লালপুর ও বাগাতিপাড়ায় দুটি ভোট কেন্দ্রে ধাওয়া পাল্টাা ধাওয়া এজেন্টদের বের কের দেয়ার অভিযোগ, আটক ২

আপডেট: মে ২১, ২০২৪, ৮:২৩ অপরাহ্ণ

নাটোর প্রতিনিধি:


৬ষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দ্বিতীয় ধাপে নাটোরে দুই উপজেলায় ১৩২ ভোট কেন্দ্রে প্রতিপক্ষের এজেন্টদের ভোট কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ, ভোট কেন্দ্রের বাহিরে প্রতিপক্ষের হামলায় ৪জন আহত হয়েছে। অপরদিকে ফাগুয়ারদিয়ার কেন্দ্রে ভোট দিকত বাধা দেওয়ায় এবং ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে আসতে বাধা দেওয়ার অভিযোগে দুইজনকে আটক করে ডিবি পুলিশ।
মঙ্গলবার (২১ মে ) সকাল ৮টা থেকে লালপুর ও বাগাতিপাড়া উপজেলায় ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। লালপুরের গৌরীপুর কেন্দ্রে উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী আমিনুল ইসলাম জয় এবং শামিম আহমেদ সাগর অভিযোগ করেন . অপর চেয়ারম্যান প্রার্থী আফতাব হোসেন ঝুলফুর সমর্থকরা ভোট কেন্দ্র থেকে তাদের এজেন্টদের ভয়ভিতি দেখিয়ে বের করে দিয়েছেন।

স্থানীয় লোকজন জানান, এ সময় আমিনুল ইসলাম জয় এবং আফতাব হোসেন ঝুলফুর সমর্তকদের মধ্য্যে ধাওয়া ও পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হলে কিছু সময়ের জন্য ভোট গ্রহণ বন্ধ রাখা হয়। পরে প্রশাসনের সহযোগিতায় পুনরায় ভোট গ্রহণ শুরু হয়্। বালিতিতা কেন্দ্র থেকে আমিমনুল ইসলাম জয়ের এজেন্টকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ করেন তিনি। এসময় কেন্দ্রে কিছুটা বিশৃঙ্খরা সৃষ্টি হয়। তবে প্রশাসেেনর হস্তক্ষেপে দ্রুত পরিস্থিতি শান্ত হয়। আমিনুল ইসলাম জয় আরো অভিযোগ করেন লালপুরের রামকৃষ্ণপুর কেন্দ্র থেকে তার এজন্টকে বের করে দেয়া হয়। পরে তিনি সেখানে গিয়ে নতুন এজেন্ট দেন।

অপরদিকে, বাগাতিপাড়া উপজেলার মারিয়া ভোট গ্রহণ কেন্দ্রে সকাল সাড়ে আট টার দিকে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোঃ আসলাম উদ্দিন এর অনুসারীরা ভোট কেন্দ্রের বাইরে অপর চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোঃ শরিফুল ইসলাম এর অনুসারী দের উপর হামলা চালায়। ভোট কেন্দ্রে আসতে নিষেধ করে।এসময় দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

আনারস প্রতিকের চেয়ারম্যান প্রার্থী শরিফুল ইসলাম অভিযোগ করেন, তার এজেন্টকে জোর করে এই কেন্দ্র থেকে অপর চেয়ারম্যান প্রার্থী আসলাম উদ্দিনের সমর্থকেরা বরে করে দেয়। এরপর ভোট কেন্দ্রের বাইরে তার সমর্থকদের ভোট কেন্দ্র থেকে চলে যেতে বলে। এসময় প্রতিবাদ করলে আসলাম উদ্দিনের সমর্থকরা তার সমর্থকদের ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এসময় প্রভাষক মিজান, মাছিম ,নয়ন ও রনি সহ তার ৪জন সমর্থক আহত হন। পরে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আসে। তবে আসলাম উদ্দিন এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি এ বিষয়ে কিছু জানেন না। তিনি অন্য একটি ভোট কেন্দ্রে অবস্থান করছেন।

এ বিষয়ে রিটার্নিং অফিসার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মাসুদুর রহমান বলেন গোলযোগের সংবাদ পেয়ে খুব দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে।
অপরদিকে বাগাতিপাড়া উপজেলার ফাগুয়ার দিয়ার কেন্দ্রে শরিফুল ইসলামের সমর্থক ফাগুয়ার দিয়ার ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ও আবুল বাশারকে আটক করে ডিবি পুলিশ। পুলিশ জানায়, ডিবি পুলিশের ওসি সৈকত হোসেন জানান, কেন্দ্রে প্রতিপক্ষের সমর্থক ও ভোটারদের ভয়ভিতি দেখাচ্ছে এমন অভিযোগে ডিবি পুলিশের একটি টিম ভোটার সেজে কেন্দ্রে প্রবেশ করে। এরপর হুমকি প্রদর্শন করার সময় পিছু ধাওয়া করে ডিবি পুলিশ সাইফুল ইসলাম ও আবুল বাশারকে আটক করে। পরে তাদের ম্যাজিস্ট্রেটের হাতে তুলে দেয়া হয়। তবে লালপুরের ৬জন চেয়ারম্যান প্রার্র্তী জানিয়েছেন দুএকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া শান্তিপূর্ন ভাবে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। অপরদিকে বাগাতিপাড়া উপজেলার ৫জন চেয়ারম্যান প্রার্থী একই কথা বলেন।