লিজ নেই : দলীয় প্রভাবে পদ্মায় বালু বিক্রি করেন পাকশীর চেয়ারম্যান ||ঈশ্বরদীর পদ্মা নদীতে পাহাড়সম অবৈধ বালুর স্তুুপ নিলামে

আপডেট: জানুয়ারি ৩১, ২০২০, ১২:৪০ পূর্বাহ্ণ

সেলিম সরদার, ঈশ্বরদী


ঈশ্বরদীর পদ্মা নদীতে পাহাড়সম অবৈধ বালুর স্তুুপ-সোনার দেশ

ঈশ্বরদীর পদ্মা নদীর একাধিক স্থানে বিশেষ করে পাকশী হার্ডিঞ্জ ব্রিজের কাছে রিতিমত নদীতে বাঁধ দিয়ে দলীয় প্রভাবে অবৈধভাবে বালু বিক্রির জন্য পাহাড় সম স্তুপ করে বিক্রি করছেন পাকশীর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা এনাম বিশ্বাস।
গত কয়েক বছর এভাবে নদীর বালু নদীতেই স্তুপ করে বিক্রি করা হলেও হঠাৎ করে এসব বালু জব্দ করেছে প্রশাসন। ঈশ্বরদীর পদ্মা নদীর পাকশী, সাঁড়া ও লক্ষীকুন্ডায় অভিযান চালিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এসব বালু ৪৯ লাখ ৭৬ হাজার টাকায় প্রকাশ্যে নিলামে বিক্রিও করা হয়েছে। তবে স্থানীয় লোকজন বলছেন ‘যার বালু তার কাছেই বিক্রি’ করে তাদের অবৈধ ব্যবসাকে এক ধরনের বৈধতা দিয়েছে প্রশাসন।
ঈশ্বরদী উপজেলা প্রশাসন ও পাবনা জেলা প্রশাসন যৌথভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে গত মঙ্গলবার বিকেল থেকে সন্ধ্যা অবধি পদ্মা নদীতে অভিযান চালিয়ে এসব বালু নিলামে তোলেন। এসময় পাবনার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জাহিদ নেওয়াজ, ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার শিহাব রায়হান, জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অনুজা মন্ডল, রিফা আসমা, নাজমুস সাদাত ও সাইদুল ইসলামসহ অন্যান্য কর্মকর্তা ও বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয়রা জানান, কোন লীজ নেই, দলীয় প্রভাবে জবর দখল করেই বালুর ব্যবসা পরিচালনা করছেন পাকশী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এনামুল হক এনাম বিশ্বাস ও তার লোকজন। ঐতিহ্যবাহী ও দেশের গুরুত্বপূর্ণ রেলসেতু হার্ডিঞ্জ ব্রিজ এবং লালন শাহ সেতুর খুব কাছে থেকে বালু উত্তোলন এই ব্রিজ দুটির জন্য হুমকি ও প্রচন্ড ঝুঁকিপূর্ণ হওয়া স্বত্বেও বালু উত্তোলন থেমে নেই। বালুর স্তুপ বড় হতে হতে এখন এমন পর্যায়ে গেছে যে বালুর বিশাল বিশাল স্তুপের আড়ালে ঢাকা পড়েছে হার্ডিঞ্জ ব্রিজ ও লালন শাহ সেতু। তবে বালুমহালের নেতৃত্বদানকারী প্রধান ও একমাত্র ব্যক্তি হিসেবে পাকশী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও পাকশী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এনামুল হক বিশ্বাস বলেন হার্ডিঞ্জ ব্রিজের কাছে বালু স্তুপ করা হলেও এখান থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছেনা, এ বালু কুষ্টিয়া, আলাইপুর, পাবনাসহ বিভিন্ন ঘাট থেকে নৌকাযোগে এনে নৌকার সঙ্গে ড্রেজিং মেশিন লাগিয়ে বালুর মজুদ করার পর এখান থেকে বিক্রি করা হচ্ছে বালু।
ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার শিহাব রায়হান বলেন, এসব অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত হয়ে পাকশী হার্ডিঞ্জ ব্রিজের নিকটস্থ বালুমহালসহ সাঁড়া ও লক্ষীকুন্ডার অবৈধ বালু মহালের সব বালু জব্দ করে প্রকাশ্যে নিলামে বিক্রি করে টাকা সরকারি কোষাগারে জমা করা হয়েছে। ১ মাসের মধ্যে এসব বালু মহালের বালু সরিয়ে নিতে সংশ্লি¬ষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে বালুমহাল ইজারা ব্যাতিরেকে কাউকে পদ্মা নদীর এসব স্থানে বালু মজুদ করে বিক্রি করতে দেওয়া হবেনা বলে জানান তিনি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ