বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মবার্ষিকী

লাভজনক হওয়ায় রাজশাহীতে বাড়ছে ফলদ বাগান

আপডেট: January 25, 2020, 12:44 am

মাহাবুল ইসলাম


সময়ের সাথে রাজশাহীর চাষাবাদে এসেছে ব্যাপক পরিবর্তন। পরিবর্তনের ফলে টিকতে না পেরে কমেছে আখসহ কয়েকটি ফসলের আবাদ। ধানচাষ অলাভজনক হওয়ায় ধানের আবাদ থেকেও মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে অনেক কৃষক। তাই লাভজনক হিসেবে রাজশাহীতে বিপুল পরিমাণে বেড়েছে আম, পেঁয়ারা, ড্রাগন ও মালটার বাগান।
রাজশাহীর পবা উপজেলার মধুপুরের চকের মাঠ। আজ থেকে কয়েকবছর বছর আগেও এখানে ধান ছাড়া অন্য কোনো আবাদ তেমন দেখা যেত না। কিন্তু সময়ের সাথে এ মাঠের আবাদে যেমন পরিবর্তন এসেছে তেমনি বেড়েছে ফলদ বাগান। শুধু এই মাঠ নয়, রাজশাহীর অধিকাংশ মাঠের চিত্র প্রায় এমনই।
রাজশাহীর মাল্টা চাষি উজ্জল হোসেন বলেন, আমি ৫ বছর আগে ছোট একটা ব্যবসার পাশাপাশি ধানের আবাদ করতাম। কিন্তু ধানের আবাদ করে কোনো লাভ হয়না। খাটনিও বেশি হয়। তাই প্রথমে পেয়ারা বাগান দিয়ে শুরু করেছিলাম। এখন আমার ১২ বিঘায় মাল্টা বাগান আছে। ধান বা অন্যান্য ফসলের চেয়ে এটা লাভজনক।
আরেক পেয়ারা চাষি মুনির হোসেন বলেন, আমার এখন প্রায় ৩ বিঘা জমিতে পেয়ারা বাগান আছে। আমার নিজস্ব জমিতেই বাগান করেছিÑ যেখানে আগে ধানের আবাদ করতাম। অন্যান্য ফসলের চেয়ে ফলের বাগান করা লাভজনক। তবে আমাদেরকে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখিন হতে হয়। আমরা যদি কৃষি কর্মকর্তাসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে কিছু সুযোগ-সুবিধা পেতাম তাহলে উপকৃত হতাম।
রাজশাহীর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের গত দশ বছরের পর্যবেক্ষণেও ফলের আবাদ বৃদ্ধি পাওয়ার তথ্য উঠে এসেছে। রাজশাহী জেলায় ২০১০-১১ সালে আমের আবাদকৃত জমির পরিমাণ ছিল ৮ হাজার ৪২০ হেক্টর। যা ক্রমবর্ধমান হারে ২০১৮-১৯ সালে ৯ হাজার ১৫৩ হেক্টরে বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ায় ১৭ হাজার ৫৭৩ হেক্টর। ২০১০-১১ সালে আমের উৎপাদন ছিল ৯৯ হাজার ৬২৭ মেট্রিক টন। যা ২০১৮-১৯ সালে বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ায় ২ লাখ ৯ হাজার ২৯৪ মেট্রিক টন।
২০১০-১১ সালে পেয়ারার আবাদকৃত জমির পরিমাণ ছিল ৬৮২ হেক্টর। যা ২০১৮-১৯ সালে ৩ হাজার ৩৩৮ হেক্টর বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ায় ৪ হাজার ২০ হেক্টরে। ২০১০-১১ সালে পেয়ারার উৎপাদন ছিল ৬ হাজার ৮২০ মেট্রিক টন। যা ২০১৮-১৯ সালে বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ায় ৯৫ হাজার ৩৭৪ দশমিক ৫ মেট্রিক টন।
রাজশাহীতে ড্রাগনের আবাদ শুরু হয় ২০১৪ সালে। যখন আবাদকৃত জমির পরিমাণ ছিল ০ দশমিক ৫ হেক্টর। উৎপাদন ছিল মাত্র ৫ মেট্রিক টন। যা ২০১৮-১৯ সালে বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ায় ৩ দশমিক ২ হেক্টর। এবং উৎপাদন ৩৮ দশমিক ৬৩ মেট্রিক টন। এছাড়া মাল্টার আবাদ শুরু হয় ২০১৬ সালে। যখন আবাদকৃত জমির পরিমাণ ছিল ২৫ দশমিক ৪ হেক্টর। যা ৩ বছরের ব্যবধানে বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ায় ১২৪ দশমিক ৮ হেক্টরে। এবং উৎপাদন ১৬০ দশমিক ৩১ মেট্রিক টন। তবে বাংলাদেশের জাতীয় ফল কাঁঠালসহ কয়েকটি ফলের আবাদ আশানুরূপ বৃদ্ধি পায়নি।
এ বিষয়ে রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শামসুল হক বলেন, রাজশাহীতে ফলের আবাদ তুলনামূলকভাবে অনেকটাই বৃদ্ধি পেয়েছে। রাজশাহীর ধানি জমিতে এখন আম, পেয়ারা ও মাল্টার আবাদ বেড়েছে। এর কারণ হলো ধানের আবাদ করলে সারাবছর মাঠে থাকতে হয়। আমবাগান করলে এতটা সময় দিতে হয়না। হয়তো মাঝখানে কয়েকটা সেচ দিতে হয়, সার দিতে হয় আর স্প্রে করলেই হয়। ধানের মতো সবসময় মাঠে পড়ে থাকতে হয় না। এ জন্যে অনেকেই মাঠে আমবাগান করতে আগ্রহী হচ্ছেন। রাজশাহীতে আমবাগান করতে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। কৃষক তার ইচ্ছেমতো কৃষি কাজ করতে পারে।