লকডাউন কার্যকর হচ্ছে কি? পদক্ষেপটা মানুষের জন্য সহজবোধ্য হওয়া চাই

আপডেট: এপ্রিল ৯, ২০২১, ১২:১৭ পূর্বাহ্ণ

কোভিড-১৯ সংক্রমণ ঠেকাতে লকডাউন অকার্যকর হলে বিকল্প কী হতে পারে? তা নিয়ে কথা শুরু হয়েছে। কেননা ৫ এপ্রিল থেকে যে সপ্তাব্যাপি লকডাউন চলছে তা বেশ ঢিলেঢালাভাবে চলছে। এর প্রেক্ষিতেই বিকল্প ভাবনার কথা অনেকেই ব্যক্ত করছেন। বিকল্প হিসেবে কারফিউ দেয়ার প্রতিই গুরুত্বরোপ করছেন বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু সেটা কতটুকু বাস্তবসম্মত হবে সে বিতর্ক অসিদ্ধ কিছু নয়। সংবাদ মাধ্যমে করোনা সংক্রমণের উর্ধগতি বেশ উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলেই বিশেষজ্ঞরা তাঁদের মত ব্যক্ত করছেন।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি উপেক্ষিত হতে থাকলে কঠিন পদক্ষেপ নেয়া হবে। আসলেই কঠিন পদক্ষেপ নেয়া হতে পারে- তেমন কোনো লক্ষণও সরকারের মধ্যে দেখা যাচ্ছে না। ইতোমধ্যে গণপরিবহণ চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হয়েছে একইভাবে দোকানপাট ও শপিং মল খোলার ব্যাপারে সরকার নমনীয়তা দেখাচ্ছে। তবে এগুলিকে সরকারের দেয়া শর্ত মেনেই চলতে ও খুলতে হবে। তাই বলা যায়, সহসাই কারফিউর মত পদক্ষেপে যাওয়ার সম্ভাবনা নেই বলেই মনে হচ্ছে।
তবে, লকডাউন মূলত অকার্যকর হয়ে পড়লে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনা ভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে ‘কার্যকর’ লকডাউনের কোনো বিকল্প নেই এবং এটি কার্যকর করতে সরকার প্রয়োজনে সেনাবাহিনীর সহায়তা নিতে পারে এবং জারি করতে পারে রাত্রীকালীন কারফিউ। স্বাস্থ্য সুরক্ষাই যদি করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধের বিবেচ্য বিষয় হয়- তা হলে সেটাই কার্যকর করতে পারলে অবশ্য কারফিউয়ের প্রয়োজন হবে না। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেটা কীভাবে সম্ভব? তবে এটাও ঠিক যে, কোভিড-১৯ খুব সহসা বিশ্বকে মুক্তি দিবে বলে মনে হয় না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে- করোনাকে জীবনচারণের সাথে মানিয়ে নিয়েই পৃথিবীকে অগ্রসর হতে হবে। তার মানে এই যে, করোনা প্রতিরোধের সাথে জীবন ও জীবিকার দোতানা কীভাবে সমুন্নত রাখা যায় সেটাই সবচেয়ে বিবেচ্য বিষয়। অর্থাৎ অর্থনৈতিক অগ্রগতির সাথে করোনা প্রতিরোধের কৌশলটা কীভাবে সমন্বয় করা যায় তা নিয়েই ভাবতে হবে।
কৌশল হিসেবে লকডাউন বা কারফিউ-এর মত পদক্ষেপ নেয়া যাবে না বিষয়টি তেমন নয়। তবে সতর্ক থাকা বাঞ্ছনীয় যে, সিদ্ধান্তটা যাতে গ্রহণযোগ্য হয়। সিদ্ধান্ত প্রয়োগের ক্ষেত্রে যাতে কোনো ধরনের বৈষম্যের সৃষ্টি না হয়। চলমান লকডাউনে বিশেষজ্ঞরা বিধিনিষেধ কার্যকর করতে না পারার পেছনে বেশ কয়েকটি কারণের উল্লেখ করেছেন। এগুলি হলো : বাস বন্ধ অথচ প্রাইভেট কার চালু আছে, কারখানা খোলা অথচ মার্কেট বন্ধ করা হয়েছে, অফিস খোলা রাখা হয়েছে অথচ পরিবহন বন্ধ করা হয়েছে, বইমেলা খোলা রাখা হয়েছে অথচ ক্ষুদ্র ব্যবসা বন্ধ করা হয়েছে এবং সরকারি অফিস সীমিত করা হলেও বেসরকারি অফিস পুরোদমে চলছে। এই সিদ্ধান্তের মধ্যে বৈষম্য ও মানুষের দুর্ভোগের কারণ হয়েছে। আরো পরিপক্ক ও সমন্বিত সিদ্ধান্ত নেয়া যেতে পারতো।
সরকার বোধ করি সেখানেই ফিরতে চাচ্ছে। সরকার যা করছেন তা অবশ্যই জনস্বার্থের কথা বিবেচনা করেই। তবে জনগণের অবোধ্য কোনো পদক্ষেপ বুমেরাং হয়ে পারে। জননাধারণকে তাদের কল্যাণবোধে উদ্বুদ্ধ ও সচেতন করা এবং তাদের পদক্ষেপের সাথে সম্পৃক্ত করাটাই এই মুহূর্তে মূল চ্যালেঞ্জ। সুচিন্তিত উপায়ে সেদিকটাতেই বেশি গুরুত্ব দিলে দেশ ও দেশের মানুষের জন্য কল্যাণই হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ