লকডাউন ও রোজার শুরুতেই বেড়েছে সবজির দাম

আপডেট: এপ্রিল ১৬, ২০২১, ৯:১৯ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


করোনার দ্বিতীয় ধাপে লকডাউনের আগে বাজারে সকল ধরনের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেশি থাকলেও কম ছিলো সবজির দাম। লকডাউনের কিছুদিন আগেও সবজি ব্যবসায়ীরা বলেছিলেন, আসছে রমজান মাসে সবজির দাম বাড়ার সম্ভাবনা নেই। তবে রমজান ও লকডাউনের প্রথম থেকে সবজির দাম কেজি প্রতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯০ টাকার কাছাকাছি। এরমধ্যে বাজারগুলোতে বেগুনের কেজি ৮০ থেকে ৮৫ টাকা ছাড়িয়ে গেছে। চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে অন্যান্য সবজি। শসা, ঢেঁড়স, বরবটির কেজি ৮০ টাকার কাছাকাছি। লেবু ৪০ টাকা হালি।
সব ধরনের সবজি চড়া দামে বিক্রি হলেও সপ্তাহের ব্যবধানে কিছুটা কমেছে ব্রয়লার মুরগির দাম। শুক্রবার (১৬ এপ্রিল) নগরীর বিভিন্ন বাজারে ব্রয়লার মুরগির কেজি ১৪০ থেকে ১৪৫ টাকা বিক্রি করতে দেখা গেছে। যা গত সপ্তাহে ছিল ১৬০ থেকে ১৬৫ টাকা। ব্রয়লার মুরগির দাম কমলেও পাকিস্তানি কক বা সোনালী মুরগি ও লাল লেয়ার মুরগির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। সোনালী মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ২৮০ টাকা। আর লাল লেয়ার মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৯০ থেকে ২০০ টাকা কেজি।
সবজির বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মান ভেদে বেগুনের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৯০ টাকা। গত সপ্তাহে বেশিরভাগ বাজারে বেগুনের কেজি ৫০ টাকার মধ্যে বিক্রি হয়। অর্থাৎ, সপ্তাহের ব্যবধানে বেগুনের দাম বেড়ে দ্বিগুণ ছাড়িয়ে গেছে।
ব্যবসায়ী ফজয়াজ বলেন , বাজারে ৯০ টাকা কেজি বেগুন বিক্রি হচ্ছে। রোজার প্রথম দিন থেকে বেগুনের ও কিছু সবজির দাম বেড়েছে। প্রথম রোজায় বেগুনের কেজি ৬০ থেকে ৭০ টাকা বিক্রি করেছি। পাইকারিতে দাম বাড়ায় আজ ৯০ টাকা কেজি বিক্রি করতে হচ্ছে। দাম এমনিতেই বেশি, রোজার কারণে দাম আরও বেড়েছে। সবাই ভাবে আমরা সবজির দাম বেশি রাখছি। আমরা অল্প লাভেই সবজি বিক্রি করেছি। রমজান মাসকে উদ্দেশ্য করে ক্রেতারা সবজি থেকে শুরু করে বিভিন্ন রকমের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের কেনাকাটায় ব্যস্ত থাকে নগরীর বিভিন্ন বাজারগুলোতে।
তিনি আরও বলেন, রোজায় বরাবরই বেগুনের চাহিদা বেশি থাকে। এবারও এর ব্যতিক্রম হয়নি। চাহিদা বেড়ে যাওয়ার কারণেই বেগুনের এমন দাম বেড়েছে। দাম বাড়লেও বাজারে বেগুনের পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। কেউ কেউ বেগুনের দাম শুনেই চলে যাচ্ছে।
ক্রেতা সবুজ আলী বলেন, বাজারে কারো কোনো তদারকি নেই। এ কারণে মুনাফা লোভী ব্যবসায়ীরা সবকিছুর দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে সবজির দাম একটু কম থাকায় এটারও দাম বেড়েছে রমজানের প্রথমে। কষ্টে থাকা মানুষগুলোর কষ্ট আরও কয়েক গুণ বেড়ে যাবে।
এদিকে গত সপ্তাহে ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া সজনের ডাটার দাম বেড়ে ৭০ থেকে ৮০ টাকা হয়েছে। দাম বাড়ার তালিকায় রয়েছে পটল, বরবটি, শিম, ঢেরস, টমেটোসহ অন্যান্য সবজিগুলোও।
পটলের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ৩০ থেকে ৪০ টাকা। গত সপ্তাহে ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া বরবটির দাম বেড়ে ৬০ থেকে ৭০ টাকা হয়েছে। ঢেড়সের কেজিও বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ৩০ থেকে ৪০ টাকা।
২০ থেকে ৩০ টাকা পিস বিক্রি হওয়া লাউয়ের দাম বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৩৫ টাকা। রোজায় চাহিদা বাড়ায় দাম বেড়েছে শসার। ২৫ থেকে ৩০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া শসার দাম বেড়ে ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। সবজির পাশাপাশি দাম বেড়েছে শাকের। বাজার থেকে এখন শাক এক আটি কিনতে ১৫ টাকা ২০ টাকা বা তারও বেশি। পালং শাকের আঁটি বিক্রি হচ্ছে ১৫ থেকে ২০ টাকা। একই দামে বিক্রি হচ্ছে লাল শাক, সবুজ শাক, পাট ও কলমি শাক। পুঁই শাকের আঁটি বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৪৫ টাকা।
করলা ৪০ থেকে ৪৫ টাকা, সিম ৩০ থেকে ৪০ টাকা, গাজর ৩০ থেকে ৪০ টাকা, টমেটো ২০ থেকে ৩০ টাকা, শসা ৭০ থেকে ৮০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ২০ থেকে ২৫ টাকা, কাঁচামরিচ ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, বাঁধাকপি ১০ টাকা, ডুমুর ৩০ থেকে ৩৫ টাকা, প্রতিপিস লাউ ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, ফুলকপি ১০ থেকে ২০ টাকা, কাঁচা কলা ২০ থেকে ২৫ টাকা এবং প্রতি আটি লাল শাক, সবুজ শাক ও পালং শাক দাম বেড়ে বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন দামে। এছাড়া পেঁয়াজ ২৫ থেকে ৩০ টাকা, রসুন ৬০ থেকে ৮০ টাকা, আদা ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
রমযান মাসে বাড়তি কিছু পণ্যের মধ্যে ছোলা ৬০ থেকে ৬৫ টাকা, খেশারি ডাল ৬০ থেকে ৬৫ টাকা, জাত ভিত্তিক বিভিন্ন রকমের বেসনের দাম, খেজুর ২২০ থেকে ২৪০ টাকায় বেঁচাবিক্রি হচ্ছে। বিভিন্ন জাতের উন্নতমানের খেজুরের দাম বিভিন্ন রকমের। চিনি ৭২ টাকা, ভোজ্যতেলের দাম কয়েক মাস থেকে বাড়তি থাকায়- প্যাকেজাত সয়াবিন লিটার প্রতি ১৩০ টাকা, খোলা সয়াবিন ১২০ টাকা, পামওয়েল তেল লিটারে বিক্রি হচ্ছে ১১২ টাকা থেকে ১১৫ টাকা, পাঁচ লিটার সয়াবিন তেল ৬৪০।
মাংসের মধ্যে গরুর মাংস ৫৫০ টাকা, খাসির মাংস ৮০০ টাকা, দেশি মুরগি ৩০০ টাকা থেকে ৩৩০ টাকা, সোনালি মুরগি ২৫০ টাকা থেকে ২৮০ টাকা, লেয়ার মুরগি ১৯০ টাকা থেকে ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া রাজহাঁস ৪৫০ টাকা ও পাতিহাঁস ২৭৫ থেকে ২৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
অন্যদিকে, মাছের মধ্যে প্রতিকেজি ইলিশ আকার ভেদে ৪০০ থেকে ১২০০ টাকা, চিংড়ি ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা, রুই ১৪০ থেকে ২৫০ টাকা, কাতল ১৮০ থেকে ৩০০ টাকা, মিড়কা ১২০ থেকে ২০০ টাকা, পাঙ্গাস ৮০০ টাকা, বোয়াল ৩০০ থেকে ৭০০ টাকা, কৈ ২০০ থেকে ৫০০ টাকা, শৈল ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।