লিঙ্গবৈষম্যের বিরুদ্ধে জয়, সেনাবাহিনীতে স্থায়ী কমিশন পেলেন ৩৯ নারী সেনা আধিকারিক

আপডেট: অক্টোবর ২২, ২০২১, ৬:১৫ অপরাহ্ণ


সোনার দেশ ডেস্ক


লিঙ্গবৈষম্যের বিরুদ্ধে দীর্ঘ লড়াই শেষে জয়। সেনাবাহিনীতে স্থায়ী কমিশন পেলেন ৩৯ নারী সেনা অফিসার। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা মেনে আগামী সাতদিনের মধ্যেই তাঁদের স্থায়ী পদে নিয়োগ করতে হবে সেনাবাহিনীকে।
২০২০ সালেই ভারতীয় সেনাবাহিনীতে লিঙ্গবৈষম্য দূর করে যুগান্তকারী রায় দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদলত সাফ জানিয়েছিল, স্থলসেনায় নারীদের স্থায়ী কমিশন দিতে হবে। সেই নির্দেশ মেনেই একটি সার্কুলারও জারি করে কেন্দ্র সরকার। এবার সেইমতো ৩৯ নারী সেনা আধিকারিককে স্থায়ী কমিশন দেওয়া হল। বলে রাখা ভাল, ‘পারমানেন্ট কমিশন’ বা স্থায়ী নিয়োগের অর্থ হচ্ছে, এবার থেকে সেনাবাহিনীতে অবসরের গ্রহণের জন্য নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত কাজ করতে পারবেন নারী অফিসাররা। সুপ্রিম কোর্টের রায়ের আগে পর্যন্ত সেনাবাহিনীতে নারীদের স্থায়ী কমিশন দেওয়া হত না।

এর আগে আর্মি এডুকেশনাল কোর, এডভোকেট জেনারেল ও সেনা আদালতের বিচারপতি পদে স্থায়ী পদে নিয়োগ দেওয়া হত। এবার সেনার ১০টি শাখায় নারী অফিসারদের স্থায়ী কমিশন দেওয়া হবে। উল্লেখ্য, নারীদের ‘পারমানেন্ট কমিশন’ দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে ২০১০ সালে রায় দিয়েছিল দিল্লি হাই কোর্ট। তারপরই সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করে কেন্দ্র সরকার। কেন্দ্রের যুক্তি ছিল, ‘নারীদের শারীরিক গঠনে’ সীমাবদ্ধতা ও লড়াইয়ে অত্যন্ত কঠিন পরিবেশের দরুণ সেনায় স্থায়ী পদে নিয়োগ দেওয়া সম্ভব নয়। এছাড়াও কেন্দ্র আরও দাবি করেছিল, নারী অফিসারদের কমান্ড পোস্ট বা সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে নিয়োগ করলে তাঁদের নিরাপত্তার বিশেষ ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি, সীমান্তে মোতায়েন পুরুষ জওয়ানরা নারী অফিসারদের আদেশ মানতে মানসিকভাবে প্রস্তুত নয়।

উল্লেখ্য, স্থলসেনার পাশাপাশি গতবছর সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছিল যে নৌসেনায় নারী অফিসারদের ‘পারমানেন্ট কমিশন’ না দেওয়া অন্যায়। পুরুষদের মতোই নারী ক্যাডেটরাও একইভাবে নিজেদের দায়িত্ব পালনে সক্ষম। এই নির্দেশিকা কার্যকর করার জন্য কেন্দ্রকে তিনমাসের সময়সীমা বেঁধে দেয় শীর্ষ আদালত। উল্লেখ্য, ‘পার্মানেন্ট কমিশন’ বা স্থায়ী পদের মানে হল অবসর নেওয়ার নির্দিষ্ট বয়স পর্যন্ত পুরুষ সহকর্মীদের মতোই পদে বহাল থাকবেন নারীরাও। বর্তমানে নৌসেনায়, ঝঝঈ বা ‘শর্ট সার্ভিস কমিশন’-এর আওতায় সব মিলিয়ে ১৪ বছর পর্যন্ত কাজ করতে পারেন নারী আধিকারিকরা।
তথ্যসূত্র: সংবাদ প্রতিদিন

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ