লালপুরে শিশু ধর্ষণ, হত্যার পর লাশ গুম, দুইজনকে গ্রেফতার

আপডেট: অক্টোবর ২৪, ২০২১, ৯:০৫ অপরাহ্ণ

নাটোর প্রতিনিধি :


শিশু নুসরাত জাহান বাবলীকে (৭) একা পেয়ে প্রথমে ধর্ষণ ও পরে হাঁসুয়ার আঘাতে হত্যা করে কিশোর ইলিয়াস হাসান ইমন (১৫) মৃত্যু নিশ্চিতের পর মৃতদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে বস্তায় ভরে টয়লেটের টাংকিতে ভরে রাখে ইমন। একদিন পর বাবলীর মৃতদেহ আবার টাংকি থেকে তুলে বাবলীর বাড়ির অদূরে একটি ধানক্ষেতে ফেলে রাখে। নিখোঁজের পূর্বে বাবলী ইমনদের বাড়িতে আসার কথা জানাজানি হলে বাবা ফাইজুল ইসলাম জিজ্ঞাসা করলে ইমন হত্যার কথা স্বীকার করে। তখন বাবা ফাইজুল বস্তাবন্দি মৃতদেহটি দূরের আরেকটি ধানক্ষেতে ফেলে আসে। এ ঘটনার সাথে জরিত থাকার অপরাধে অভিযুক্ত ইলিয়াস হাসান ইমন (১৫) সহ দুইজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এছারাও হত্যার কাজে ব্যবহৃত হাসুয়া উদ্ধার করেছে পুলিশ । এঘটনার ৪দিন পর পুলিশের অনুসন্ধানে এমন এচিত্র উঠে আসে।

রোববার (২৪ অক্টোবর) দুপুরের দিকে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে নাটোরের পুলিশ সুপার লিটন কুমার শাহা এসব তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, গত মঙ্গলবার (১৯ অক্টোবর) দুপুর দুইটার দিকে লালপুর উপজেলার আব্দুলপুর কদমতলা মোড় এলাকার বাবুর ৭ বছরের মেয়ে বাবলি মঙ্গলবার বেলা ২টার দিকে প্রতিবেশী আরশেদ আলীর বাড়িতে পিকনিক খেতে গিয়ে নিখোঁজ হয়। তাকে খোঁজাখোঁজি করে না পেয়ে তার বাবা বাবু পরদিন আব্দুলপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। গত (২৩ অক্টোবর) ঘটনার ৪ দিন পর সকালে বাবুর বাড়ির কাছেই একটি ধান ক্ষেতে শিশুটির মরদেহ পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে। পরে নাটোর জেলা পুলিশ ঘটনাটি স্পর্শকাতর হওয়ায় চারটি টিম গঠন করে।

পুলিশ সুপার লিটন কুমার শাহা আরও বলেন, প্রতিবেশী আরশেদ আলীর বাড়িতে পিকনিক খাওয়ার উদ্দেশ্যে যায় বাবলী। সেখানে গিয়ে রান্না বান্নার শেষ পর্যায়ে সবাই গোসল করার জন্য নিজ নিজ বাড়িতে যায়। কিন্তু শিশু অপরাধী ইমন বাড়িতে গিয়ে টেলিভিশন দেখতে থাকাকালীন নুসরাত জাহান বাবলী ইমনদের বাড়িতে যায়। এমন সময় ইমনের বাবা মা বাড়িতে না থাকার সুযোগে ইমন বাবলীকে জোর পূর্বক ধর্ষণের পর তাকে হত্যা করে লাশ গুম করে। পরে গত (২২ অক্টোবর ) ইমনের বাবা বাড়িতে এসে নিখোঁজের বিষয়টি জানতে চাইলে ইমন ঘটনাটি তার বাবাকে জানায়। ইমনের বাবা ফাইজুল ইসলাম তখন টয়লেটের টাংকিতে থেকে লাশ গোপন করার উদ্দেশ্যে বাড়ির ২০০ মিটার দূরে গ্রামের মাসুদের ধান ক্ষেতের মধ্যে বস্তা বন্দি অবস্থায় লাশটি ফেলে আসে।

অপরদিকে ঘটনাটি স্পর্শকাতর হওয়ায় নাটোর জেলা পুলিশ গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করে এবং তাৎক্ষণিকভাবে লিটন কুমার সাহা পিপিএম-বার, পুলিশ সুপার, নাটোর ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনের জন্য বড়াইগ্রাম সার্কেলের দায়িত্বে নিয়োজিত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মীর আসাদুজ্জামান, অফিসার ইনচার্জ, লালপুর থানা, নাটোর, ইন্সপেক্টর (তদন্ত) লালপুর থানা, নাটোর এবং ইনচার্জ, আব্দুলপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র, লালপুর, নাটোরদের নেতৃত্বে চার টি টিম গঠন করে। পুলিশ স্বল্প সময়ের মধ্যেই মামলার রহস্য উদঘাটন করে মামলা ঘটনার সাথে জড়িত শিশু অপরাধী ইলিয়াস হাসান ইমন এবং বাবা ফাইজুল ইসলাম (৪০) (সহযোগী আসামী) কে গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করা হয়।