লাশ নিয়ে আদালত চত্বরে স্বজনদের বিক্ষোভ জেলা প্রশাসককে স্মারকলিপি, সমাবেশ

আপডেট: ডিসেম্বর ১, ২০১৬, ১২:২৬ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক



নগরীর বুলনপুর এলাকায় প্রকাশ্যে দিবালোকে ছুরিকাঘাতে খুন হওয়া যুবক রাসেল আলীর (১৯) লাশ নিয়ে তার স্বজনরা আদালত চত্বরে বিক্ষোভ করেছেন। গতকাল বুধবার দুপুরে এ বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন স্বজনরা। বিক্ষোভকারীরা শাকিলসহ হত্যাকা-ে জড়িত সবার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। এ ঘটনায় জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। শহীদ মিনার চত্বরে অনুষ্ঠিত হয় সমাবেশ। পরে তারা লাশ নগরীর মহিষবাথান কবরস্থানে দাফন করেন। এদিকে রাসেল হত্যার ঘটনায় থানায় একটি মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে নিহতের বড় ভাই জুয়েল রানা (২৫) বাদী হয়ে নগরীর রাজপাড়া থানায় মামলাটি দায়ের করেছেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রাজপাড়া থানার ওসি (তদন্ত) শেখ মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা গতকাল বিকেলে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মামলায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া তিন-চারজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
লাশ নিয়ে বিক্ষোভের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটি ঠিক বিক্ষোভ নয়, নিজেদের আবেগ থেকে স্বজনরা লাশ নিয়ে কবরস্থানে যাওয়ার আগে আদালত চত্বরে গিয়েছিলেন।’
তদন্ত কর্মকর্তা জানান, মামলায় গ্রেফতার শাকিলকে আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে। আদালত তাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন। তবে রিমান্ড আবেদনের শুনানি হয়নি। মামলার অন্য আসামিরা পলাতক আছেন। তাদের গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে।
প্রসঙ্গত, কবুতর নিয়ে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে মঙ্গলবার দুপুরে বুলনপুর ঘোষপাড়া এলাকার হাফিজুল ইসলামের ছেলে রাসেলকে ছুরিকাঘাত করে কয়েকজন দুর্বৃত্ত। রাসেল রাজশাহী বীমা করপোরশনে দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে পিয়ন হিসেবে চাকরি করতেন। অফিস থেকে দুপুরে বাসায় খেতে যাওয়ার পথে বুলনপুর এলাকায় তার ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।
হামলাকারীরা তার বুকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। পরে তাকে হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এদিকে রাসেলকে হাসপাতালে নেয়ার পর সেখানে তার অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে যান হামলাকারীদের একজন শাকিল। এ সময় নিহতের স্বজনরা তাকে ধরে মারপিট শুরু করেন। পরে পুলিশ তাকে আটক করে। শাকিল বুলনপুর এলাকার মাসুদ পারভেজের ছেলে।