লালপুরে দুর্ভোগ থেকে রক্ষা পেতে রাস্তা সংস্কার এলাকাবাসীর

আপডেট: জুন ২৪, ২০২১, ১০:০২ অপরাহ্ণ

লালপুর প্রতিনিধি:


নাটোরের লালপুর উপজেলার মোহরকয়া গ্রামে দুর্ভোগ থেকে রক্ষা পেতে রাস্তা সংস্কার করতে নেমে পড়লেন সর্বস্তরের জনগণ। বৃহস্পতিবার (২৪ জুন) সকাল থেকে কোদাল, ডালি নিয়ে লুঙ্গি-গামছা পরে কলেজ অভিমুখে রাস্তা সংস্কারে মানুষের ঢল নামে। দুপুরে গ্রামবাসীর খাবারের জন্য খিচুড়ির আয়োজন করা হয়।
গ্রামবাসীর রাস্তা নির্মাণের খবরে উপস্থিত হন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাম্মী আক্তার, লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফজলুর রহমান, বিলমাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমান মিন্টু, বিলমাড়িয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ছিদ্দিক আলী মিষ্টু, সমাজসেবক বশির উদ্দীন, মোহরকয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. রমজান আলী, ছায়া প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সিমানুর রহমান, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তির্বগসহ গ্রামের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ।
মোহরকয়া বাজারের চা বিক্রেতা আব্দুল জাব্বার জানান, বাজার থেকে মোহরকয়া ডিগ্রী কলেজ অভিমুখের রাস্তাটি বর্ষার পানিতে চলার অযোগ্য হয়ে পড়ে। এলাকার সর্বস্তরের জনগণ, স্কুল ও কলেজে যাতায়াতে নিদারুণ কষ্টের সম্মুখীন হয়। কয়েক হাজার হাজার লোকের চলাচলের এই রাস্তাটি সংস্কার করার জন্য গ্রামের সর্বস্তরের জনগণ নিজেদের অর্থায়নে উদ্যোগ গ্রহণ করে। তিনি বলেন, আমি নিজেও ৮০০ টাকা চাঁদা দিয়েছি।
ব্যবসায়ী আসলাম উদ্দীন বলেন, বাজার থেকে পাকা পর্যন্ত রাস্তাটি প্রায় ১১০০ মিটার। বর্তমানে আমের মৌসুম হওয়াই মৌসুমী ফল আম বুঝায় কোন ধরনের কোন বাহন যেতে না পারায় আম ব্যবসায়ীরাও দুর্ভোগের সম্মুখীন হচ্ছেন। যানবাহন তো দূরের কথা, হেঁটে চলাচলও অসম্ভব হয়ে পড়ে।
স্থানীয় পল্লি চিকিৎসক নুহুউল্লাহ কবীর বলেন, লালপুর-বিলমাড়িয়া রাস্তাটি ভেঙে যাওয়ায় লোকজন চলাচলের জন্য এই রাস্তা ব্যবহার করেন। প্রতিদিন বিভিন্ন ধরনের যাত্রীবাহী ও মালবাহী গাড়ি যাতায়াত করে। কিন্তু কাদা-পানিতে সেটি আর সম্ভব হচ্ছে না। বিলমাড়িয়া ও দুড়দুড়িয়া ইউনিয়নে হাজার হাজার লোকের চলাচলের এই রাস্তাটি সংস্কার করার জন্য গ্রামের সর্বস্তরের জনগণ নিজেদের অর্থায়নে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
স্বউদ্যোগে রাস্তা সংস্কার কর্মসূচির উদ্যোক্তা, মোহরকয়া ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ ড. মো. ইসমত হোসেন বলেন, রাস্তাটি পাকা হলে এ এলাকার মানুষের কষ্ট দূর হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের এবং এ অঞ্চলের মানুষের দিকে তাকিয়ে রাস্তাটি পাকা করার উদ্যোগ গ্রহণের জন্য কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেন।
বিলমাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমান মিন্টু বলেন, আগামীতে বরাদ্দ পেলে রাস্তা নির্মাণ করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাম্মী আক্তার বলেন, সড়কটি মেরামতের জন্য প্রকল্প আকারে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আমি পাঠাবো। অনুমোদন পেলেই দ্রুত কাজ শুরু হবে। তবে আপনাদের নিজ ইচ্ছায় সাময়িক সংস্কার করে মানুষের দুর্ভোগ কমাতে এগিয়ে আসার জন্য আমি এমন মহৎ উদ্যোগকে স্বাগত জানাই।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ