লালপুরে অচল ‘গরিবের অ্যাম্বুলেন্স’

আপডেট: জানুয়ারি ২৯, ২০২৩, ১১:৩৩ অপরাহ্ণ

লালপুর (নাটোর) প্রতিনিধি:


কম ভাড়ায় অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে আনা-নেওয়ার জন্য লালপুরে বেশ জনপ্রিয়তা পায় ‘গরিবের অ্যাম্বুলেন্স’। তবে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বর্তমানে বিকল হয়ে পড়েছে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাকে অ্যাম্বুলেন্সে রূপ দেওয়া যানবাহনগুলো। এতে কম খরচে দ্রুত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন হাজারো মানুষ।

জানা যায়, দিনের ২৪ ঘণ্টাতেই ফোন করে ঠিকানা জানিয়ে দিলেই বাড়ির দোরগোড়ায় গিয়ে হাজির হতো রোগী পরিবহনের ব্যাটারি চালিত ইজিবাইক ‘কমিউনিটি অ্যাম্বুলেন্স’। অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলের সন্তান সম্ভবা নারীসহ মুমূর্ষু রোগীদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও কমিউনিটি ক্লিনিকে সহজেই আনা-নেয়া করা হতো। আর ইউনিয়ন থেকে উপজেলা হাসপাতালের দূরত্ব অনুসারে পরিবহন খরচ নির্ধারণ করা ছিল ৫০-১০০ টাকা। ভাড়া কম হওয়ায় আম্বুলেন্সগুলো পরিচিতি পায় গরীবের আম্বুলেন্স নামে। আর যাত্রী বহনের ভাড়ার টাকা থেকে দেয়া হতো চালকের বেতন এবং ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ব্যাটারি চার্জ ও অ্যাম্বুলেন্স মেরামতের খরচ বহন করা হতো।

এবিষয়ে উপজেলার ঈশ্বরদী ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ মুকুল হোসেন বলেন, এসব অ্যাম্বুলেন্সে বিগত সময়ে অনেক রোগীকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়েছে মাত্র ৫০ টাকায়। দরিদ্র মানুষ খুব উপকার পেয়েছিল। এখন আম্বুলেন্সটি নষ্ট থাকায় পরিষদে পড়ে আছে।
কদিমচিলান ইউনিয়ন পরিষদের আনসারুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আম্বুলেন্সটি নষ্ট হয়ে পরিত্যাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। দিনে দিনে চাকাসহ ইজিবাইকটির বডিও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সেটি মেরামত করতে প্রায় দেড় লাখ টাকা প্রয়োজন হবে। সরকারিভাবে এর জন্য কোনো বরাদ্দ না পাওয়ায় এগুলো মেরামতের ব্যবস্থা করা যাচ্ছে না।

ঈশ্বরদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল আজিজ রনজু বলেন, কমিউনিটি অ্যাম্বুলেন্স অকেজো বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। অর্থ বরাদ্দ পেলে অ্যাম্বুলেন্সটি মেরামত করা হবে। আম্বুলেন্সটি চলাচল উপযোগী করা গেলে সাধারণ মানুষ উপকৃত হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০১৫-২০১৬ অর্থ বছরে উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের রোগীদের দ্রুত সেবা প্রদানের লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগ হতে দ্বিতীয় লোকাল গভর্নেন্স সাপোর্ট প্রজেক্ট এলজিএসপি-২ প্রকল্পের আওতায় একটি ব্যাটারি চালিত ইজিবাইক ‘কমিউনিটি অ্যাম্বুলেন্স’ হিসেবে প্রদান করা হয়। যার প্রতিটির ব্যয় ধরা হয় ২ লাখ ১০ হাজার টাকা।

এবিষয়ে লালপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ইসাহাক আলী বলেন, এইগুলো এখন মানুষ ব্যবহার করতে চায় না। এখন পযাপ্ত আম্বুলেন্স সার্ভিস পাওয়া যাচ্ছে। এসব কারণে এগুলো উপযোগী করে তোলার দাবি অনেকটায় হারিয়ে ফেলেছে। তারপরও আমরা এগুলো মেরামত করার মত হলে পুনরায় চালু উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ