লাইনে দাঁড়াতে বলায় ক্ষুব্ধ মুমিনুল!

আপডেট: জানুয়ারি ২৮, ২০১৭, ১২:০৮ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক



‘আজ খুব লাঞ্ছিত হয়েছি এয়ারপোর্টে। বাংলাদেশ আনসাররা খুব খারাপ ব্যবহার করেছে।’ শুক্রবার সকালে ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড পেজে এমন স্ট্যাটাস দিয়ে হৈচৈ ফেলে দিয়েছিলেন জাতীয় দলের ক্রিকেটার মুমিনুল হক। তবে কয়েক ঘন্টা পর তা সরিয়ে নেন তিনি। দুপুর তিনটার দিকে আরেকটি স্ট্যাটাস দেন মুমিনুল। যেখানে লেখা ছিল, ‘বিমানবন্দরে আজ ছোট একটি ভুল বুঝাবুঝি হয়েছিল। বাংলাদেশ আনসার কর্তৃপক্ষকে তড়িৎ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অশেষ ধন্যবাদ।’
পাঁজরের চোটের কারণে দ্বিতীয় টেস্ট না খেলে নিউজিল্যান্ড থেকে আগেই দেশে ফিরে আসেন মুমিনুল। ঢাকায় কয়েকদিন কাটানোর পর গতকাল শুক্রবার নিজের বাড়ি কক্সবাজারে যাওয়ার পথে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ‘অপ্রীতিকর ঘটনা’র শিকার হন তিনি। সকাল ৮টার দিকে বিমানবন্দরের অভ্যন্তরীণ টার্মিনাল থেকে একটি ফ্লাইটে ঢাকা ত্যাগ করেন মুমিনুল। বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, সকালে একাধিক ফ্লাইট থাকায় অভ্যন্তরীণ টার্মিনালে যাত্রীদের অতিরিক্ত চাপ ছিল। ভীড় সামলানোর দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যরা যাত্রীদের লাইনে দাঁড়াতে বলেন। সেখানে ছিলেন মুমিনুলও।
পরে মুমিনুলের ফেসবুক স্ট্যাটাস নিয়ে শুরু হয় তোলপাড়। বিমানবন্দরের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা খোঁজ-খবর নেওয়া শুরু করেন এ ব্যাপারে। অভ্যন্তরীণ টার্মিনালে কর্তব্যরত আনসার সদস্যদের তলব করে নেওয়া হয় থানা কমান্ডার কার্যালয়ে। ঘটনাস্থলের সিসিটিভির ফুটেজও বিশ্লেষণ করে দেখা হয়।
ঘটনা সম্পর্কে জানতে মুমিনুলের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা। কিন্তু তার ফোন বন্ধ থাকায় অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত জানা যায়নি।
বিমানবন্দর থানা আনসার কমানড্যান্ট এ বিষয়ে খোঁজ নিতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। অভ্যন্তরীণ টার্মিনালে সে সময় দায়িত্ব পালন করা সাত আনসার সদস্যকে ক্লোজও করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা ব্যক্তিগতভাবে কোথাও ভ্রমণ করলে তা জানিয়ে রাখলে তাদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়া হয়। বিমানবন্দরে সে সময় ক্রিকেট বোর্ডের কোনও প্রতিনিধি উপস্থিত থাকেন। তবে মুমিনুল কক্সবাজারে যাওয়ার কথা বিসিবিকে জানাননি।
এ বিষয়ে জানাতে চাইলে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ ইউসুফ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ফেসবুকে মুমিনুল হকের স্ট্যাটাস দেখার পর আমি খোঁজ নেই। সিসিটিভির ফুটেজ পরীক্ষা সহ ঘটনার সময় দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের কাছ থেকে তথ্য নেওয়া হয়। তবে মুমিনুলের ফোন বন্ধ থাকায় তার পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া যায়নি। এখানে আনসার সদস্যদের কোনও অপরাধ থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে সকালে প্রায় একই সময়ে একাধিক ফ্লাইট থাকায় ভীড় বেশি হয়। সে সময় মুমিনুলকে না চেনার ফলে অনাকাঙ্ক্ষিত কোনও ঘটনা ঘটেছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিন বিল্লাহ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, মুমিনুল ফেসবুকে লিখেছে বিষয়টি। কিন্তু তার ফোন বন্ধ থাকায় আসলে কি ঘটেছে তা এখনও জানা যায়নি। আমাদের সঙ্গে বিমানবন্দরের আনসারের কর্মকর্তারা যোগাযোগ করেছেন। আমাদের সিকিউরিটির লোকজনও খোঁজ নিয়েছিল। কিন্তু কেউ কিছু বলতে পারছেন না। কারণ মুমিনুল কাউকে কিছু জানায়নি। মুমিনুলের সঙ্গে কথা না বলা পর্যন্ত কি ঘটেছিল, তা বলা যাচ্ছে না। তার সঙ্গে কথা বলেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মুমিনুল যে কক্সবাজার যাচ্ছে, এটাও কেউ জানতো না।
বিমানবন্দর থানা আনসার কমানড্যান্ট কাঞ্চন ব্যানার্জী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, গেটে প্রবেশের সময়ে অনেক মানুষ ছিল, তখন তিনিও (মমিনুল) প্রবেশ করছিলেন। তখন লাইনে দাঁড়াতে বলেছিল আনসার সদস্যরা, তাতে তিনি ক্ষুব্ধ হয়েছেন। বিমানবন্দরে মুমিনুলের লাঞ্ছিত হওয়ার মতো কোনও ঘটনা ঘটেনি। আমি ঘটনাস্থল পরির্দশন করেছি। সেখানে সাত জন আনসার সদস্য কর্মরত ছিল, তাদের সবাইকে ক্লোজ করা হয়েছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গেও যোগাযোগ করেছি আমরা।
এ বিষয়ে জানতে সকালে মুমিনুলের সঙ্গে বাংলা ট্রিবিউনের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলেও তিনি কথা বলেননি। পরে বিস্তারিত বলবেন বলে ফিরতি খুদে বার্তা পাঠান তিনি।-খবর বাংলা ট্রিবিউনের