরও প্রশ্ন আসে না। আর অবশ্যই এটা সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীকেই নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। দোকানে কতজন ক্রেতা প্রবেশ করবেন, তাতে সামাজিক দূরত্ব বজায় থাকবে কি থাকবে না সে দায় দোকানিকে নিতে হবে। তিনি যদি প্রতিযোগিতামূলক ব্যবসার উদ্যোগ নেন তা হলে স্বাস্থ্য সুরক্ষা রক্ষা হবে না। এটা ভুলে গেলে চলবে না যে, সময়টা জাতীয় সঙ্কটের। জাতীয় স্বার্থে-এমনকি ব্যক্তি ও ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানের কর্মচারিদের স্বার্থেই স্বাস্থ্য সুরক্ষা মানার অন্য কোনো বিকল্প নেই। স্বাভাবিক সময় ফিরে আসলে তখন না হয় প্রতিযোগিতামূলক ব্যবসা করা যাবে না। সময়ের কাজটিকে সময়ের সাথে মিলিয়েই দেখতে, খাপ খাওয়াতে হয়Ñ তবেই জীবন ও জীবিকার মধ্যে সমন্বয় করা সম্ভব। ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ যারা আছেন তাঁদেরও বিষয়টিকে খুবই গুরুত্ব দিয়ে স্বাস্থ্য সুরক্ষা যাতে বাধ্যতামূলকভাবে প্রতিপালিত হয়- সেই নেতৃত্বই সামনে আনা গুরুত্বপূর্ণ। এই মুহূর্তে লোভকে জয় করতে হবে- করোনাভাইরাসকে পরাজিত করার জন্যই। নিশ্চয় আবারো লকডাউনে ফিরে যাওয়া শোভন কোনো কাজ হবে না। বরং জীবন-জীবিকার জন্য যে সুযোগ সৃষ্টি হয়ে আছে সেটাও হারাতে হবে। অতএব করোনার বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জটা ব্যবসায়ীদেরও নিতে হবে। অসচেতন ক্রেতা যাতে স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য অজুহাত না হয়। স্বাস্থ্য সুরক্ষা মেনে অনেক ক্রেতা হয়তো পণ্য কিনতে চাইবেন কিন্তু স্বাস্থ্য সুরক্ষা ছাড়া পণ্য বিক্রি না করার বিষয়টি অবশ্যই দোকানি নিশ্চিত করবেন এবং তিনি সেটা পারবেনও। এর জন্য সদিচ্ছাই যথেষ্ট।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ