লালপুরে লাশ চুরির ভয়ে ঘরের মধ্যে দাফন

আপডেট: এপ্রিল ২৭, ২০১৭, ১২:৩৮ পূর্বাহ্ণ

নাটোর অফিস


নাটোরের লালপুরে বজ্রপাতে নিহত কৃষক হাফিজুল ইসলামের (২৬) লাশ চুরির ভয়ে ঘরের মধ্যে দাফন করেছে তার স্বজনরা। গত মঙ্গলবার দুপুরে তার ঘরেই কবর খনন করে মরদেহ দাফন করা হয়। এছাড়া কবরের চারপাশে দিয়ে ইটের প্রাচীর দিয়ে ঘিরে দেয়া হয়। নিহত হাফিজুল ইসলাম উপজেলার ওয়ালিয়া পশ্চিমপাড়া গ্রামের আতাউর রহমানের ছেলে।
লালপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু ওবায়েদ এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বজ্রপাতে হাফিজুল ইসলামের মৃত্যুর পর তার মরদেহকে ঘিরে রটতে থাকে নানা গুজব। জনমনেও এ মরদেহ নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন ওঠে। ওয়ালিয়া এলাকার অনেক মানুষেরই ধারণা, বজ্রপাতের কারণে মরদেহের আক্রান্ত একটি অংশ স্বর্ণে পরিণত হয়। আর তাই মরদেহটি কেউ চুরি করে বিদেশিদের কাছে বিক্রি করে দেবেন। এসব ধারণা থেকেই তারা কুসংস্কারে সাড়া দিয়ে বিভিন্নজনের বিভিন্ন প্রশ্ন ও মন্তব্যের অবসান ঘটিয়ে বজ্রপাতে নিহত হাফিজুলকে দাফন করা হয় তার নিজ ঘরেই।
তিনি আরো বলেন, বিষয়টি হাস্যকর হলেও এ ঘটনায় লালপুর জুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের বাবা আতাউর রহমান জানান, গ্রামের অনেকেই বলাবলি করছে নিহত হাফিজুলের মরদেহ যদি সামাজিক কবরস্থানে দাফন করা হয়, তাহলে তার মরদেহটি রাতের অন্ধকারে চুরি হয়ে যাবে। তাই ছেলের মরদেহ যাতে চুরি না হয়, সেজন্য নিজ ঘরেই কবর তৈরি করে মরদেহ দাফন করেন তারা।
গত সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বাড়ির পার্শ্বে মাঠে কৃষি জমিতে কাজ করার সময় বজ্রপাতে তার মৃত্যু হয়।