লালপুরের বাজারে দেশি জাতের লিচু

আপডেট: মে ৯, ২০২১, ৯:৫৭ অপরাহ্ণ

ইমাম হাসান মুক্তি, লালপুর:


নাটোরের লালপুরের বাজারে আসতে শুরু করেছে দেশি জাতের লিচু। এখন দেশি জাতের লিচু ছাড়া অন্য জাতের লিচু বাজারে আসেনি। মৌসুমের নতুন ফল হিসেবে ক্রেতাদের তুলনামূলক একটু বেশি দামেই লিচু কিনতে হচ্ছে।
রোববার (৯ মে) লালপুর ও গোপালপুর বাজারে গিয়ে দেখা যায়, ঝুড়ির মধ্যে চটের ভেজা বস্তা। তার ওপর সবুজ পাতায় মোড়ানো লাল আভার লিচুগুলো এখন থোকায়-থোকায় শোভা ছড়াচ্ছে। মৌসুমি ফল হিসেবে অনেকে বেশি দাম দিয়েই ক্রেতারা কিনছেন লিচু।
লালপুর বাজারের লিচু বিক্রেতা রাকিব, সাজদার, আমিন এবং গোপালপুর বাজারের জালাল ও শরিফুল ইসলাম বলেন, চারদিন আগে থেকে বাজারে লিচু বিক্রি হচ্ছে। প্রথমে ৩০০ টাকা, তারপর ২৮০ টাকা শ দরে বিক্রি হয়েছে। আজ প্রতি ১০০ লিচুর দাম প্রকার ভেদে ১৮০-২২০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। আর কয়েকদিন পর বিভিন্ন উন্নত জাতের লিচু বাজারে পাওয়া যাবে। তখন দাম কিছুটা কমতে পারে। এই দেশি জাতের লিচুগুলো একটু টক ও হালকা মিষ্টি। কিছু দিন পর টসটসে মিষ্টি মাদ্রাজী, বোম্বাই, বেদানা, চায়না, কাঠালী বোম্বাই লিচু বাজারে আসবে।
কয়েকজন ক্রেতাদের সাথে কথা হলে তারা বলেন, প্রতি ১০০ লিচু দাম নিচ্ছে ২০০ টাকা করে। স্বাদ ও গুণে এখনও লিচু পরিপক্ক হয়নি। কেবলমাত্র বাড়তি মুনাফার আশায় ব্যবসায়ীরা গাছ থেকে লিচু ভাঙছেন। এগুলো দেশি জাতের লিচু। স্বাদেও টক-মিষ্টি। অনেকগুলো খুবই টক।
লিচু চাষীরা জানান, বৈরী আবহাওয়ার কারণে এ বছর লিচুর উৎপাদন কম হয়েছে। বৈচিত্র্যের কারণে সব ফল একই সময় পাকে না। ফলে পুরো জ্যৈষ্ঠ মাসজুড়ে থাকে। দেশি জাতের এই লিচুগুলো একটু টক ও হালকা মিষ্টি। টসটসে মিষ্টি লিচু আসবে কিছু দিন পর।
লালপুর উপজেলা কৃষি অফিসার মো. রফিকুল ইসলাম জানান, এ বছর লালপুর উপজেলায় ১০৫ হেক্টর জমিতে লিচুর আবাদ হয়েছে। এ থেকে প্রায় ৪০০ মেট্রিক টন লিচু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। কম সময় গাছে ও বাজারে থাকে বলে লিচুকে অতিথি ফল বলা হয়। এবার ফুল থেকে গুটি আসা পর্যন্ত নানারকম বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে পড়েছে লিচুগাছ। এ অঞ্চলে মূলত উন্নতমানের জাত হিসেবে পরিচিত বোম্বাই, মাদ্রাজি, কাদমি, মোজাফফরপুরী, বেদানা, কালীবাড়ি, মঙ্গলবাড়ি, চায়না-৩, বারি-১, বারি-২ ও বারি-৩ জাতের লিচু। রসালো এসব লিচুর উৎপাদনও বেশি, আকারও বড়।
মে মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে আগাম জাতের টক-মিষ্টি স্বাদের বারি-১ বাজারে আসতে শুরু করেছে। এরপর বাজারে আসবে বারি-২ ও বারি-৩। বারি জাতের লিচু এক থেকে দেড় সপ্তাহের মধ্যে পেকে যায়। থাকবে জুনের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত। এরই মাঝে আসবে বোম্বাই, চায়না-৩, কাদমি, মোজাফফরপুরী, বেদানা, কালীবাড়ি, মঙ্গলবাড়িসহ অন্য জাতের লিচু। সব মিলিয়ে জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত টসটসে রসে ভরা লিচু থাকবে বাজারে।