লাশ জিম্মি করে চাঁদাবাজি জঘন্য অপরাধ চলতে দেয়া যায় না

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২১, ১২:০৮ পূর্বাহ্ণ

মৃত মানুষকে নিয়ে দরকষাকষি, চাঁদাবাজি, হেনস্থার ঘটনা দীর্ঘ দিন ধরেই চলে আসছে। মাঝেমধ্যেই এমন অমানবিক ঘটনা নিয়ে সংব্দ মাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। কিন্তু ওই দালালচক্রকে দমিত করা যায় নি। তারাও দিনে দিনে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
এই পরিস্থিতি কত ভয়ঙ্কর ও অমানবিক হতে পারে তার একটি চিত্র সামনে এসেছে। এ সংক্রাান্ত একটি ঘটনার সংবাদ দৈনিক সোনার দেশসহ বিভিন্ন সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।
মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ ২১ ফেব্রুয়ারি বিকেলে অভিযান চালিয়ে লাশ বহণকারী গাড়ির চাঁদাবাজ ও দালালচক্রের ৭ সদস্যকে গ্রেফতার করে। লক্ষ¥ীপুর পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ৪র্থ তলায় সিডিএম হসপিটালের আইসিউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জয়নাল আবেদীন নামে এক ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করেন। মৃত ব্যক্তির স্বজনরা হাসপাতালের সমুদয় বিল পরিশোধ করে লাশ নিজ বাড়ি মেহেরপুর জেলায় নেয়ার জন্য নিজস্ব অ্যাম্বুলেন্সে উঠানোর সময় লাশ বহনকারী গাড়ির স্থানীয় চাঁদাবাজ ও দালাল চক্রের সদস্যরা বাধা দেয় এবং লাশ নিতে হলে ১০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে।
দালালচক্র লাশের আত্মীয় স্বজনের নিকট দাবি করে যে, এখান থেকে কোনো লাশ নিজ এলাকায় নিতে হলে আমাদের রাজশাহীর অ্যাম্বুলেন্স যোগেই নিতে হবে। অন্যথায় স্থানীয় লাশ বহনকারী মাইক্রো সমিতিকে ১০ হাজার টাকা চাঁদা দিতে হবে।
লাশের স্বজনরা বিষয়টি গোয়েন্দা পুলিশকে অবহিত করলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে মোট সাতজনকে আটক করে।
স্বজনদের কাছে মৃত ব্যক্তির শোক ছাপিয়ে ভয়ঙ্কর বিড়ম্বনার মধ্যে পড়তে হয়। লাশ জিম্মি করে স্বজনদের বেশিমূল্য দিয়ে সিন্ডিকেট চক্রের গাড়িতে লাশ বহনে বাধ্য করা এবং নিজ গাড়িতে লাশ পরিবহনের ক্ষেত্রে সিন্ডিকেট চক্রকে দিতে হবে বড় অংকের টাকাÑসীমাহীন ঔদ্ধত্য বিস্মিত না করে পারে না। এই ঘটনাকে অমানবিক বলেই শেষ করা যায় না- অত্যন্ত জঘন্য, পাশবিক ও মানবতার জন্য অপমানস্বরূপ। নিশ্চয় মৃত লাশকে জিম্মি করা, চাঁদাবাজি করা কোনো পেশা হতে পারে না। এটা জঘন্য অপরাধ। এই জঘন্য কাজ চলতে দেয়া যেতে পারে না। অপরাধীদের কঠোর শাস্তি হওয়াই বাঞ্ছনীয়।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ