লিটনেই আস্থা কর্মী ও ভোটারদের ।। রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচন

আপডেট: জুলাই ২৩, ২০১৭, ১২:৫৯ পূর্বাহ্ণ

তানজিমুল হক


সাবেক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন-সোনার দেশ

এগিয়ে আসছে রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক) নির্বাচন। এরই মধ্যে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করেছে। নির্বাচনে লড়তে দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা সাবেক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনকে প্রস্তুতি নিতে বলেছেন। আর এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। উজ্জীবিত লিটনের সমর্থক এবং সাধারণ ভোটাররাও।
তারা বলছেন, সিটি নির্বাচনে লিটন ছাড়া আর কোনো প্রার্থীর ব্যাপারে ভাবছেন না। দলীয় প্রধানের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। দলের পক্ষ থেকে মেয়র প্রার্থীর নাম ঘোষণার আগেও লিটনের বিকল্প হিসেবে কাউকে ভাবেন নি নেতাকর্মীরা। কারণ লিটনের ইমেজ, ব্যক্তিত্ব, কর্মদক্ষতা, বিগত দিনের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড আর কর্মীবান্ধব দৃষ্টিভঙ্গির কারণেই তিনি মেয়রপ্রার্থী হিসেবে দলীয় হাইকমান্ডের কাছ থেকে নিরঙ্কুশ সমর্থন লাভ করেছেন।
রাসিকের বর্তমান পরিষদের আগের পরিষদে মেয়র ছিলেন দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও রাজশাহী মহানগরের সভাপতি এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। গত সিটি নির্বাচনেও দলের সমর্থন পেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ওই নির্বাচন পরাজিত হন লিটন। সেই সময় জামায়াত-বিএনপির হেফাজত ইস্যুসহ বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচারের কারণেই বিএনপি প্রার্থী মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের কাছে পরাজিত হন। কিন্তু এরপরেও লিটনের ওপর আস্থা কমে নি হাইকমান্ডের।
রাসিকে কর্মরত এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, খায়রুজ্জামান লিটন রাজশাহী সিটি করপোরেশনকে প্রকৃত অর্থে নাগরিকদের প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে পেরেছিলেন। এটি তাঁর সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব ছিল। তিনি তাঁর প্রশাসনিক দক্ষতায় রাসিক এর কর্মকর্তা কর্মচারীদের মধ্যে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছিলেন। রাসিক ভবনকে দলীয় প্রভাবমুক্ত রাখাও তাঁর এক অন্যন্য দক্ষতার দৃষ্টান্ত ছিল। মেয়র প্রার্থী হিসেবে তাঁর মধ্যে যোগ্যতার সব উপাদানগুলিই বিদ্যমান।
এবার প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিতব্য রাসিকের আগামী নির্বাচনে তাকেই প্রার্থী ঘোষণা করেছেন দলের প্রধান শেখ হাসিনা। ফলে নৌকা প্রতীক পাওয়ার নিশ্চয়তা নিয়েই এরই মধ্যে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন তিনি। ২০১৩ সালের নির্বাচনে পরাজয়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে এখন থেকেই তিনি শুরু করেছেন গণসংযোগ এবং প্রচার-প্রচারণা। প্রায় প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে নিজের সময়কালের অর্জন আর বর্তমানে স্থবির উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সম্পর্কে ভোটারদের অবহিত করছেন লিটন। একই সাথে নির্বাচিত হলে তাঁর পরিকল্পনার কথাও বলছেন।
আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাদের দাবি, তারা আবারো এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনকে রাজশাহীর মেয়র হিসেবে দেখতে চান। এর কারণ হিসেবে তারা বলছেন, এর আগে বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান মিনু টানা ১৭ বছর রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র ছিলেন। এরপর ২০০৮ সালের নির্বাচনে মেয়র নির্বাচিত হন লিটন। মাত্র এক মেয়াদে লিটন মেয়র নির্বাচিত হবার পর রাজশাহীর যে উন্নয়ন করেছেন, তা আর অন্য কারো পক্ষে করা সম্ভব হয় নি। কারণ, রাজশাহীর উন্নয়নের জন্য যে অর্থ বরাদ্দের প্রয়োজন, তা সরকারের কাছ থেকে লিটনের পক্ষে আদায় করা সম্ভব। আর এজন্যই দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ ভোটার ও সমর্থকরা লিটনকে আবারো মেয়র পদে দেখতে চান।
দলের একটি সূত্রের দাবি, ২০১৩ সালের নির্বাচনের সময় শাপলা চত্বর নিয়ে হেফাজতে ইসলামীর অপপ্রচার আর জামায়াতে ইসলামীর অর্থায়নে বিএনপি প্রার্থীর ভোট কেনাবেচার কারণে লিটন পরাজিত হয়েছিলেন। তবে এখন মানুষ তাদের ভুল বুঝতে পেরেছেন। নগরবাসী এও বুঝেছেন, লিটন মেয়র থাকাকালে নগরীর যে উন্নয়ন হয়েছে, তা আর কখনোই হয়নি। তাই নগরভবনে প্রয়োজন তাকেই।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালের সিটি নির্বাচনের আগে চার বছর আট মাস মেয়র ছিলেন জাতীয় চার নেতার অন্যতম এএইচএম কামারুজ্জামানের ছেলে লিটন। দায়িত্ব পালনকালে নগরীর উন্নয়নে প্রায় সাড়ে ৮০০ কোটি টাকার কাজ করেছেন তিনি। অথচ তিনি পরাজিত হওয়ার পর ভাটা পড়ে সেসব উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে। এ কারণে নগরবাসী লিটনকেই অনুভব করেন।
এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের প্রার্থিতার ব্যাপারে বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষ ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করেছেন। এ ব্যাপারে রাজশাহী ব্যবসায়ী সমন্বয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সেকেন্দার আলী বলেন, রাজশাহী উন্নয়নের ক্ষেত্রে পিছিয়ে আছে। এর আগে এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন মেয়র নির্বাচিত হয়ে রাজশাহীর উন্নয়নে গতির সঞ্চার হয়েছিল। গত নির্বাচনে লিটনকে ভোট না দিয়ে রাজশাহীবাসী ভুল করেছে। তার অসমাপ্ত কাজগুলো সম্পন্ন করা সম্ভব হই নি। একারণে রাজশাহীবাসী আর ভুল করবেন না বলে আমি বিশ্বাস করি। আবারো ভোট দিয়ে স্থবির রাজশাহীর উন্নয়নে গতি আনতে ভোটাররা লিটনকেই বেছে নেবেন।
এ ব্যাপারে মহানগর জাসদের সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মাসুদ শিবলী বলেন, লিটন ভাই রাজশাহীর অভিভাবক। রাজশাহীর উন্নয়নের তার পিতা শহিদ এএইচএম কামারুজ্জামান ও তার পরিবারের সদস্যদের ভূমিকা অতুলনীয়। সাবেক মেয়র হিসেবে লিটনও এ ধারবাহিকতা বজায় রেখেছেন। কিন্তু বিগত নির্বাচনে তার পরাজয়, রাজশাহীর উন্নয়নকে পিছিয়ে দিয়েছে। আমরা শুধু জোটের শরিক হিসেবে নই, রাজশাহীর ভোটার হিসেবেও লিটন ভাইয়ের পাশে সার্বক্ষণিক থাকতে চাই। লিটন ভাইকে বিজয়ী দেখতে চাই। কারণ, আধুনিক রাজশাহীর উন্নয়নের রূপকার লিটন।
প্রসঙ্গত, গত ৮ জুলাই দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় দলের প্রধান শেখ হাসিনা এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনকে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য প্রস্তুতি নিতে বলেন। এরপর এ ব্যাপারে রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের কাছেও কেন্দ্রের নির্দেশনা আসে। এরপরেই বিভিন্ন এলাকায় চলছে উঠান বৈঠকসহ নানা ধরনের নির্বাচনমুখি কর্মকাণ্ড।
এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবদুল খালেক বলেন, এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনকে মেয়রপ্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা দলীয়ভাবে সঠিক সিদ্ধান্ত। আমি মনে করি এটি বাস্তবসম্মত। বিগত সময়ে লিটন মেয়র হিসেবে রাজশাহীর উন্নয়নে অনেক কাজ করেছেন। এটি প্রশংসনীয়। আর একারণে রাজশাহীর সাধারণ ভোটাররা তার কাজের মূল্যায়ন করবেন। লিটনকে বিজয়ী করবেন। এছাড়া তিনি ভালো বক্তা, দলের জন্য ত্যাগী নেতা এবং কর্মীবান্ধব। এসব কারণেই দলীয় নেতাকর্মী, সমর্থক এবং সাধারণ ভোটারদের সমর্থন নিয়ে লিটন আবারো রাজশাহীর অভিভাবক হিসেবে মেয়র পদে নির্বাচিত হবেন।