লিটনকে ‘গুরুত্বপূর্ণ পদে’ দেখতে চান নেতাকর্মীরা

আপডেট: অক্টোবর ৪, ২০১৬, ৪:৪৯ অপরাহ্ণ

রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। ছবিটি ২০১৩ সালে তুলেছিলেন সোনার দেশের ফটোসাংবাদিক শরিফুল ইসলাম তোতা।
নিজস্ব প্রতিবেদক
আগামী ২২ থেকে ২৩ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় কাউন্সিল। এই কাউন্সিল পরবর্তী কমিটিতে দলের জন্য নিবেদিত ও অভিজ্ঞ নেতৃত্বকে কেন্দ্রীয় কমিটির ‘গুরুত্বপূর্ণ’ পদে দেখতে চান রাজশাহীর সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা। রাজশাহীর সমর্থক এবং শুভানুধ্যায়ীরাও চান যে, রাজশাহীর ত্যাগী নেতারা কেন্দ্রীয় কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদে স্থান পাক। এক্ষেত্রে সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা চান শহীদ এইচএম কামারুজ্জামানের পুত্র, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন কেন্দ্রীয় কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদে স্থান পাক।
আওয়ামী লীগের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী এবং সমর্থক ও শুভানুধ্যায়ীরা জানান, বাংলাদেশের রাজনীতিতে রাজশাহীর আওয়ামী লীগের প্রভাব প্রত্যক্ষভাবে উল্লেখযোগ্য। দেশের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান এবং সরকারের নির্দেশনা মেনে দল এবং দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে কাজ করছে আওয়ামী লীগ। মুক্তিযুক্ত পূর্ববর্তী সময় থেকে দেশের গণতন্ত্র সমুন্নত রাখতে ধারাবাহিকভাবে কাজ করছেন আওয়ামী লীগ। শুধু রাজশাহী অঞ্চলের রাজনীতিতেই নয়, দেশ ও দেশের বাইরে গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা রাখতে বিশেষ ভূমিকা রেখেছেন জাতীয় চার নেতার অন্যতম শহিদ এএইচএম কামারুজ্জামান। তাঁর পুত্র হিসেবে এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন রাজনীতির অঙ্গনে এক বিশেষ ব্যক্তিত্ব হিসেবে ইতোমধ্যেই পরিগণিত হয়েছেন। তিনি রাজশাহী সিটির মেয়র থাকাকালীন রাজশাহীর প্রভূত উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। বর্তমানে তার দল আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে। কিন্তু তিনি সরকারের কোনো পদে না থেকেও দলের জন্য নিরলস কাজ করে চলেছেন।
নেতাকর্মীরা জানান, রাজশাহীর অঞ্চলের নেতারা নিবেদিত প্রাণ কর্মী হয়েও কেন্দ্রীয় কমিটিতে উপেক্ষিত। এইজন্য এই কাউন্সিলে তারা দলের অভিজ্ঞ নেতাদের কেন্দ্রীয় কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদে দেখতে চান। যাতে করে রাজশাহী অঞ্চলের আওয়ামী লীগ আগামীতেও দল ও দেশের জন্য নিবেদিত হয়ে কাজ করতে পারে।
নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার বলেন, শহীদ কামারুজ্জামানের পুত্র হিসেবে কেন্দ্রীয় কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদে এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনকে মনোনীত করা উচিত। এটা নগর আওয়ামী লীগের প্রত্যেক নেতাকর্মীদের চাওয়া। এই বিষয়ে কোনো নেতাকর্মীর দ্বিমত নেই।
রাজশাহী লেখক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও প্রবন্ধকার ড. তসিকুল ইসলাম রাজা দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের রাজনীতির গতিপ্রকৃতি পর্যবেক্ষণ করছেন। তার মতে, বাংলাদেশের রাজনীতিতে জাতীয় চার নেতার অবদান অনস্বীকার্য। জাতীয় অন্য তিন নেতার সন্তানরা মন্ত্রী থেকে শুরু করে দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন। কিন্তু একমাত্র শহীদ কামারুজ্জামানের পুত্রই আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে অবহেলিত হিসেবে রয়েছেন বলেই আমাদের বিশ্বাস। সামনের কমিটিতে খায়রুজ্জামান লিটনকে দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে মনোনীত করে তাঁর সাংগঠনিক প্রতিভাকে বিকশিত করার সুযোগ করে দেয়া উচিত।
কয়েকজন তৃণমূল নেতাকর্মী জানান, খায়রুজ্জামান লিটন রাজশাহীর রাজনীতিকে একটা উচ্চতর পর্যায়ে নিয়ে গেছেন। তার নেতৃত্বের কারণেই রাজশাহীর রাজনীতি স্বচ্ছ ও উদারপ্রবণ। তিনি রাজনীতির ক্ষেত্রে একজন ত্যাগী মানুষ। দল ক্ষমতায় থাকা সত্ত্বেও তিনি সরকারি কোনো ক্ষেত্রে নাক গলান না। শুধু দলের হয়ে দলের কর্মসূচি বাস্তবায়ন ও রাজশাহীর উন্নয়নে সহযোগিতা করে চলেছেন। তৃণমূল পর্যায়ও তার নেতৃত্বের কারণেই গতিশীল। এ অঞ্চলের জঙ্গিবাদ নির্মূলে সর্বস্তরের মানুষকে নিয়ে তিনি নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, জাতীয় কাউন্সিল আমাদের কাছে উৎসবের মতো। এই কাউন্সিল ঘিরে আমাদের প্রত্যাশা অনেক। আমরা চাই, কেন্দ্রীয় কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদে রাজশাহীর অভিজ্ঞ ও ত্যাগী নেতাদের অন্তুর্ভুক্ত করা হোক।