লাশ নিয়ে স্বজনের অপেক্ষা !

আপডেট: সেপ্টেম্বর ৯, ২০১৭, ১২:৪০ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


লাশ নিয়ে রামেক হাসপাতালে স্বজনদের জন্য অপেক্ষা করছেন আনসার আলী-সোনার দেশ

তখন বেলা সাড়ে ১১টা। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগ। সবাই যে যার মত নিজেদের রোগিদের নিয়ে ব্যস্ত। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের এক পাশে একটি শপের (পাটি) ওপরে কালো চাদরে ঢাকা লাশ। সেই লাশ নিয়ে স্বজনদের অপেক্ষায় বসে আছেন আনসার আলী (৬০) নামের এক ব্যক্তি।
কাছে গিয়ে জিজ্ঞাসা করতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি এবং বলেন, ‘এটা আমার ভাতিজা (১৬ বছর বয়েসের আবদুর সাত্তার আলী)। সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয় চুয়াডাঙ্গা জেলার দামহুদার কলেজ এলাকায়। এ ঘটনায় নিহত সাত্তারের মামা আসাদুল ইসলাম (৪০) ও আসরুদ্দীন (৬০) আহত হন। পরে তাদের উদ্ধার করে রামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন আবস্থায় কাল (বৃহস্পতিবার) রাতে সাত্তার মারা যায়। তারা সকলে চুয়াডাঙ্গা জেলার উজিরপুর এলাকার বাসিন্দা ও নিহত সাত্তার আলী আশকার আলীর ছেলে। তবে তারা কোথায় গরু কিনতে গিয়েছেল তা তিনি জানেন না। খবর পেয়ে রামেক হাসপাতালে আসেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘রাতে মারা গেছে ভাতিজা। হাসপাতালে আসে কয়েকজন, দুই রোগির কাছে। বাড়ি থেকে আসবে দুই-তিন জন লাশ নিতে। তারা না আসলেও টাকা পাঠানোর কথা। নিহত সাত্তারের ভাই গাড়ি ঠিক করতে গেছে। আসলে তাকে নিয়ে যাব। কতক্ষণ থেকে লাশ নিয়ে বসে আসেন এমন কথার উত্তরে আনসার বলেন, রাতে মারা গেছে। ১০টার দিক থেকে লাশ নিয়ে বসে আছি। লাশের ময়নাতদন্ত করতে দেয় নি। গাড়ি আসলেই লাশ নিয় বাড়ি যাব।
আনসার আলী আরো বলেন, বৃহস্পতিবার তারা তিনজন গরু কিনতে গিয়েছিল। তাদের গরু পছন্দ না হওয়ায় তারা আবার বাড়ি চলে আসছিল ভুটভুটিতে করে। পথে আসার সময় চুয়াডাঙ্গা জেলার দামহুদার কলেজ এলাকায় গাড়ি অন্য একটা গাড়ির সঙ্গে ধাক্কা লেগে উল্টে যায়। এতে তারা তিনজন আহত হয়। পরে তাদের উদ্ধার করে রামেক হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। পরে বেলা সাড়ে ১২টার দিকে সাত্তারের লাশ চুয়াডাঙ্গার উদ্দ্যেশে নিয়ে রওনা হন চাচা আনসার আলী।