লালপুরে পুকুর খননকালে গুপ্ত আমলের পাথরের মূর্তি উদ্ধার

আপডেট: মে ২৫, ২০২১, ৯:২৩ অপরাহ্ণ

লালপুর প্রতিনিধি:


নাটোরের লালপুর উপজেলার চামটিয়া মাঠে একটি পুকুরে সংস্কার কাজ করতে গিয়ে গুপ্ত আমলের পাথরের একটি মূর্তি পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে পঞ্চম থেকে ষষ্ঠ শতকে মূর্তিটি নির্মিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৫ মে) হোমিও চিকিৎসক মুক্তার হোসেনের পুকুর খনন করার সময় মূর্তিটি উদ্ধার করা হয়।
লালপুর থানা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার চামটিয়া মাঠে ডাক্তার মুক্তার হোসেনের একটি পুকুরে সংস্কার করতে গিয়ে অতিপ্রাচীনকালের পাথরের একটি মূর্তি পাওয়া যায়।
পুকুরের মালিক হোমিও চিকিৎসক মুক্তার হোসেন জানান, উপজেলার মানকহার মৌজার চামটিয়া মাঠে ১৮৩ নং দাগে ২.৫৬ একর জমিতে পুকুরের অবস্থান। সিএস, এসএ, আরএস খতিয়ানে এটি পুকুর হিসেবে রয়েছে। প্রশাসনের অনুমতিক্রমে দুই সপ্তাহ আগে পুকুরটি সংস্কারের কাজ শুরু হয়। ইতোমধ্যে খনন কাজ শেষ করে পুকুরের তলার মাটি সমান করার কাজ চলছিল। মঙ্গলবার সকালে পুকুরের উত্তর-পূর্ব কোণে তলার একটি ঢিবি সমান করার সময় শ্রমিকদের কোদালে শক্ত কোন কিছু বাধে। শ্রমিকরা এ সময় মূর্তিটি উদ্ধার করে। মূর্তি উদ্ধারের খবরে উৎসুক জনতা ও পুলিশ প্রশাসন সেখানে আসে।
লালপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) এস এম মেজবাউল হক জানান, মূর্তিটির ওজন প্রায় ১৫০ কেজি, উচ্চতা ৩ ফুট ও চওড়া দেড় ফুট।
লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফজলুর রহমান জানান, মূর্তিটি পুলিশের হেফাজতে নাটোর ট্রেজারিতে হস্তান্তর করা হয়েছে।
লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাম্মী আক্তার জানান, ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উদ্ধারকৃত মূর্তিটি পুলিশ প্রশাসনের মাধ্যমে নাটোর জেলা প্রশাসন ট্রেজারিতে পাঠানোর ব্যবস্থা করেছেন। জেলা প্রশাসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরবর্তী কোন সংগ্রহশালা বা জাদুঘরে পাঠানো হবে।
রাজশাহী বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘরের ডেপুটি চীফ কনজার্ভেশন কর্মকর্তা মো. আব্দুল কুদ্দুস জানান, এটি ধূষর বালুকা প্রস্তর মূর্তি। ধারণা করা হচ্ছে, মূর্তিটি গুপ্ত আমলে অর্থাৎ পঞ্চম থেকে ষষ্ঠ শতকে নির্মিত হয়েছে। যার ঐতিহাসিক মূল্য অপরিসীম। অমূল্য এই সম্পদের মূল্য আর্থিকভাবে নির্ধারণ সম্ভব নয়। তিনি আরো বলেন, নিশ্চিত ধারণা করা হচ্ছে এটি গঙ্গা মূর্তি। তিনি মূর্তিটি বরেন্দ্র গবেষণা যাদুঘরে হস্তান্তরের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ৯ জুন উপজেলার আব্দুলপুর রেলওয়ে জংশন এলাকা সংলগ্ন ভুটভুটি ষ্ট্যান্ড থেকে রাধাকৃষ্ণ ও বিষ্ণুর দুটি মূর্তি উদ্ধার করা হয়। কোর্টকে বিষয়টি অবহিত করে যাদুঘরে মূর্তি দুটি সংরক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহন করার কথা হয়।