লকডাউন ও উগ্রতা ছড়ানোর প্রবণতা পরিস্থিতিকে আরো জটিল করতে পারে

আপডেট: এপ্রিল ৮, ২০২১, ১২:১৭ পূর্বাহ্ণ

লকডাউন চলছে দেশব্যাপি। কিন্তু হযবরল অবস্থা। লকডাউন কতটুকু মানা হচ্ছে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। লকডাউন মানাতে যে ধরনের প্রস্তুতি থাকা দরকার ছিল সেটা সরকার বা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে লক্ষনীয় নয়। আবার মানুষকে সুরক্ষার জন্যই এই লকডাউন। অথচ অনেক মানুষের মধ্যে লকডাউন না মানার প্রবণতাও ক্রিয়াশীল। শুধু তাই নয় ব্যবসায়ীদের একটা অংশ এটা নিয়ে বিক্ষোভও দেখাচ্ছেন। সরকারি নিষেধাজ্ঞার ব্যত্যয়ও ঘটাচ্ছেন। উগ্রতাও ছড়াচ্ছেন। যারা স্বাস্থ্য সুরক্ষা মেনে তাদের ব্যবসা পরিচালনার জন্য নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেয়ার দাবি জানাচ্ছেন- তারা আন্দোলনের মাঠে সামাজিক সুরক্ষা মানছেন না। এমনকী অনেকেই মাস্ক পর্যন্ত পরছেন না। তা হলে তারা যে, দোকানপাট চালু হলে স্বাস্থ্য সুরক্ষা বজায় রাখবেন তা কি করে সম্ভব হবে? এ ক্ষেত্রে শুধু তাদেরই স্বাস্থ্য সুরক্ষাই নয়- ক্রেতাদেরও স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিতের কাজটিও তাদের করতে হবে।
কিছু মানুষের মধ্যে করোনাকে উপেক্ষা ও তুচ্ছ-তাচ্ছিল্যের ভাবও লক্ষ করা যায়। ভাবটা এমন যে, করোনা অন্যকে স্পর্শ করলেও তাকে করবে না। এই শ্রেণির মানুষেরা সমস্যাকে বেশ জটিল করে তুলছেন। কোভিড-১৯ কে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করার খেসারত আমেরিকাসহ অনেক উন্নতকে দেশকে দিতে হচ্ছে। আরেক শ্রেণির মানুষের মধ্যে সরকার বিরোধিতার ক্ষেত্রে করোনাকালকে ব্যবহার করার প্রবণতাও লক্ষ্য করা যায়। অবশ্যই এরা রাজনৈতিক কর্মী। এটা অনেকটা ‘নিজের নাক কেটে অন্যের যাত্রা ভঙ্গ করা’ আর কী। করোনা প্রতিরোধে সরকার ব্যর্থ হোক এটাও ওদের প্রত্যাশা। তারাও সাধারণ মানুষের মধ্যে নানাভাবে উস্কানি দিচ্ছে। মানুষকে ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করছে। এই যেমন- করোনা টিকা নিলে রক্ত জমাট বেঁধে যাচ্ছে। এটা সর্বশেষ গুজব। ইউরোপে ব্যবহৃত টিকার ক্ষেত্রে এটা হয়েছে। যদিও ওই টিকা বাংলাদেশে প্রয়োগ হচ্ছে না। কিন্তু সেটা দেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য ভুল তথ্য দেয়া হচ্ছে।
এমন কিছু পরিস্থিতি আছে- যা দেশের জন্য সব মানুষের জন্য অবশ্য-পালনীয় হতে হয়। কোভিড-১৯ মহামারি তেমনি একটি পরিস্থিতি। এই পরিস্থিতির কেউ রাজনৈতিক ফায়দা নিবে কিংবা এটা নিয়ে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করবে এতে করোরই জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে না। এ ক্ষেত্রে সরকারের ব্যর্থতাও দেশের প্রতিটি মানুষের ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে। এবং এর কড়া মাশুল সবাইকেই দিতে হবে।
জীবনের সাথে জীবিকার প্রশ্নটি খুবই ওতপ্রোতভাবে আছে। কিন্তু এটাও মানতে হবে জীবনটাই সর্বাগ্রে। জীবস ও জীবিকার প্রশ্নটি দুর্যোগ মোকাবিলার ক্ষেত্রে খুবই সমন্বিত উপায়ে দেখতে হবে। এটা শুধু সরকারের বিষয় নয় সবার মধ্যেই এই বোধ থাকতে হবে। স্বাস্থ্য সুরক্ষা মানা গেলে হয়ত এই লকডাউনের প্রয়োজন হতো না। কিন্তু করোনা পরিস্থিতি এমনই ভয়াবহ হয়ে উঠেছে যে, কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে। এটা শুধু বাংলাদেশেই নয় পৃথিবীর দেশে দেশে এই ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। দুর্যোগ মোকাবিলার বিষয়টিকে প্রাধান্য দিয়ে জীবিকার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে হবে। কিন্তু এটা নিয়ে কোনো হঠকারি ব্যাপার হতে পারে না। ‘লকডাউন মানিনা, মানবো না’ ুকংবা ‘সবকিছু অচল করে দিব’ এই ধরনের উগ্রতা মহামারির মত দুর্যোগ মোকাবিলার সাথে যায় না। এর ফলে বিশৃঙ্খলাই সৃষ্টি হবে- যা গণমানুষের সর্বনাশকে ত্বরান্বিত করবে। সব পক্ষকেই সহনশীল আচরণের মধ্যে সমাধান খুঁজতে হবে। রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির জন্য উগ্রতা ছড়ানো অত্যন্ত গর্হিত কাজ হবে। নিশ্চয় এটা কারোরই কাম্য নয়।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ